১৭/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬১২-[৩] - স্বীকারোক্তি যাচাই ও তাওবার শিক্ষা
দণ্ডবিধির ব্যাপারে সুপারিশ - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
চুরির স্বীকারোক্তি যাচাই ও তাওবা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৬১২-[৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৬১২-[৩]
وَعَنْ أَبِي أُمَيَّةَ الْمَخْزُومِيِّ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَى بِلِصٍّ قَدِ اعْتَرَفَ اعْتِرَافًا وَلَمْ يُوجَدْ مَعَهُ مَتَاعٌ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا أَخَالُكَ سَرَقْتَ». قَالَ: بَلَى فَأَعَادَ عَلَيْهِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا كُلَّ ذَلِكَ يَعْتَرِفُ فَأَمَرَ بِهِ فَقُطِعَ وَجِيءَ بِهِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اسْتَغْفِرِ اللَّهَ وَتُبْ إِلَيْهِ» فَقَالَ: أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اللَّهُمَّ تُبْ عليهِ» ثَلَاثًا.رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِيُّ هَكَذَا وجدتُ فِي الْأُصُول الْأَرْبَعَة وجامع الْأُصُول وَشُعَبُ الْإِيمَانِ وَمَعَالِمُ السُّنَنِ عَنْ أَبِي أُمَيَّةَ
আবূ 'উমাইয়্যাহ্ আল মাখযূমী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি। তিনি (ﷺ) বলেছেন : যে ব্যক্তির সুপারিশ আল্লাহ তা'আলার দণ্ডবিধিতে প্রতিবন্ধক হয়, সে যেন আল্লাহ তা'আলার সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলো। আর যে ব্যক্তি স্বজ্ঞানে কোনো অন্যায় বা অপকর্মের পক্ষে বিবাদে লিপ্ত হলো, সে তা বর্জন না করা পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলার ক্রোধ ও অসন্তুষ্টির মধ্যে পড়ে রইল। আর যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের ব্যাপারে এমন মিথ্যারোপ রটাল, অথচ তার মধ্যে দোষ-ত্রুটি নেই। তাই যতক্ষণ পর্যন্ত সে যা রটিয়েছিল তার থেকে (তাওবাহ্ করে) মুক্ত ও পবিত্র না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলা তাকে জাহান্নামীদের দূষিত রক্ত ও পুঁজের মধ্যে অবস্থান করাবেন।
[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৪৩৮০, নাসায়ী ৪৮৭৭, ইবনু মাজাহ ২৫৯৭, আহমাদ ২২৫০৮, দারিমী ২৩৪৯। কারণ এর সনদে আবুল মুনযির একজন অপরিচিত রাবী।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬১২-[৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় এক ব্যক্তিকে নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে আনা হয়। সে চুরির স্বীকারোক্তি দিয়েছে, কিন্তু তার কাছে চুরি করা মাল পাওয়া যায়নি। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাকে বলেন, আমার মনে হয় তুমি চুরি করোনি। সে বলে, হ্যাঁ, করেছি। তিনি কথাটি দুই বা তিনবার পুনরাবৃত্তি করেন, আর সে প্রতিবারই স্বীকার করে। এরপর তার দণ্ড কার্যকর হয়। দণ্ডের পর তাকে বলা হয়, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও এবং তাঁর কাছে তাওবা কর। সে ইস্তিগফার ও তাওবা করে। তখন নবী صلى الله عليه وسلم তিনবার তার জন্য দোয়া করেন, হে আল্লাহ, তার তাওবা কবুল করুন। এখানে স্বীকারোক্তি যাচাই, দণ্ডের পর তাওবা এবং অপরাধীর জন্য দোয়া—এই তিনটি কোমল শিক্ষা এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্বীকারোক্তি পেলেই তাড়াহুড়া নয়; নবী صلى الله عليه وسلم তা যাচাই করেছেন।
- দণ্ডের পরও তাওবা ও ইস্তিগফারের দরজা দেখানো হয়েছে।
- অপরাধীকে আল্লাহর দিকে ফেরার কথা বলা হয়েছে।
- নবী صلى الله عليه وسلم তার জন্য তাওবার দোয়া করেছেন—এতে করুণার দিকও দেখা যায়।
