১৭/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬০৯-[২০] - মহামারিতে ধৈর্য ও কবরের সম্মান
চোরের হাত কাটা প্রসঙ্গ - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মহামারিতে ধৈর্য ও কাফন চোরের সতর্কতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৬০৯-[২০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৬০৯-[২০]
وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا أَبَا ذَرٍّ» قُلْتُ: لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَسَعْدَيْكَ قَالَ: «كَيْفَ أَنْتَ إِذَا أَصَابَ النَّاسَ مَوْتٌ يَكُونُ الْبَيْتُ فِيهِ بِالْوَصِيفِ» يَعْنِي الْقَبْرَ قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: «عَلَيْكَ بِالصَّبْرِ» قَالَ حمَّادُ بنُ أبي سُليمانَ: تُقْطَعُ يَدُ النَّبَّاشِ لِأَنَّهُ دَخَلَ عَلَى الْمَيْتِ بيتَه. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
(একদিন) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন হে আবূ যার! আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার খিদমাতে উপস্থিত। তিনি (ﷺ) বললেন : ঐ সময় তুমি কি করবে, যখন আকস্মিক মহামারিতে ব্যাপকভাবে মানুষ মারা যাবে। এমনকি একটি ঘরের তথা কবরের মূল্য একটি গোলামের মূল্যের সমপরিমাণ হবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (ﷺ) অধিক অবগত। তিনি (ﷺ) বললেন : এমতাবস্থায় তুমি ধৈর্যধারণ করবে। হাম্মাদ ইবনু আবূ সুলায়মান (রহঃ) বলেন : কাফন চোরের হাত কাটা যাবে। কারণ সে মৃত ব্যক্তির ঘরে (চুরির উদ্দেশে) প্রবেশ করেছে।
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৪২৬১, ইরওয়া ২৪৫১।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬০৯-[২০]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ যার (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم একটি কঠিন সময়ের কথা জিজ্ঞেস করেন—যখন হঠাৎ মহামারিতে মানুষ ব্যাপকভাবে মারা যাবে, এমনকি কবরের মূল্য একটি গোলামের মূল্যের মতো হবে। আবূ যার (রাঃ) বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল বেশি জানেন। তখন নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, তুমি ধৈর্য ধারণ করবে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, বড় বিপদ, মৃত্যু ও অস্থিরতার সময় মুমিনের পথ হলো ধৈর্য। একই বর্ণনার শেষে হাম্মাদ ইবনু আবূ সুলায়মান (রহঃ)-এর বক্তব্য এসেছে যে কাফন চোরের হাত কাটা যাবে, কারণ সে মৃত ব্যক্তির ঘরে প্রবেশ করেছে। তাই এই বর্ণনায় দুটি আলাদা দিক আছে: মহামারিতে ধৈর্য এবং মৃতের সম্মান রক্ষার সতর্কতা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ব্যাপক মৃত্যু ও বিপদের সময় ধৈর্য ধরার নির্দেশ এসেছে।
- কঠিন অবস্থায় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জ্ঞানের প্রতি নিজেকে সমর্পণ করা সুন্দর আদব।
- মৃত ব্যক্তির সম্মান ও কবরের নিরাপত্তার বিষয় বর্ণনায় এসেছে।
- একই বর্ণনায় নবী صلى الله عليه وسلم-এর কথা ও একজন আলিমের মন্তব্য আলাদা করে বুঝতে হবে।
