২০/৩৭. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৬১২ - বংশপরিচয় রক্ষা ও অপবাদ থেকে সতর্কতা
কেউ কাউকে নিজের গোত্র থেকে খারিজ করলে
বংশপরিচয় রক্ষা: মাতা-পিতা সম্পর্কে সত্য বলার হাদিস
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৬১২
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৬১২
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، ح وَحَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ حَيَّانَ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ الْمُغِيرَةِ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَقِيلِ بْنِ طَلْحَةَ السُّلَمِيِّ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ هَيْصَمٍ، عَنِ الأَشْعَثِ بْنِ قَيْسٍ،قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فِي وَفْدِ كِنْدَةَ وَلاَ يَرَوْنِي أَفْضَلَهُمْ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَسْتُمْ مِنَّا . فَقَالَ «نَحْنُ بَنُو النَّضْرِ بْنِ كِنَانَةَ لاَ نَقْفُو أُمَّنَا وَلاَ نَنْتَفِي مِنْ أَبِينَا» . قَالَ فَكَانَ الأَشْعَثُ بْنُ قَيْسٍ يَقُولُ لاَ أُوتَى بِرَجُلٍ نَفَى رَجُلاً مِنْ قُرَيْشٍ مِنَ النَّضْرِ بْنِ كِنَانَةَ إِلاَّ جَلَدْتُهُ الْحَدَّ .
আশআস বিন কায়স (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি কিনদাহ গোত্রের প্রতিনিধি দলের সাথে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট আসলাম। তারা (কিনদা গোত্র) আমাকে তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মনে করতো। আমি বললাম ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনারা কি আমাদের অন্তর্ভূক্ত নন? তিনি বলেন আমরা বানূ নাযর বিন কিনানার বংশধর। আমরা আমাদের মাতার প্রতি অপবাদ আরোপ করি না এবং আমাদের পিতৃপুরুষ থেকেও পৃথক হই না। রাবী বলেন, (এরপর থেকে) আশআছ বিন কায়স (রাঃ) বলতেন, যে ব্যক্তি কুরায়শ গোত্রের কোন লোককে নাযর বিন কিনানা গোত্রভুক্ত নয় বলে দাবি করবে, আমি অবশ্যই তাকে কাযাফ-এর শাস্তি দিবো।
[২৬১২] আহমাদ ২১৩৩৩, ২১৩৩৮, ইরওয়া ২৩৬৮, সহীহাহ ২৩৭৫। তাহকীক আলবানীঃ হাসান।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৬১২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আশআছ বিন কায়স (রাঃ) বলেন, তিনি কিনদা গোত্রের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে আসেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন, আপনারা কি আমাদের অন্তর্ভুক্ত নন? উত্তরে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) বলেন, “আমরা বানূ নযর বিন কিনানার বংশধর। আমরা আমাদের মায়ের প্রতি অপবাদ আরোপ করি না এবং আমাদের পিতৃপুরুষ থেকেও পৃথক হই না।” হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো বংশপরিচয় সত্যভাবে বলা। এখানে মাতার প্রতি অপবাদ এবং পিতৃসূত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয় কঠোরভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। পরে আশআছ (রাঃ) কুরায়শকে নযর বিন কিনানার বাইরে দাবি করলে শাস্তির কথা বলেছেন। হাদিসটি পরিচয়, পরিবার ও সত্যতার গুরুত্ব তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বংশপরিচয় সত্যভাবে বলা জরুরি।
- মায়ের প্রতি অপবাদ দেওয়া গুরুতর বিষয়।
- পিতৃপুরুষ থেকে মিথ্যাভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়া ঠিক নয়।
- পরিবার ও গোত্রের পরিচয়ে মিথ্যা দাবি করা উচিত নয়।
