২১/৪. অধ্যায়ঃ

সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৬২৫ - দিয়াত গ্রহণে সমঝোতার শিক্ষা

যাকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা হয়েছে তার ওয়ারিসগন দিয়াত গ্রহণে সম্মত হলে

কিসাস দাবির পর দিয়াত: সমঝোতার সুন্দর দৃষ্টান্ত

সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৬২৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ضُمَيْرَةَ، حَدَّثَنِي أَبِي وَعَمِّي، وَكَانَا، شَهِدَا حُنَيْنًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالاَ صَلَّى النَّبِيُّ ﷺ الظُّهْرَ ثُمَّ جَلَسَ تَحْتَ شَجَرَةٍ فَقَامَ إِلَيْهِ الأَقْرَعُ بْنُ حَابِسٍ - وَهُوَ سَيِّدُ خِنْدِفَ يَرُدُّ - عَنْ دَمِ مُحَلِّمِ بْنِ جَثَّامَةَ وَقَامَ عُيَيْنَةُ بْنُ حِصْنٍ يَطْلُبُ بِدَمِ عَامِرِ بْنِ الأَضْبَطِ وَكَانَ أَشْجَعِيًّا فَقَالَ لَهُمُ النَّبِيُّ ﷺ " تَقْبَلُونَ الدِّيَةَ ". فَأَبَوْا فَقَامَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي لَيْثٍ يُقَالُ لَهُ مُكَيْتِلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَاللَّهِ مَا شَبَّهْتُ هَذَا الْقَتِيلَ فِي غُرَّةِ الإِسْلاَمِ إِلاَّ كَغَنَمٍ وَرَدَتْ فَرُمِيَتْ فَنَفَرَ آخِرُهَا. فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " لَكُمْ خَمْسُونَ فِي سَفَرِنَا وَخَمْسُونَ إِذَا رَجَعْنَا ". فَقَبِلُوا الدِّيَةَ .

যায়দ বিন দুমায়রাহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমার পিতা ও আমার চাচা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন এবং তারা উভয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে হুনায়নের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তারা উভয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুহরের নামাজ পড়ার পর একটি গাছের নিচে বসলেন। তখন আকরা‘ বিন হাবিস তাঁর সামনে দাঁড়ালেন। তিনি ছিলেন খিনদিফ গোত্রের নেতা। তিনি (নিহত) মুহাল্লিম বিন জাসসামার কিসাসের দাবি উত্থাপন করলেন। অপরদিকে উয়াইনা বিন হিসনও দাঁড়িয়ে আমের বিন আদবাত আল-আশজাঈর কিসাসের দাবি উত্থাপন করেন। নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমরা দিয়াত গ্রহণ করো। তারা তা অস্বীকার করলো।তখন লাইছ গোত্রের মুকাইতিল নামক এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আল্লাহর শপথ, ইসলামের বিজয় যুগে এ হত্যার দৃষ্টান্ত হলো সেই মেষ পালের মতো যা পানি পান করতে আসলে তার প্রতি তীর নিক্ষিপ্ত হলো এবং ভয়ে শেষের মেষটি পর্যন্ত পলায়ন করলো। নবী (ﷺ) বলেনঃ আমাদের সফরে থাকা অবস্থায় (এখানে) তোমরা পঞ্চাশটি উট পাবে এবং (মদীনায়) প্রত্যাবর্তনের পর পঞ্চাশটি উট পাবে। অতএব তারা দিয়াত গ্রহণ করলো।

আবূ দাউদ ৪৫০৩, আহমাদ ২০৫৭, ২৩৩৬২। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদিসের রাবী আবু খালিদ আল আহমার সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু তার হাদিস দলীলযোগ্য নয়। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি সিকাহ। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। ইবনু আদী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সালেহ কিন্তু হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ ও ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২৫০৪, ১১/৩৯৪ নং পৃষ্ঠা)২. মুহাম্মাদ বিন ইসহাক সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাসানুল হাদিস। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি সালিহ। সুলায়মান বিন তারখান ও সুলায়মান বিন মিহরান বলেন, তিনি মিথ্যুক। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫০৫৭, ২৪/৪০৫ নং পৃষ্ঠা)

সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৬২৫-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে হুনায়নের যুদ্ধের পর একটি হত্যার ঘটনায় কিসাস দাবি উত্থাপনের কথা এসেছে। আকরা বিন হাবিস ও উয়াইনা বিন হিজন সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি তুলে ধরেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাদের দিয়াত গ্রহণের কথা বলেন, কিন্তু তারা শুরুতে তা মানেনি। পরে কথোপকথনের পর নবী (صلى الله عليه وسلم) সফরে থাকা অবস্থায় পঞ্চাশটি উট এবং মদীনায় ফেরার পর পঞ্চাশটি উট দেওয়ার কথা বলেন। এরপর তারা দিয়াত গ্রহণ করে। হাদিসটি দেখায়, কিসাসের দাবি থাকা সত্ত্বেও দিয়াত ও সমঝোতার পথ নেওয়া যায়। এখানে মূল শিক্ষা হলো, রক্তপাতের ঘটনায় শান্তভাবে সমাধান খোঁজা, পক্ষগুলোর অধিকার বিবেচনা করা এবং গ্রহণযোগ্য ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কিসাস দাবির ক্ষেত্রেও দিয়াতের মাধ্যমে সমঝোতার সুযোগ থাকতে পারে।
  • বিরোধ মেটাতে পক্ষগুলোর সম্মতি গুরুত্ব পায়।
  • নবী (صلى الله عليه وسلم) রক্তপাতের ঘটনায় সমাধানের পথ দেখিয়েছেন।
  • ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে ধৈর্য ও আলোচনা দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন