২২/২. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৭০১ - ওসিয়ত করে মৃত্যুর ফজিলত
ওসিয়াত করতে উৎসাহিত করা
ওসিয়ত করে মারা যাওয়া: সুন্নাত ও তাকওয়ার পথ
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৭০১
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৭০১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «مَنْ مَاتَ عَلَى وَصِيَّةٍ مَاتَ عَلَى سَبِيلٍ وَسُنَّةٍ وَمَاتَ عَلَى تُقًى وَشَهَادَةٍ وَمَاتَ مَغْفُورًا لَهُ».
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ওসিয়ত করে মারা গেলো সে সঠিক পথে ও সুন্নতের উপরই মারা গেলো, তাকওয়া ও শহিদী দরজা পেয়ে মারা গেলো এবং গুনাহ মাফ পেয়ে মারা গেলো।
[২৭০১] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। মিশকাত ৩০৭৬, যইফ আল-জামি ৫৮৪৮। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদীসের রাবী মুহাম্মাদ ইবনুল মুসাফফা আল-হিমসী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী ও ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইবনু হিব্বান তাকে সিকাহ্ বললেও অন্যত্র বলেন, তিনি হাদীস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদীস বর্ণনায় সন্দেহ ও তাদলিস করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৬১৩, ২৬/৪৬৫ নং পৃষ্ঠা)২. ইয়াযীদ বিন আওফ সম্পর্কে ইবনু হাজার আল-আসকালানী ও ইমাম যাহাবি বলেন, তিনি মাজহুল অপরিচিত। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৭০৩৪, ৩২/২২১ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৭০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ওসিয়ত করে মৃত্যুবরণ করার বড় মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে ব্যক্তি ওসিয়ত করে মারা যায়, সে সঠিক পথ ও সুন্নাতের উপর মারা যায়। হাদিসে আরও এসেছে, সে তাকওয়া, শহীদী দরজা এবং গুনাহ মাফের অবস্থায় মারা যায়। তাই এখানে ওসিয়তকে শুধু একটি পারিবারিক কাগজ বা সম্পদের নির্দেশ হিসেবে দেখানো হয়নি; বরং এটি মৃত্যুর আগে দায়িত্বশীলতার একটি আমল। তবে ব্যাখ্যায় মনে রাখতে হবে, হাদিসের কথাগুলো ওসিয়তের ফজিলত বোঝায়। কারও কাছে ওসিয়তযোগ্য বিষয় থাকলে তাকে দেরি না করে তা ঠিক করে রাখা উচিত। এতে ইসলামে ওসিয়তের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওসিয়ত করা সুন্নাতের পথে থাকার একটি বড় শিক্ষা দেয়।
- মৃত্যুর আগে দায়িত্ব গুছিয়ে নেওয়া তাকওয়ার পরিচয় হতে পারে।
- ওসিয়তকে অবহেলা না করে সময় থাকতে লিখে রাখা উচিত।
