২২/২. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৭০২ - ওসিয়তনামা লিখে রাখার গুরুত্ব
ওসিয়াত করতে উৎসাহিত করা
লিখিত ওসিয়তনামা: দুই রাত দেরি না করার শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৭০২
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৭০২
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عَوْفٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ «مَا حَقُّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ يَبِيتُ لَيْلَتَيْنِ وَلَهُ شَىْءٌ يُوصِي بِهِ إِلاَّ وَوَصِيَّتُهُ مَكْتُوبَةٌ عِنْدَهُ».
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেন, কোন মুসলমানের নিকট ওসিয়তযোগ্য জিনিস থাকা সত্ত্বেও তাঁর ওসিয়তনামা তাঁর কাছে লিখিত আকারে না রেখে দু’টি রাতও অতিবাহিত করার অধিকার তাঁর নাই।
[২৭০২] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। বায়হাকী ফিস সুনান ৯/১৮, ইবনু হিব্বান ৬০২৪, দারাকুতনী ৪/১৫০। তাহকীক আলবানীঃ সহিহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৭০২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) ওসিয়তনামা লিখে রাখার বিষয়ে পরিষ্কার নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কোনো মুসলিম ব্যক্তির কাছে ওসিয়তযোগ্য জিনিস থাকলে তার ওসিয়ত লিখিত আকারে কাছে না রেখে দুই রাত কাটানো তার অধিকার নয়। এখানে মূল কথা হলো—যার সম্পদ, আমানত, পাওনা, ঋণ বা কোনো জরুরি নির্দেশ আছে, সে যেন বিষয়টি অস্পষ্ট রেখে না যায়। লিখিত ওসিয়তনামা পরিবারকে ঝামেলা থেকে বাঁচাতে পারে এবং ওয়ারিসদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি কমাতে সাহায্য করে। হাদিসটি আমাদের শেখায়, মৃত্যু অনিশ্চিত; তাই দায়িত্বের কাজ আজই গুছিয়ে রাখা ভালো। ইসলামে ওসিয়ত করার গুরুত্ব এভাবেই বাস্তব জীবনের সঙ্গে জুড়ে যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওসিয়তযোগ্য বিষয় থাকলে লিখিত ওসিয়তনামা রাখা উচিত।
- দায়িত্বের বিষয় দেরি না করে পরিষ্কার করে রাখা ভালো।
- ওসিয়ত পরিবারে ঝামেলা ও ভুল বোঝাবুঝি কমাতে সাহায্য করে।
