২৪/১৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৭৮৮ - ঘোড়া তিন ধরনের: সওয়াব, পর্দা ও পাপ
আল্লাহর পথে (জিহাদের উদ্দেশে) ঘোড়া প্রতিপালন
ঘোড়া তিন ধরনের: নিয়ত অনুযায়ী সওয়াব, আবরণ বা পাপ
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৭৮৮
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৭৮৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ الْمُخْتَارِ، حَدَّثَنَا سُهَيْلٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «الْخَيْلُ فِي نَوَاصِيهَا الْخَيْرُ - أَوْ قَالَ الْخَيْلُ مَعْقُودٌ فِي نَوَاصِيهَا قَالَ سُهَيْلٌ أَنَا أَشُكُّ الْخَيْرُ - إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ الْخَيْلُ ثَلاَثَةٌ فَهِيَ لِرَجُلٍ أَجْرٌ وَلِرَجُلٍ سِتْرٌ وَعَلَى رَجُلٍ وِزْرٌ فَأَمَّا الَّذِي هِيَ لَهُ أَجْرٌ فَالرَّجُلُ يَتَّخِذُهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَيُعِدُّهَا لَهُ فَلاَ تُغَيِّبُ شَيْئًا فِي بُطُونِهَا إِلاَّ كُتِبَ لَهُ أَجْرٌ وَلَوْ رَعَاهَا فِي مَرْجٍ مَا أَكَلَتْ شَيْئًا إِلاَّ كُتِبَ لَهُ بِهَا أَجْرٌ وَلَوْ سَقَاهَا مِنْ نَهَرٍ جَارٍ كَانَ لَهُ بِكُلِّ قَطْرَةٍ تُغَيِّبُهَا فِي بُطُونِهَا أَجْرٌ - حَتَّى ذَكَرَ الأَجْرَ فِي أَبْوَالِهَا وَأَرْوَاثِهَا - وَلَوِ اسْتَنَّتْ شَرَفًا أَوْ شَرَفَيْنِ كُتِبَ لَهُ بِكُلِّ خَطْوَةٍ تَخْطُوهَا أَجْرٌ . وَأَمَّا الَّذِي هِيَ لَهُ سِتْرٌ فَالرَّجُلُ يَتَّخِذُهَا تَكَرُّمًا وَتَجَمُّلاً وَلاَ يَنْسَى حَقَّ ظُهُورِهَا وَبُطُونِهَا فِي عُسْرِهَا وَيُسْرِهَا . وَأَمَّا الَّذِي هِيَ عَلَيْهِ وِزْرٌ فَالَّذِي يَتَّخِذُهَا أَشَرًا وَبَطَرًا وَبَذَخًا وَرِياءً لِلنَّاسِ فَذَلِكَ الَّذِي هِيَ عَلَيْهِ وِزْرٌ» .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ঘোড়ার কপালে বাঁধা রয়েছে কল্যাণ ও বরকত অথবা তিনি বলেছেনঃ কিয়ামাত পর্যন্ত ঘোড়ার কপালে কল্যাণ ও বরকত বাঁধা থাকবে। ঘোড়া তিন ধরনেরঃ একজনের জন্য তা সওয়াব বয়ে আনে, একজনের জন্য তা পর্দাস্বরূপ; আরেকজনের জন্য তা পাপের কারণ হয়।ঘোড়া তার জন্য সওয়াব বয়ে আনেঃ যে লোক আল্লাহর পথে জিহাদ করার জন্য তা পোষে এবং একে সেজন্য প্রস্তুত করে রাখে। সেই ঘোড়ার পেটে যা কিছু যায় তার জন্যও তার আমলনামায় সওয়াব লেখা হয়। যদি তার ঘোড়া চারণভূমিতে চরায় তবে ঘোড়া যা কিছুই খায় তার বিনিময়ে তার আমলনামায় সওয়াব লেখা হয়। সে যদি ঘোড়াকে বহমান নদীর পানি পান করায় তবে তার পেটে যাওয়া প্রতিটি ফোঁটা পানির বিনিময়েও তার আমলনামায় একটি করে সওয়াব লেখা হয়। এমনকি তিনি ঘোড়ার পেশাব ও গোবরের বিনিময়েও সওয়াব হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন। আর তা যদি একটি বা দুটি টিলা অতিক্রম করে তবে তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে তার আমলনামায় সওয়াব লেখা হয়। আর যে লোক ঘোড়া পোষে সম্মান ও সৌন্দর্যের উপকরণস্বরূপ তা তার জন্য আবরণ। অবশ্য সে তার ঘোড়ার সহজ বা কঠিন কর্তব্য বিস্মৃত হয় না। আর ঘোড়া যার জন্য পাপের কারণঃ যে লোক ঘোড়া পোষে অহংকারবশে ও প্রদর্শনীর উদ্দেশ্যে, তা তার জন্য পাপের কারণ হয়, তার জন্য ঘোড়া শাস্তিস্বরূপ।
[২৭৮৮] সহীহুল বুখারী ২৩৭১, ২৮৫৩, মুসলিম ৯৭৯৮৭, তিরমিযী ১৬৩৬, নাসায়ী ৩৫৬২, ৩৫৬৩, ৩৫৮২, আহমাদ ৭৫০৯, ৮৭৫৪, মুয়াত্তা মালেক ৯৭৫, ইবনু হিব্বান ৪৬৭১, ৪৬৭২, বায়হাকী ফিশ শুআব ৪৩৫০, বায়হাকী ফিস সুনান ৯/১৫৬, ১০/১৫। তাহকীক আলবানী: সহীহ। উক্ত হাদীসের রাবী সুহায়ল বিন আবু সালিহ সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সাঈদ বলেন, তিনি সিকাহ। সুফইয়ান বিন উয়াইনাহ বলেন, সাবত। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার বর্ণিত হাদীস সহীহ নয়। ইমাম নাসাঈ (রহঃ) বলেন, কোনো সমস্যা নেই। ইবনু আদী বলেন, তার খবর মাকবুল বা গ্রহণযোগ্য। ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ তবে অন্যত্র বলেন, তিনি হাদীস বর্ণনায় ভুল করেন। (তাহযীবুল কামাল: রাবী নং ২৬২৯, ১২/২২৩ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৭৮৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ঘোড়ার ব্যাপারে বিস্তারিত শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ঘোড়ার কপালে কল্যাণ ও বরকত রয়েছে। এরপর বলেন, ঘোড়া তিন ধরনের হতে পারে। যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য ঘোড়া পোষে ও প্রস্তুত রাখে, তার জন্য তা সওয়াবের কারণ। ঘোড়ার খাবার, পানি, চলা—সবকিছুর বিনিময়ে সওয়াব লেখা হয় বলে বর্ণনায় এসেছে। যে ঘোড়া সম্মান ও সৌন্দর্যের জন্য রাখা হয়, কিন্তু তার হক ভুলে যাওয়া হয় না, তা পর্দাস্বরূপ। আর অহংকার, লোক দেখানো ও গর্বের জন্য রাখা ঘোড়া পাপের কারণ হয়। তাই হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো নিয়ত ও দায়িত্ব।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- একই জিনিস নিয়তের কারণে সওয়াব বা পাপের কারণ হতে পারে।
- আল্লাহর পথে প্রস্তুতির জন্য ঘোড়া রাখা সওয়াবের কাজ হিসেবে এসেছে।
- পশুর খাবার-পানি ও হক আদায় করাও গুরুত্বের বিষয়।
- অহংকার ও লোক দেখানো কাজকে ক্ষতির দিকে নিয়ে যায়।
