১/৭. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৮৯ - মিসওয়াক মুখ পবিত্র করে
মিসওয়াকের বর্ণনা
মিসওয়াকের ফজিলত: মুখের পবিত্রতা ও রবের সন্তুষ্টি
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৮৯
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৮৯
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي الْعَاتِكَةِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ " تَسَوَّكُوا فَإِنَّ السِّوَاكَ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ مَرْضَاةٌ لِلرَّبِّ وَمَا جَاءَنِي جِبْرِيلُ إِلاَّ أَوْصَانِي بِالسِّوَاكِ حَتَّى لَقَدْ خَشِيتُ أَنْ يُفْرَضَ عَلَىَّ وَعَلَى أُمَّتِي وَلَوْلاَ أَنِّي أَخَافُ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لَفَرَضْتُهُ لَهُمْ وَإِنِّي لأَسْتَاكُ حَتَّى لَقَدْ خَشِيتُ أَنْ أُحْفِيَ مَقَادِمَ فَمِي " .
আবূ উমামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তোমরা মিসওয়াক করো। কেননা মিসওয়াক মুখ পবিত্র ও পরিস্কার করে এবং মহান প্রভুর সন্তুষ্টি লাভের উপায়। আমার কাছে যখনই জিবরাঈল (আঃ) এসেছেন তখনই আমাকে মিসওয়াক করার উপদেশ দিয়েছেন। শেষে আমার আশঙ্কা হয় যে, তা আমার ও আমার উম্মতের জন্য ফার্দ করা হবে। আমি যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর হওয়ার আশঙ্কা না করতাম, তাহলে তাদের জন্য তা ফার্দ করে দিতাম। আমি এত বেশি মিসওয়াক করি যে, আমার মাড়িতে ঘা হওয়ার আশঙ্কা হয়।
[২৮৭] আহমাদ ২১৭৬৬ তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: যঈফ তারগীব ১৪৪, তালীকুর রগীব ১/১০১, ১০২। উক্ত হাদীসের রাবী আলী বিন ইয়াযীদ সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেন, মুনকারুল হাদীস ও দুর্বল। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তাকে দুর্বল বলেছেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি দুর্বল। আবু যুরআহ বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদীস বর্ণনায় দুর্বল। ইমাম নাসাঈ বলেন, তার হাদীস প্রত্যাখ্যানযোগ্য।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৮৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মিসওয়াকের ফজিলত বিস্তারিতভাবে এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, তোমরা মিসওয়াক করো; কারণ মিসওয়াক মুখ পবিত্র ও পরিষ্কার করে এবং মহান প্রভুর সন্তুষ্টি লাভের উপায়। তিনি আরও বলেছেন, জিবরাঈল (আঃ) যখনই তাঁর কাছে এসেছেন, মিসওয়াকের উপদেশ দিয়েছেন। এমনকি নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর আশঙ্কা হয়েছিল, তা তাঁর ও উম্মতের জন্য ফরজ করা হতে পারে। তিনি আরও বলেন, উম্মতের জন্য কষ্টকর হওয়ার আশঙ্কা না থাকলে তিনি তা ফরজ করে দিতেন। এই হাদিসে মিসওয়াকের গুরুত্ব, মুখের পরিচ্ছন্নতা এবং উম্মতের প্রতি নবীজির দয়া—সবই ফুটে উঠেছে। তাই মিসওয়াককে সাধারণ অভ্যাস মনে না করে সুন্নত হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মিসওয়াক মুখ পবিত্র ও পরিষ্কার করার মাধ্যম।
- হাদিসে মিসওয়াককে রবের সন্তুষ্টির উপায় বলা হয়েছে।
- জিবরাঈল (আঃ) মিসওয়াকের ব্যাপারে বারবার উপদেশ দিয়েছেন।
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم) উম্মতের কষ্টের কথা ভেবে তা ফরজ করেননি।
