১/৭. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৯১ - কুরআনের পথ মুখকে পবিত্র রাখা
মিসওয়াকের বর্ণনা
কুরআন তিলাওয়াত ও মিসওয়াক: মুখ পবিত্র রাখার শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৯১
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৯১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا بَحْرُ بْنُ كَنِيزٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ سَاجٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ إِنَّ أَفْوَاهَكُمْ طُرُقٌ لِلْقُرْآنِ فَطَيِّبُوهَا بِالسِّوَاكِ .
আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তোমাদের মুখ হলো কুরআনের রাস্তা। অতএব তোমরা দাঁতন করে তা পবিত্র ও সুগন্ধযুক্ত করো।
[২৮৯] সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ১২১৩। উক্ত হাদীসের রাবী বাহর বিন কানীয সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন তার থেকে হাদীস গ্রহণ করেন নি। ইমাম যুহরী বলেন তিনি নির্ভরযোগ্যদের মধ্যে নন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি দুর্বল। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ নন এবং তার থেকে হাদীস গ্রহণযোগ্য নয়। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তার হাদীস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ২. উসমান বিন সাজ সম্পর্কে ইবনু হিব্বান সিকাহ বললেও আল-আযদী বলেন, তার হাদীসের ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। আল উকায়লি বলেন তার হাদীসের অনুসরণ করা যাবে না। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার থেকে হাদীস গ্রহণ করা যাবে কিন্তু দলীল হিসেবে নয়।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৯১-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় বলা হয়েছে, তোমাদের মুখ হলো কুরআনের রাস্তা। তাই দাঁতন করে তা পবিত্র ও সুগন্ধযুক্ত করো। কথাটি খুব সহজ, কিন্তু এর শিক্ষা গভীর। কুরআন মুখ দিয়ে তিলাওয়াত করা হয়, তাই মুখ পরিষ্কার রাখা কুরআনের আদবের সাথে সম্পর্কিত। এখানে মিসওয়াক বা দাঁতনের মাধ্যমে মুখ পবিত্র রাখার কথা এসেছে। হাদিসটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কুরআন পড়ার আগে বা কুরআন তিলাওয়াতের অভ্যাসে মুখের পরিচ্ছন্নতা অবহেলা করার বিষয় নয়। মুখ শুধু খাবার ও কথার মাধ্যম নয়; এটি আল্লাহর কালাম তিলাওয়াতের পথও। তাই মিসওয়াকের ফজিলত শুধু পরিচ্ছন্নতায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি কুরআনের প্রতি সম্মান দেখানোর একটি সুন্দর উপায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুখকে কুরআনের রাস্তা বলা হয়েছে।
- কুরআন তিলাওয়াতের সাথে মুখের পরিচ্ছন্নতার সম্পর্ক আছে।
- দাঁতন বা মিসওয়াক মুখ পবিত্র ও সুগন্ধযুক্ত রাখার মাধ্যম।
- কুরআনের আদবের অংশ হিসেবে পরিচ্ছন্নতা গুরুত্ব রাখে।
