২৫/৪০. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৯৭৬ - আল-আকীকে হজ্জ-উমরার নির্দেশ
উমরাহ সহ তামাত্তু হজ্জের বর্ণনা
আল-আকীকের বরকতময় উপত্যকা: সালাত ও উমরা সহ হজ্জ
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৯৭৬
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৯৭৬
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُصْعَبٍ، ح وَحَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ، - يَعْنِي دُحَيْمًا - حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، حَدَّثَنِي عِكْرِمَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ عَبَّاسٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ ﷺ ـ يَقُولُ وَهُوَ بِالْعَقِيقِ «أَتَانِي آتٍ مِنْ رَبِّي فَقَالَ صَلِّ فِي هَذَا الْوَادِي الْمُبَارَكِ وَقُلْ عُمْرَةٌ فِي حَجَّةٍ " . وَاللَّفْظُ لِدُحَيْمٍ .
উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আল-আকীক নামক স্থানে অবস্থানকালে বলতে শুনেছিঃ আমার প্রতিপালক থেকে একজন দূত এসে বলেন, এই বরকতময় উপত্যকায় নামাজ পড়ুন এবং বলুনঃ উমরা ও হজের (ইহরাম)। হাদীসের মূল পাঠ দুহায়ম এর বর্ণনা অনুযায়ী।
[২৯৭৬] সহীহ আল বুখারী ১৫৩৪, ২৩৩৭, ৭৩৪৩, আবূ দাউদ ১৮০০, আহমাদ ১৬৪, আত-তালীকুর রাগীব ২/১৪৭, সহীহ আবু দাউদ ১৫৭৯। তাহকীক আলবানী: সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন মুসআব সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসায়ী বলেন, তিনি দুর্বল। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। ইমাম যাহাবী বলেন, তার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৬১২, ২৬/৪৬০ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৯৭৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে আল-আকীক নামক স্থানে অবস্থানকালে বলতে শুনেছেন যে তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একজন দূত এসে বলেন, এই বরকতময় উপত্যকায় সালাত পড়ুন এবং বলুন: উমরা হজ্জের মধ্যে। এখানে মূল বিষয় হলো আল-আকীক উপত্যকা, সালাত, এবং হজ্জের সাথে উমরার উল্লেখ। হাদিসের ভাষা সংক্ষিপ্ত হলেও তা কিরান বা হজ্জ-উমরা একসাথে করার আলোচনার সাথে জড়িত। তবে ব্যাখ্যায় শুধু এই বর্ণিত নির্দেশেই থাকা উচিত। হাদিসটি দেখায়, হজ্জের সফরে স্থান, সালাত এবং ইহরামের ঘোষণার বিষয় সাহাবীরা যত্নের সাথে বর্ণনা করেছেন। তাই এই হাদিস পড়ার সময় আমাদের উচিত ঘটনাটি যেমন এসেছে তেমনভাবে বোঝা, বাড়তি সিদ্ধান্ত না টানা, এবং মূল আমলটি স্পষ্টভাবে মনে রাখা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল-আকীক উপত্যকাকে হাদিসে বরকতময় বলা হয়েছে।
- সেখানে সালাত পড়ার নির্দেশের কথা এসেছে।
- হজ্জের সাথে উমরার কথা বলার নির্দেশ বর্ণিত হয়েছে।
- হজ্জের সফরের নির্দিষ্ট ঘটনাও সাহাবীরা সংরক্ষণ করেছেন।
