২৫/৭৬. অধ্যায়ঃ

সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩০৫৫ - বিদায় হজ্জের ভাষণে জীবন, সম্পদ ও সম্মানের নিরাপত্তা

কোরবানীর দিনের ভাষণ

বিদায় হজ্জের ভাষণ: জীবন, সম্পদ, সম্মান ও ন্যায়ের শিক্ষা

সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩০৫৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَهَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ شَبِيبِ بْنِ غَرْقَدَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ عَمْرِو بْنِ الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ ـ ﷺ ـ يَقُولُ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ «يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَلاَ أَىُّ يَوْمٍ أَحْرَمُ» . ثَلاَثَ مَرَّاتٍ قَالُوا يَوْمُ الْحَجِّ الأَكْبَرِ . قَالَ " فَإِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ وَأَعْرَاضَكُمْ بَيْنَكُمْ حَرَامٌ كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا فِي شَهْرِكُمْ هَذَا فِي بَلَدِكُمْ هَذَا أَلاَ لاَ يَجْنِي جَانٍ إِلاَّ عَلَى نَفْسِهِ وَلاَ يَجْنِي وَالِدٌ عَلَى وَلَدِهِ وَلاَ مَوْلُودٌ عَلَى وَالِدِهِ . أَلاَ إِنَّ الشَّيْطَانَ قَدْ أَيِسَ أَنْ يُعْبَدَ فِي بَلَدِكُمْ هَذَا أَبَدًا وَلَكِنْ سَيَكُونُ لَهُ طَاعَةٌ فِي بَعْضِ مَا تَحْتَقِرُونَ مِنْ أَعْمَالِكُمْ فَيَرْضَى بِهَا أَلاَ وَكُلُّ دَمٍ مِنْ دِمَاءِ الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعٌ وَأَوَّلُ مَا أَضَعُ مِنْهَا دَمُ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ - كَانَ مُسْتَرْضِعًا فِي بَنِي لَيْثٍ فَقَتَلَتْهُ هُذَيْلٌ - أَلاَ وَإِنَّ كُلَّ رِبًا مِنْ رِبَا الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعٌ لَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لاَ تَظْلِمُونَ وَلاَ تُظْلَمُونَ أَلاَ يَا أُمَّتَاهُ هَلْ بَلَّغْتُ " . ثَلاَثَ مَرَّاتٍ قَالُوا نَعَمْ . قَالَ " اللَّهُمَّ اشْهَدْ» . ثَلاَثَ مَرَّاتٍ .

‘আমর বিন আল-আহ্ওয়াস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি নবী (ﷺ) কে বিদায় হজে বলতে শুনেছিঃ হে লোকসকল! কোন্ দিনটি সর্বাধিক সম্মানিত? তিনি তিনবার এ কথা বলেন। তারা বলেন, হজের বড় দিন। তিনি বলেনঃ তোমাদের রক্ত (জীবন), তোমাদের সম্পদ, তোমাদের মান-সম্ভ্রম তোমাদের পরস্পরের জন্য (তাতে হস্তক্ষেপ করা) হারাম, যেভাবে তোমাদের এ দিনে, এই মাসে এবং এই শহরে হারাম।সাবধান! কেউ অপরাধ করলে সেজন্য তাকেই গ্রেপ্তার করা হবে। পিতার অপরাধের জন্য পুত্রকে দায়ী করা যাবে না এবং পুত্রের অপরাধের জন্য পিতাকে দায়ী করা যাবে না। জেনে রাখো! তোমাদের এই শহরে শয়তান নিজের জন্য ইবাদাত পাওয়া থেকে চিরকালের জন্য নিরাশ হয়ে গেছে। কিন্তু কতগুলো কাজ যা তোমরা তুচ্ছজ্ঞানে করতে গিয়ে শয়তানের আনুগত্য করো এবং তাতে সে খুশি হয়ে যায়।সাবধান! জাহিলী যুগের সকল রক্তের (হত্যার) দাবি রহিত হলো। এসব দাবির মধ্যে আমি সর্ব প্রথম আল-হারিস বিন আবদুল মুত্তালিবের রক্তের দাবি রহিত করছি, সে লাইস গোত্রে প্রতিপালিত হওয়াকালে হুযাইল গোত্রের লোকেরা তাকে হত্যা করে। সাবধান! জাহিলী যুগের সমস্ত সুদের দাবি রহিত হলো। তবে তোমরা মূলধন ফেরত পাবে, তোমরাও জুলুম করবে না এবং জুলুমের শিকারও হবে না। শোনো হে আমার উম্মত! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? একথা তিনি তিনবার জিজ্ঞেস করেন। তারা বলেন, হাঁ। তিনি বলেন, হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন। একথাও তিনি তিনবার বলেন।

[৩০৫৫] তিরমিযী ২১৫৯, ৩০৮৭, আবূ দাউদ ৩৩৩৪, ইরওয়া ৫/২৭৯, সহীহ আবু দাউদ ১৭০০ (এর অনুরূপ) তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩০৫৫-এর সারসংক্ষেপ

এই দীর্ঘ হাদিসে বিদায় হজ্জের ভাষণের কয়েকটি বড় শিক্ষা এসেছে। নবী صلى الله عليه وسلم প্রথমে সম্মানিত দিন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। এরপর তিনি বলেন, মুসলমানদের রক্ত, সম্পদ ও মান-সম্মান পরস্পরের জন্য হারাম; যেমন এই দিন, মাস ও শহর সম্মানিত। তিনি আরও বলেন, কেউ অপরাধ করলে তার দায় তার নিজের। পিতার অপরাধে পুত্রকে এবং পুত্রের অপরাধে পিতাকে দায়ী করা যাবে না। তিনি জাহিলি যুগের রক্তের দাবি রহিত করেন এবং সুদের দাবিও রহিত করেন। তবে মূলধন ফেরত পাওয়ার কথা বলেন, যাতে কেউ জুলুম না করে এবং জুলুমের শিকারও না হয়। শেষে তিনি উম্মতের কাছে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কি পৌঁছে দিয়েছেন; তারপর আল্লাহকে সাক্ষী রাখেন।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মান রক্ষা করা বড় দায়িত্ব।
  • অপরাধের দায় ব্যক্তির নিজের; অন্যকে তার জন্য দায়ী করা যাবে না।
  • জুলুম করা এবং জুলুমের শিকার হওয়া—দুই বিষয় থেকেই সতর্ক করা হয়েছে।
  • নবী صلى الله عليه وسلم নিজের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে আল্লাহকে সাক্ষী রেখেছেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন