২৫/৭৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩০৬১ - যমযমের পানি পান করার আদব
যমযমের পানি পান করা
যমযমের পানি পান করার আদব ও তৃপ্তি সহকারে পান করার শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩০৬১
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩০৬১
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، قَالَ كُنْتُ عِنْدَ ابْنِ عَبَّاسٍ جَالِسًا فَجَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ مِنْ أَيْنَ جِئْتَ قَالَ مِنْ زَمْزَمَ . قَالَ فَشَرِبْتَ مِنْهَا كَمَا يَنْبَغِي قَالَ وَكَيْفَ قَالَ إِذَا شَرِبْتَ مِنْهَا فَاسْتَقْبِلِ الْكَعْبَةَ وَاذْكُرِ اسْمَ اللَّهِ وَتَنَفَّسْ ثَلاَثًا وَتَضَلَّعْ مِنْهَا فَإِذَا فَرَغْتَ فَاحْمَدِ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ ﷺ ـ قَالَ " إِنَّ آيَةَ مَا بَيْنَنَا وَبَيْنَ الْمُنَافِقِينَ أَنَّهُمْ لاَ يَتَضَلَّعُونَ مِنْ زَمْزَمَ».
মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান বিন আবূ বাকর (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোথা থেকে এসেছো? সে বললো যমযমের নিকট থেকে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি তা থেকে প্রয়োজনমত পান করেছ? সে বললো, তা কিরূপে? তিনি বললেন, তুমি তা থেকে পান করার সময় কেবলামুখী হবে, আল্লাহর নাম স্মরণ করবে, তিনবার নিঃশ্বাস নিবে এবং তৃপ্তি সহকারে পান করবে। পানি পান শেষে তুমি মহামহিম আল্লাহর প্রশংসা করবে। কারণ, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমাদের ও মুনাফিকদের মধ্যে নিদর্শন এই যে, তারা তৃপ্তি সহকারে যমযমের পানি পান করে না।
[৩০৬১] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইরওয়া ১১২৫, তাহকীক আলবানীঃ যয়িফ। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান বিন আবু বাকর সম্পর্কে ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি মাকবুল। ইমাম বুখারি তার তারিখুল কাবীর এর মাঝে তার নাম উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, তিনি ইবনু উমার থেকে ও তার থেকে আমর বিন দীনার হাদিস বর্ণনা করেছেন। তার থেকে দুইজন রাবী হাদিস বর্ণনা করেছেন, কিন্তু কেউ তাকে সিকাহ বলেননি। সানাদের বাকী রাবীগুলো সিকাহ। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৩৯১, ২৫/৫৯৩ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩০৬১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যমযমের পানি পান করার কয়েকটি সুন্দর আদব এসেছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) একজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করেন, সে যমযম থেকে যথাযথভাবে পান করেছে কি না। এরপর তিনি বুঝিয়ে দেন, যমযমের পানি পান করার সময় কেবলামুখী হওয়া, আল্লাহর নাম স্মরণ করা, তিনবার নিঃশ্বাস নেওয়া, তৃপ্তি সহকারে পান করা এবং শেষে আল্লাহর প্রশংসা করা উচিত। হাদিসে আরও এসেছে, মুনাফিকরা তৃপ্তি সহকারে যমযমের পানি পান করে না। এখানে মূল শিক্ষা হলো, যমযম শুধু সাধারণ পানির মতো নয়; এর সাথে আল্লাহর স্মরণ, আদব এবং কৃতজ্ঞতার সম্পর্ক আছে। তাই যমযম পান করার আদব জানা হজ্জ ও উমরার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যমযমের পানি পান করার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করা শেখানো হয়েছে।
- পানি পান শেষে আল্লাহর প্রশংসা করা কৃতজ্ঞতার সুন্দর রূপ।
- যমযম তৃপ্তি সহকারে পান করার বিষয়টি এই হাদিসে গুরুত্ব পেয়েছে।
