২৫/৯২. অধ্যায়ঃ

সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩০৯১ - ইহরামে শিকারকৃত গোশত না খাওয়া

ইহরামধারী ব্যক্তির জন্য যে ধরণের শিকার নিষিদ্ধ

ইহরামে শিকারকৃত গোশত না খাওয়া: নবী صلى الله عليه وسلم-এর সতর্কতা

সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩০৯১

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ أُتِيَ النَّبِيُّ ـ ﷺ ـ بِلَحْمِ صَيْدٍ وَهُوَ مُحْرِمٌ فَلَمْ يَأْكُلْهُ .

আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) এর সামনে শিকারকৃত প্রাণীর গোশত পেশ করা হলো। তিনি ইহরাম অবস্থায় থাকার কারণে তা আহার করেননি।

[৩০৯১] আহমাদ ৮৩২, সহীহ আবু দাউদ ১৬২১। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল কারিম সম্পর্কে আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহনযোগ্য হবে না। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় অধিক সন্দেহ করেন। আবু যুরআহ আর-রাযী ও আহমাদ বিন হাম্বল তাকে দুর্বল বলেছেন। আহমাদ বিন শু'আয়ব বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি দুর্বল। ইবনু আবদুল বার আল-আন্দালাসী বলেন, তার দুর্বলতার ব্যাপারে সকলে একমত। ইমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে দুর্বল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল বলেন, আহলে ইলমের নিকট তিনি দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৫০৬, ১৮/২৫৯ নং পৃষ্ঠা) উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু আবদুল কারিম এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ৬৩ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, ২ টি জাল, ৪ টি খুবই দুর্বল, ২০ টি দুর্বল, ৮ টি হাসান, ২৯ টি সহীহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ বুখারী ১৮২৫, ২৫৭৩, ২৫৯৬, মুসলিম ১১৯৬, তিরমিযি ৮৪৯, আবু দাউদ ১৮৪৯, ১৮৫০, দারিমী ১৮২৮, ১৮৩০, মুয়াত্তা মালিক ৭৯৩, আহমাদ ৮৩২, ২৫২৬, ৩৪০৭, ১৫৯৮৭, সহীহ ইবনু খুযাইমাহ ২৪৭৩, ২৪৭৫।

সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩০৯১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে বলা হয়েছে, নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সামনে শিকারকৃত প্রাণীর গোশত পেশ করা হলো। তিনি ইহরাম অবস্থায় ছিলেন, তাই তা আহার করেননি। হাদিসটি খুব সংক্ষিপ্ত, কিন্তু ইহরামের আদবের একটি পরিষ্কার দিক তুলে ধরে। ইহরাম অবস্থায় শিকার সম্পর্কিত বিষয়ে কতটা সতর্ক থাকা দরকার, তা এখানে দেখা যায়। হাদিসে শুধু এই কথাই এসেছে যে, তিনি ইহরাম অবস্থায় থাকার কারণে খাননি। তাই ব্যাখ্যায় বাড়তি শর্ত যোগ না করাই ভালো। যারা ইহরামে শিকারকৃত গোশত, মুহরিমের খাবার, বা হজ্জের সময় শিকার সম্পর্কে জানতে চান, তাদের জন্য এই হাদিস একটি সরাসরি পাঠ। এতে বোঝা যায়, ইহরামের সময় খাবারের ক্ষেত্রেও বিধান মানার চেষ্টা থাকতে হয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ইহরাম অবস্থায় শিকারকৃত গোশত সম্পর্কে সতর্ক থাকা দরকার।
  • নবী صلى الله عليه وسلم ইহরামের কারণে সেই গোশত আহার করেননি।
  • খাবারের ক্ষেত্রেও ইহরামের নিয়ম মানার শিক্ষা পাওয়া যায়।
  • সংক্ষিপ্ত হাদিস থেকেও স্পষ্ট আমল শেখা যায়।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন