২৭/১৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩১৯৩ - গৃহপালিত গাধা হারাম ঘোষণার বর্ণনা
বন্য গাধার গোশ্ত
গৃহপালিত গাধার গোশত হারাম: খাদ্যবিধানের হাদিস
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩১৯৩
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩১৯৩
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، حَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ جَابِرٍ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِيكَرِبَ الْكِنْدِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ ﷺ ـ حَرَّمَ أَشْيَاءَ حَتَّى ذَكَرَ الْحُمُرَ الإِنْسِيَّةَ .
আল-মিকদাম বিন মা‘দীকারিব আল-কিন্দী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কতগুলো জিনিস হারাম ঘোষণা করেন, তার মধ্যে গৃহপালিত গাধার কথাও উল্লেখ করেন।
[৩১৯৩] আহমাদ ১৬৭৪২, রাওদুন নাদীর ৩৭২। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী যায়দ ইবনুল হুবাব সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। আলী ইবনুল মাদীনী ও উসমান বিন আবু শায়বাহ তাকে সিকাহ বলেছেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২০৯৫, ১০/৪০ নং পৃষ্ঠা)২. মুআবিয়াহ বিন সালিহ সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তার হাদিসের মাঝে আমি কোন সমস্যা দেখি না। আবু বাকর আল-বাযযার বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬০৫৮, ২৮/১৮৬ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩১৯৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কতগুলো জিনিস হারাম ঘোষণা করেন, আর সেই তালিকায় গৃহপালিত গাধার কথাও উল্লেখ করেন। বর্ণনাটি সংক্ষিপ্ত, কিন্তু খাদ্যবিধানের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। এখানে গৃহপালিত গাধা বলা হয়েছে; তাই এটিকে বন্য গাধার বর্ণনার সঙ্গে মিশিয়ে ফেলা ঠিক নয়। আগের ও পরের হাদিসগুলোতে খায়বারের ঘটনার মাধ্যমে গৃহপালিত গাধার গোশত না খাওয়ার নির্দেশ আরও পরিষ্কার হয়েছে। এই হাদিস আমাদের শেখায়, হালাল-হারাম বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ মুসলিম জীবনে মানার বিষয়। খাদ্য নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বর্ণনার নির্দিষ্ট শব্দ ও সীমা খেয়াল করা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গৃহপালিত গাধাকে হারাম ঘোষিত জিনিসের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
- বন্য গাধা ও গৃহপালিত গাধার পার্থক্য খেয়াল করা দরকার।
- খাদ্যবিধানে নবী صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশ মানা ঈমানি দায়িত্বের অংশ।
