২৯/৫০. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৩৫০ - ভুরিভোজ ও ঢেকুরের সতর্কতা
পরিমিত আহার উত্তম ও ভুরিভোজ খারাপ
ভুরিভোজ ও ঢেকুর নিয়ে নবী صلى الله عليه وسلم-এর সতর্কবাণী
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৩৫০
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৩৫০
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَبُو يَحْيَى، عَنْ يَحْيَى الْبَكَّاءِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ تَجَشَّأَ رَجُلٌ عِنْدَ النَّبِيِّ ـ ﷺ ـ فَقَالَ " كُفَّ جُشَاءَكَ عَنَّا فَإِنَّ أَطْوَلَكُمْ جُوعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَكْثَرُكُمْ شِبَعًا فِي دَارِ الدُّنْيَا " .
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর সামনে ঢেকুর তুললে তিনি বলেন: তুমি আমাদের থেকে তোমার ঢেকুর প্রতিরোধ করো। কারণ যারা পার্থিব জীবনে ভূরিভোজ করে তারাই হবে কিয়ামতের দিন সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষুধার্ত।
[৩৩৫০] তিরমিযী ২৪৭৮, সহীহাহ ৩৪৩, মিশকাত ৫১৯৩। তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী১. আবদুল আযীয বিন আবদুল্লাহ সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী ও ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি কুফরী নয় এমন কওলী বা আমলী কোন ফিসক এর সাথে জড়িত। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৪৫৮, ১৮/১৬৩ নং পৃষ্ঠা)২. আবু ইয়াহইয়া আল-বাক্কাই সম্পর্কে আবুল ফাতহ আল-আযদী বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তোমরা তার থেকে হাদিস গ্রহণ করিও না। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি সিকাহ নয়। ইবনু হাজার আল-আসকালানী ও ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬৯২০, ৩১/৫৩৩ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৩৫০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে খাবারের আদব এবং অতিরিক্ত খাওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা এসেছে। এক ব্যক্তি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সামনে ঢেকুর তুললে তিনি বলেন, আমাদের থেকে তোমার ঢেকুর প্রতিরোধ করো। এরপর তিনি বলেন, যারা দুনিয়ার জীবনে বেশি পেট ভরে খায়, তারা কেয়ামতের দিন বেশি ক্ষুধার্ত হবে। হাদিসে সরাসরি দুটি দিক আছে। একদিকে মানুষের সামনে ঢেকুর তোলার মতো আচরণ থেকে বিরত থাকার শিক্ষা আছে। অন্যদিকে ভুরিভোজ বা অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের ব্যাপারে আখিরাতের ভয় দেখানো হয়েছে। এটি আমাদের মনে করায়, খাবার শুধু পেট ভরানোর বিষয় নয়; এর সাথে আদব, সংযম ও আত্মনিয়ন্ত্রণ জড়িত। তাই খাবারের সময় নিজের আচরণ ও পরিমাণ—দুটিই খেয়াল করা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের সামনে বিরক্তিকরভাবে ঢেকুর তোলা থেকে বিরত থাকা উচিত।
- দুনিয়ায় ভুরিভোজের ব্যাপারে নবী (صلى الله عليه وسلم) সতর্ক করেছেন।
- খাবারের আদবের সাথে সংযমও জরুরি।
- আখিরাতের কথা মনে রেখে খাবারে ভারসাম্য রাখা দরকার।
