২৯/৫০. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৩৫১ - ভুরিভোজ পরিহারের শিক্ষা
পরিমিত আহার উত্তম ও ভুরিভোজ খারাপ
ভুরিভোজ পরিহার: সালমান রাঃ-এর স্মরণ করা নববী শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৩৫১
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৩৫১
حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْعَسْكَرِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الثَّقَفِيُّ، عَنْ مُوسَى الْجُهَنِيِّ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ عَطِيَّةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ سَلْمَانَ، وَأُكْرِهَ، عَلَى طَعَامٍ يَأْكُلُهُ فَقَالَ حَسْبِي إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ ﷺ ـ يَقُولُ " إِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ شِبَعًا فِي الدُّنْيَا أَطْوَلُهُمْ جُوعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ ".
‘আতিয়্যাহ ইবনু ‘আমির আল-জুহানী হতে বর্ণিতঃ
সালমান (রাঃ) বলেন, আমার জন্য যথেষ্ট যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ দুনিয়াতে যেসব লোক ভূরিভোজ করে, তারাই হবে কেয়ামতের দিন অধিক ক্ষুধার্ত।
[৩৩৫১] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী সাঈদ বিন মুহাম্মাদ আস-সাকাফী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি দুর্বল। আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসায়ী বলেন, তিনি সিকাহ নয়। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি দুর্বল। ইমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২৩৪৯, ১১/৪৭ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৩৫১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সালমান (রাঃ)-এর আচরণের মাধ্যমে ভুরিভোজ পরিহারের শিক্ষা এসেছে। তাঁকে যখন আহার করতে পীড়াপীড়ি করা হয়, তিনি বলেন, আমার জন্য যথেষ্ট। এরপর তিনি জানান যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে বলতে শুনেছেন, দুনিয়াতে যারা সবচেয়ে বেশি পেট ভরে খায়, তারা কেয়ামতের দিন অধিক ক্ষুধার্ত হবে। এখানে সালমান (রাঃ) শুধু একটি কথা বলেননি; তিনি নিজের খাবার গ্রহণেও সেই শিক্ষা মানার চেষ্টা করেছেন। হাদিসটি আমাদের শেখায়, খাবার সামনে থাকলেই বেশি খাওয়া দরকার নেই। অন্য কেউ পীড়াপীড়ি করলেও নিজের শরীর, মন ও আখিরাতের ভাবনা মাথায় রেখে সংযম রাখা ভালো। ভুরিভোজের বদলে প্রয়োজনমতো খাওয়া ইসলামী খাবারের আদবের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খাবারে পীড়াপীড়ি হলেও প্রয়োজনমতো খাওয়া ভালো।
- সাহাবীরা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর শিক্ষা নিজের জীবনে মানতেন।
- দুনিয়ায় ভুরিভোজ আখিরাতের ক্ষুধার কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
- খাবারের সামনে সংযম রাখা মুমিনের সুন্দর গুণ।
