৩০/৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৩৯০ - প্রতিটি নেশা শরাবের অন্তর্ভুক্ত
প্রতিটি নেশা উদ্রেককারী জিনিস হারাম
প্রতিটি নেশা শরাব: হারাম পানীয় বোঝার সহজ মূলনীতি
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৩৯০
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৩৯০
حَدَّثَنَا سَهْلٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَلْقَمَةَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ " كُلُّ مُسْكِرٍ خَمْرٌ وَكُلُّ خَمْرٍ حَرَامٌ " .
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রতিটি নেশা উদ্রেককর জিনিস শরাবের অন্তর্ভুক্ত এবং যে কোন শরাবই হারাম।
[৩৩৯০] মুসলিম ৩৭৩৩, ৩৭৩৪, ৩৭৩৫, তিরমিযি ১৮৬১, আহমাদ ৪৬৩০, ৪৮১৫, ৪৮৪৮, ৫৬১৬, ৫৬৯৭, ৫৭৮৬, ৬১৪৪, ৬১৮৩, ইরওয়া ৮/৪১, রাওদুন নাদীর ৫৪২-৫৪৪। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন আমর বিন আলকামাহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান বলেন, তিনি সালিহ। ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি কখনো হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবনু আদী বলেন, তাঁর হাদিস বর্ণনায় সমস্যা নেই। ইমাম নাসাঈ তাঁকে সিকাহ বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫১৩, ২৬/২১২ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৩৯০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) একটি মূলনীতি দিয়েছেন—প্রতিটি নেশা উদ্রেককারী জিনিস শরাবের অন্তর্ভুক্ত, আর প্রতিটি শরাব হারাম। এর অর্থ, শরাবকে শুধু একটি পরিচিত পানীয়ের নাম হিসেবে ভাবলে ভুল হতে পারে। যে জিনিস নেশা সৃষ্টি করে, তা শরাবের অর্থের মধ্যে আসে। তাই নেশাজাত জিনিসকে আলাদা নাম, আলাদা ধরন বা নতুন রূপে দেখিয়ে হালকা করা উচিত নয়। এই হাদিস মুসলিমকে সহজ মানদণ্ড দেয়: নেশা আছে কি না, সেটি দেখো। যদি নেশা থাকে, তবে তা থেকে দূরে থাকো। এটি পানাহার, ব্যবসা ও সামাজিক অভ্যাসে সতর্ক থাকার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নেশা উদ্রেককারী জিনিস শরাবের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
- প্রতিটি শরাব হারাম—হাদিসে এ কথা স্পষ্ট এসেছে।
- নতুন নাম বা নতুন ধরন দিয়ে নেশাকে হালকা করা যায় না।
- মুমিনের জন্য নেশার বৈশিষ্ট্য বুঝে দূরে থাকা দরকার।
