১৭/৫. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬৩৮-[৫] - প্রত্যেক নেশাজাতীয় বস্তু মদ ও হারাম

মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা - প্রথম অনুচ্ছেদ

التَّعْزِيْزِহলো হাদ্দ ব্যতীত শিক্ষা দেয়া বা সতর্ক করা। ইবনু হুমাম বলেন : এটা কুরআন দ্বারা প্রমাণিত, আল্লাহ বলেনঃوَاضْرِبُوهُنَّ فَإِنْ أَطْعَنْكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا’‘এবং তাদেরকে প্রহার করো যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায় তবে আর তাদের জন্য অন্য কোনো পথ অনুসন্ধান করো না’’- (সূরা আন্ নিসা ৪ : ৩৪)। আয়াতে স্ত্রীদেরকে শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়ার জন্য প্রহারের আদেশ দিয়েছেন আল্লাহ তা‘আলা।‘কাফী‘তে রয়েছে,لَا تَرْفَعْ عَصَاكَ عَنْ أَهْلِكَরাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তুমি তোমার পরিবার থেকে তোমার লাঠিকে উঠিয়ে রাখবে না।নবী (ﷺ) আরো বলেছেন, আল্লাহ ঐ ব্যক্তির ওপর রহম করুন যখনই তার পরিবার তাকে দেখে তার ঘারে লাঠি ঝুলালো।আর এ সংক্রান্ত সবচেয়ে শক্তিশালী হাদীস হলোفَاضْرِبُوهُمْ عَلٰى تَرْكِهَا بِعَشْرٍ فِي الصِّبْيَانِতোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে তাদের বয়স যখন দশ বছর, এমতাবস্থায় যদি তারা সালাত ছেড়ে দেয়। এটা সুস্পষ্ট দলীল- সতর্কতামূলক শাস্তি প্রদান করা বৈধ। সাহাবীরাও এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছেন। আর তাম্রম্নতাশী সারাখসী থেকে উল্লেখ করে বলেন, সতর্কতামূলক শাস্তিতে কোনো সীমানা নেই বরং বিচারক যা ভালো মনে করেন তা করবেন। মূলতঃ উদ্দেশ্য হলো ধমকানো।মানুষও বিভিন্ন মানের তাদের মধ্যে কাউকে উপদেশের মাধ্যমে সতর্ক করবে, আবার কারো ক্ষেত্রে চর থাপ্পড়, আবার কারো ক্ষেত্রে কয়েদ করে রাখা। (মিরকাতুল মাফাতীহ)

প্রত্যেক নেশাজাতীয় জিনিস মদ

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৬৩৮-[৫]

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كُلُّ مُسْكِرٍ خَمْرٌ وَكُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ وَمَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ فِي الدُّنْيَا فَمَاتَ وَهُوَ يُدْمِنُهَا لَمْ يَتُبْ لَمْ يَشْرَبْهَا فِي الْآخِرَةِ». رَوَاهُ مُسلم

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: নেশা উদ্রেককারী প্রত্যেক জিনিসই ‘মদ' আর প্রত্যেক নেশা সৃষ্টিকারী জিনিসই হারাম। আর যে ব্যক্তি দুনিয়াতে মদ পান করেছে এবং অবিরত পান করতে থাকে এবং তা থেকে তাওবা না করেই মৃত্যুবরণ করেছে, তাহলে সে পরকালে তা (জান্নাতী সুপেয় মদ) পান করতে পারবে না।

[১] সহীহ : মুসলিম ২০০৩, আবূ দাঊদ ৩৬৭৬, নাসায়ী ৫৬৭৩, তিরমিযী ১৮৬১, আহমাদ ৫৭৩০, সহীহ আল জামি‘ ৪৫৫৩, সহীহ আত্ তারগীব ২৩৬১।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬৩৮-[৫]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) খুব স্পষ্ট নীতি দিয়েছেন: প্রত্যেক নেশা উদ্রেককারী জিনিসই মদ, এবং প্রত্যেক নেশা সৃষ্টিকারী জিনিসই হারাম। এরপর তিনি বলেন, যে ব্যক্তি দুনিয়াতে মদ পান করে, তাতে অবিরত থাকে এবং তাওবা না করেই মারা যায়, সে আখিরাতে তা পান করতে পারবে না। এখানে তাওবার বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণভাবে এসেছে। হাদিসটি মদকে শুধু আঙ্গুর বা খেজুরের পানীয় হিসেবে সীমাবদ্ধ করে না; যে জিনিস নেশা তৈরি করে, সেটিই এই নিষেধের মধ্যে পড়ে। একই সঙ্গে বারবার পান করা ও তাওবা না করার ভয়াবহ পরিণতি স্মরণ করানো হয়েছে। তাই মূল শিক্ষা—নেশা থেকে দূরে থাকা এবং ভুল হলে তাওবার পথে ফিরে আসা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • প্রত্যেক নেশাজাতীয় বস্তু মদের হুকুমে আসে।
  • নেশা সৃষ্টিকারী সব জিনিস হারাম বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
  • মদে অভ্যস্ত থেকে তাওবা না করে মৃত্যু হলে আখিরাতে বঞ্চনার কথা এসেছে।
  • তাওবা নেশার গুনাহ থেকে ফিরে আসার গুরুত্বপূর্ণ পথ।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন