১৭/৫. অধ্যায়ঃ
মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা - প্রথম অনুচ্ছেদ
التَّعْزِيْزِহলো হাদ্দ ব্যতীত শিক্ষা দেয়া বা সতর্ক করা। ইবনু হুমাম বলেন : এটা কুরআন দ্বারা প্রমাণিত, আল্লাহ বলেনঃوَاضْرِبُوهُنَّ فَإِنْ أَطْعَنْكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا’’এবং তাদেরকে প্রহার করো যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায় তবে আর তাদের জন্য অন্য কোনো পথ অনুসন্ধান করো না’’- (সূরা আন্ নিসা ৪ : ৩৪)। আয়াতে স্ত্রীদেরকে শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়ার জন্য প্রহারের আদেশ দিয়েছেন আল্লাহ তা’আলা।’কাফী’তে রয়েছে,لَا تَرْفَعْ عَصَاكَ عَنْ أَهْلِكَরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তুমি তোমার পরিবার থেকে তোমার লাঠিকে উঠিয়ে রাখবে না।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন, আল্লাহ ঐ ব্যক্তির ওপর রহম করুন যখনই তার পরিবার তাকে দেখে তার ঘারে লাঠি ঝুলালো।আর এ সংক্রান্ত সবচেয়ে শক্তিশালী হাদীস হলোفَاضْرِبُوهُمْ عَلٰى تَرْكِهَا بِعَشْرٍ فِي الصِّبْيَانِতোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে তাদের বয়স যখন দশ বছর, এমতাবস্থায় যদি তারা সালাত ছেড়ে দেয়। এটা সুস্পষ্ট দলীল- সতর্কতামূলক শাস্তি প্রদান করা বৈধ। সাহাবীরাও এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছেন। আর তাম্রম্নতাশী সারাখসী থেকে উল্লেখ করে বলেন, সতর্কতামূলক শাস্তিতে কোনো সীমানা নেই বরং বিচারক যা ভালো মনে করেন তা করবেন। মূলতঃ উদ্দেশ্য হলো ধমকানো।মানুষও বিভিন্ন মানের তাদের মধ্যে কাউকে উপদেশের মাধ্যমে সতর্ক করবে, আবার কারো ক্ষেত্রে চর থাপ্পড়, আবার কারো ক্ষেত্রে কয়েদ করে রাখা। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
মিশকাতুল মাসাবিহ : ৩৬৩৯-[৬]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ৩৬৩৯-[৬]
وَعَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَجُلًا قَدِمَ مِنَ الْيَمَنِ فَسَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ شَرَابٍ يَشْرَبُونَهُ بِأَرْضِهِمْ مِنَ الذُّرَةِ يُقَالُ لَهُ الْمِزْرُ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أوَ مُسْكِرٌ هُوَ؟» قَالَ: نَعَمْ قَالَ: «كُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ إِنَّ عَلَى اللَّهِ عَهْدًا لِمَنْ يَشْرَبُ الْمُسْكِرَ أَنْ يَسْقِيَهُ مِنْ طِينَةِ الْخَبَالِ» . قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا طِينَةُ الْخَبَالِ؟ قَالَ: «عَرَقُ أَهْلِ النَّارِ أَوْ عُصَارَةُ أَهْلِ النَّارِ» . رَوَاهُ مُسلم
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন ইয়ামান থেকে জনৈক ব্যক্তি এসে নবী (ﷺ)-এর নিকট ‘জোয়ার' হতে প্রস্তুতকৃত মদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করল, যা 'মি' বলে পরিচিত তাদের দেশে পান করা হয়। তখন নবী (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, তা কি নেশা উদ্রেক করে? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি (ﷺ) বললেন, নেশা উদ্রেককারী এমন প্রত্যেক জিনিসই হারাম। আর আল্লাহ তা'আলার ওয়াদাহ্ হলো, যে ব্যক্তি কোনো নেশা সৃষ্টিকারী জিনিস পান করবে, তিনি তাকে ‘ত্বীনাতুল খবাল' পান করাবেন। সহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! ‘ত্বীনাতুল খবাল' কি জিনিস? তিনি (ﷺ) বললেন: তা জাহান্নামীদের শরীরের ঘাম অথবা বলেছেন, জাহান্নামীদের রক্ত ও পুঁজ।
[১] সহীহ : মুসলিম ২০০২, নাসায়ী ৫৭০৯, আহমাদ ১৪৮৮০, সহীহ আল জামি‘ ৪৫৫১।
