১৭/৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬৩৯-[৬] - নেশাজাতীয় পানীয় ও ত্বীনাতুল খবাল
মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা - প্রথম অনুচ্ছেদ
التَّعْزِيْزِহলো হাদ্দ ব্যতীত শিক্ষা দেয়া বা সতর্ক করা। ইবনু হুমাম বলেন : এটা কুরআন দ্বারা প্রমাণিত, আল্লাহ বলেনঃوَاضْرِبُوهُنَّ فَإِنْ أَطْعَنْكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا’‘এবং তাদেরকে প্রহার করো যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায় তবে আর তাদের জন্য অন্য কোনো পথ অনুসন্ধান করো না’’- (সূরা আন্ নিসা ৪ : ৩৪)। আয়াতে স্ত্রীদেরকে শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়ার জন্য প্রহারের আদেশ দিয়েছেন আল্লাহ তা‘আলা।‘কাফী‘তে রয়েছে,لَا تَرْفَعْ عَصَاكَ عَنْ أَهْلِكَরাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তুমি তোমার পরিবার থেকে তোমার লাঠিকে উঠিয়ে রাখবে না।নবী (ﷺ) আরো বলেছেন, আল্লাহ ঐ ব্যক্তির ওপর রহম করুন যখনই তার পরিবার তাকে দেখে তার ঘারে লাঠি ঝুলালো।আর এ সংক্রান্ত সবচেয়ে শক্তিশালী হাদীস হলোفَاضْرِبُوهُمْ عَلٰى تَرْكِهَا بِعَشْرٍ فِي الصِّبْيَانِতোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে তাদের বয়স যখন দশ বছর, এমতাবস্থায় যদি তারা সালাত ছেড়ে দেয়। এটা সুস্পষ্ট দলীল- সতর্কতামূলক শাস্তি প্রদান করা বৈধ। সাহাবীরাও এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছেন। আর তাম্রম্নতাশী সারাখসী থেকে উল্লেখ করে বলেন, সতর্কতামূলক শাস্তিতে কোনো সীমানা নেই বরং বিচারক যা ভালো মনে করেন তা করবেন। মূলতঃ উদ্দেশ্য হলো ধমকানো।মানুষও বিভিন্ন মানের তাদের মধ্যে কাউকে উপদেশের মাধ্যমে সতর্ক করবে, আবার কারো ক্ষেত্রে চর থাপ্পড়, আবার কারো ক্ষেত্রে কয়েদ করে রাখা। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
নেশাজাতীয় পানীয় হারাম ও ত্বীনাতুল খবাল
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৬৩৯-[৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৬৩৯-[৬]
وَعَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَجُلًا قَدِمَ مِنَ الْيَمَنِ فَسَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ شَرَابٍ يَشْرَبُونَهُ بِأَرْضِهِمْ مِنَ الذُّرَةِ يُقَالُ لَهُ الْمِزْرُ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أوَ مُسْكِرٌ هُوَ؟» قَالَ: نَعَمْ قَالَ: «كُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ إِنَّ عَلَى اللَّهِ عَهْدًا لِمَنْ يَشْرَبُ الْمُسْكِرَ أَنْ يَسْقِيَهُ مِنْ طِينَةِ الْخَبَالِ». قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا طِينَةُ الْخَبَالِ؟ قَالَ: «عَرَقُ أَهْلِ النَّارِ أَوْ عُصَارَةُ أَهْلِ النَّارِ» . رَوَاهُ مُسلم
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন ইয়ামান থেকে জনৈক ব্যক্তি এসে নবী (ﷺ)-এর নিকট ‘জোয়ার' হতে প্রস্তুতকৃত মদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করল, যা 'মিয্র' বলে পরিচিত তাদের দেশে পান করা হয়। তখন নবী (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, তা কি নেশা উদ্রেক করে? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি (ﷺ) বললেন, নেশা উদ্রেককারী এমন প্রত্যেক জিনিসই হারাম। আর আল্লাহ তা'আলার ওয়াদা হলো, যে ব্যক্তি কোনো নেশা সৃষ্টিকারী জিনিস পান করবে, তিনি তাকে ‘ত্বীনাতুল খবাল' পান করাবেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! ‘ত্বীনাতুল খবাল' কি জিনিস? তিনি (ﷺ) বললেন: তা জাহান্নামীদের শরীরের ঘাম অথবা বলেছেন, জাহান্নামীদের রক্ত ও পুঁজ।
[১] সহীহ : মুসলিম ২০০২, নাসায়ী ৫৭০৯, আহমাদ ১৪৮৮০, সহীহ আল জামি‘ ৪৫৫১।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬৩৯-[৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইয়ামান থেকে এক ব্যক্তি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে জোয়ার থেকে তৈরি ‘মিযর’ নামে পানীয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। নবী (صلى الله عليه وسلم) প্রথমেই জানতে চান, তা কি নেশা সৃষ্টি করে? সে বলে, হ্যাঁ। তখন তিনি বলেন, প্রত্যেক নেশাজাতীয় জিনিস হারাম। এরপর তিনি কঠোর সতর্কতা দেন—যে ব্যক্তি নেশাজাতীয় পানীয় পান করবে, আল্লাহ তাকে ‘ত্বীনাতুল খবাল’ পান করাবেন। সাহাবীরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তা জাহান্নামীদের ঘাম অথবা রক্ত-পুঁজ। এই হাদিসে পানীয়ের নাম নয়, নেশা সৃষ্টি করাই মূল বিষয়। একই সঙ্গে নেশার পরিণতি সম্পর্কে ভয়াবহ সতর্কতা এসেছে, যাতে মানুষ মদ ও নেশা থেকে দূরে থাকে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পানীয়ের নাম বদলালেও নেশা থাকলে তা হারাম।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) পানীয়ের উৎস নয়, তার প্রভাব সম্পর্কে প্রশ্ন করেছেন।
- নেশাজাতীয় পানীয়ের জন্য কঠোর আখিরাতের সতর্কতা এসেছে।
- ত্বীনাতুল খবালকে জাহান্নামীদের ঘাম বা রক্ত-পুঁজ বলা হয়েছে।
