১৭/৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬৩৭-[৪] - যে পানীয় নেশা আনে তা হারাম
মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা - প্রথম অনুচ্ছেদ
التَّعْزِيْزِহলো হাদ্দ ব্যতীত শিক্ষা দেয়া বা সতর্ক করা। ইবনু হুমাম বলেন : এটা কুরআন দ্বারা প্রমাণিত, আল্লাহ বলেনঃوَاضْرِبُوهُنَّ فَإِنْ أَطْعَنْكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا’‘এবং তাদেরকে প্রহার করো যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায় তবে আর তাদের জন্য অন্য কোনো পথ অনুসন্ধান করো না’’- (সূরা আন্ নিসা ৪ : ৩৪)। আয়াতে স্ত্রীদেরকে শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়ার জন্য প্রহারের আদেশ দিয়েছেন আল্লাহ তা‘আলা।‘কাফী‘তে রয়েছে,لَا تَرْفَعْ عَصَاكَ عَنْ أَهْلِكَরাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তুমি তোমার পরিবার থেকে তোমার লাঠিকে উঠিয়ে রাখবে না।নবী (ﷺ) আরো বলেছেন, আল্লাহ ঐ ব্যক্তির ওপর রহম করুন যখনই তার পরিবার তাকে দেখে তার ঘারে লাঠি ঝুলালো।আর এ সংক্রান্ত সবচেয়ে শক্তিশালী হাদীস হলোفَاضْرِبُوهُمْ عَلٰى تَرْكِهَا بِعَشْرٍ فِي الصِّبْيَانِতোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে তাদের বয়স যখন দশ বছর, এমতাবস্থায় যদি তারা সালাত ছেড়ে দেয়। এটা সুস্পষ্ট দলীল- সতর্কতামূলক শাস্তি প্রদান করা বৈধ। সাহাবীরাও এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছেন। আর তাম্রম্নতাশী সারাখসী থেকে উল্লেখ করে বলেন, সতর্কতামূলক শাস্তিতে কোনো সীমানা নেই বরং বিচারক যা ভালো মনে করেন তা করবেন। মূলতঃ উদ্দেশ্য হলো ধমকানো।মানুষও বিভিন্ন মানের তাদের মধ্যে কাউকে উপদেশের মাধ্যমে সতর্ক করবে, আবার কারো ক্ষেত্রে চর থাপ্পড়, আবার কারো ক্ষেত্রে কয়েদ করে রাখা। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
যে কোনো নেশা সৃষ্টিকারী পানীয় হারাম
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৬৩৭-[৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৬৩৭-[৪]
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْبِتْعِ وَهُوَ نَبِيذُ الْعَسَلِ فَقَالَ: «كُلُّ شَرَابٍ أَسْكَرَ فَهُوَ حَرَامٌ»
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বিত্'ই (মধুর প্রস্তুতকৃত মদ) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি (ﷺ) বললেন: যে কোনো নেশা সৃষ্টিকারী পানীয় হারাম।
[১] সহীহ : বুখারী ৫৫৮৬, মুসলিম ২০০১, আবূ দাঊদ ৩৬৮২, নাসায়ী ৫৫৯৪, তিরমিযী ১৮৬৩, আহমাদ ২৪৬৫২, দারিমী ২১৪২।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬৩৭-[৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে ‘বিত্ই’ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। এটি ছিল মধু থেকে প্রস্তুত পানীয়। নবী (صلى الله عليه وسلم) উত্তর দেন, যে কোনো নেশা সৃষ্টিকারী পানীয় হারাম। এখানে কোনো নির্দিষ্ট নামের ওপর হুকুম থেমে থাকেনি। পানীয়টি মধু থেকে তৈরি হোক বা অন্য কিছু থেকে—যদি তা নেশা তৈরি করে, তাহলে তা হারাম। এই বর্ণনা সহজভাবে নেশাজাতীয় পানীয়ের মূল নীতি শেখায়। অনেকে নাম বদলে বা উপাদান দেখিয়ে পানীয়কে আলাদা ভাবতে পারে, কিন্তু হাদিসে প্রভাবকে কেন্দ্র করা হয়েছে: নেশা সৃষ্টি করে কি না। তাই ‘সব নেশাজাতীয় পানীয় হারাম’—এই মূল শিক্ষা এখানে স্পষ্ট।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নেশা সৃষ্টিকারী পানীয় হারাম।
- পানীয়ের নাম বা উপাদান বদলালেও নেশা থাকলে হুকুম বদলায় না।
- মধু থেকে তৈরি পানীয়ও নেশা আনলে নিষিদ্ধ।
- হাদিসটি নেশাজাতীয় পানীয় চেনার সহজ নীতি দেয়।
