১৭/৫. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬৩৬-[৩] - মদ হারামের সময় খেজুরের পানীয়

মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা - প্রথম অনুচ্ছেদ

التَّعْزِيْزِহলো হাদ্দ ব্যতীত শিক্ষা দেয়া বা সতর্ক করা। ইবনু হুমাম বলেন : এটা কুরআন দ্বারা প্রমাণিত, আল্লাহ বলেনঃوَاضْرِبُوهُنَّ فَإِنْ أَطْعَنْكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا’‘এবং তাদেরকে প্রহার করো যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায় তবে আর তাদের জন্য অন্য কোনো পথ অনুসন্ধান করো না’’- (সূরা আন্ নিসা ৪ : ৩৪)। আয়াতে স্ত্রীদেরকে শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়ার জন্য প্রহারের আদেশ দিয়েছেন আল্লাহ তা‘আলা।‘কাফী‘তে রয়েছে,لَا تَرْفَعْ عَصَاكَ عَنْ أَهْلِكَরাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তুমি তোমার পরিবার থেকে তোমার লাঠিকে উঠিয়ে রাখবে না।নবী (ﷺ) আরো বলেছেন, আল্লাহ ঐ ব্যক্তির ওপর রহম করুন যখনই তার পরিবার তাকে দেখে তার ঘারে লাঠি ঝুলালো।আর এ সংক্রান্ত সবচেয়ে শক্তিশালী হাদীস হলোفَاضْرِبُوهُمْ عَلٰى تَرْكِهَا بِعَشْرٍ فِي الصِّبْيَانِতোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে তাদের বয়স যখন দশ বছর, এমতাবস্থায় যদি তারা সালাত ছেড়ে দেয়। এটা সুস্পষ্ট দলীল- সতর্কতামূলক শাস্তি প্রদান করা বৈধ। সাহাবীরাও এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছেন। আর তাম্রম্নতাশী সারাখসী থেকে উল্লেখ করে বলেন, সতর্কতামূলক শাস্তিতে কোনো সীমানা নেই বরং বিচারক যা ভালো মনে করেন তা করবেন। মূলতঃ উদ্দেশ্য হলো ধমকানো।মানুষও বিভিন্ন মানের তাদের মধ্যে কাউকে উপদেশের মাধ্যমে সতর্ক করবে, আবার কারো ক্ষেত্রে চর থাপ্পড়, আবার কারো ক্ষেত্রে কয়েদ করে রাখা। (মিরকাতুল মাফাতীহ)

মদ হারামের সময় কোন পানীয় ছিল

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৬৩৬-[৩]

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: لَقَدْ حُرِّمَتِ الْخَمْرُ حِينَ حُرِّمَتْ وَمَا نَجِدُ خَمْرَ الْأَعْنَابِ إِلَّا قَلِيلًا وَعَامة خمرنا الْبُسْر وَالتَّمْر. رَوَاهُ البُخَارِيّ

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

মদ যখন হারাম করা হয় তখন আমাদের মাঝে আঙ্গুরের তৈরি মদ খুব কমই পেতাম। আমাদের মদ সাধারণত কাঁচা ও পাকা খেজুর হতেই প্রস্তুত হয়।

[১] সহীহ : বুখারী ৫৫৮০, আহমাদ ১৩২৭৫।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬৩৬-[৩]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আনাস (রাঃ) মদ হারাম হওয়ার সময়কার বাস্তব অবস্থা জানান। তিনি বলেন, তখন তাদের মধ্যে আঙ্গুরের তৈরি মদ খুব কম পাওয়া যেত। তাদের মদ সাধারণত কাঁচা ও পাকা খেজুর থেকেই তৈরি হতো। এই বর্ণনা মদের ধারণাকে শুধু আঙ্গুরের পানীয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে না। বরং তখন খেজুর থেকে তৈরি নেশাজাতীয় পানীয়ও মদ হিসেবে পরিচিত ছিল। হাদিসটি ৩৬৩৪ ও ৩৬৩৫ নম্বর বর্ণনার সঙ্গে একই বিষয়ে সহায়ক। মূল শিক্ষা হলো—মদের নাম বা উৎস নয়, তার নেশা সৃষ্টিকারী প্রকৃতিই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই হাদিসের সরাসরি বক্তব্য হলো, মদ হারামের সময় প্রচলিত পানীয়ের বড় অংশ ছিল খেজুরভিত্তিক।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মদ হারামের সময় আঙ্গুরের মদ কম ছিল।
  • খেজুর থেকেও মদ প্রস্তুত হতো।
  • মদের পরিচয়কে শুধু এক উৎসে সীমাবদ্ধ করা ঠিক নয়।
  • হাদিসটি মদ হারামের সময়কার বাস্তব পানীয়ের ধরন জানায়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন