১৭/৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬৩৪-[১] - খেজুর ও আঙ্গুর থেকে মদের পরিচয়
মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা - প্রথম অনুচ্ছেদ
التَّعْزِيْزِহলো হাদ্দ ব্যতীত শিক্ষা দেয়া বা সতর্ক করা। ইবনু হুমাম বলেন : এটা কুরআন দ্বারা প্রমাণিত, আল্লাহ বলেনঃوَاضْرِبُوهُنَّ فَإِنْ أَطْعَنْكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا’‘এবং তাদেরকে প্রহার করো যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায় তবে আর তাদের জন্য অন্য কোনো পথ অনুসন্ধান করো না’’- (সূরা আন্ নিসা ৪ : ৩৪)। আয়াতে স্ত্রীদেরকে শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়ার জন্য প্রহারের আদেশ দিয়েছেন আল্লাহ তা‘আলা।‘কাফী‘তে রয়েছে,لَا تَرْفَعْ عَصَاكَ عَنْ أَهْلِكَরাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তুমি তোমার পরিবার থেকে তোমার লাঠিকে উঠিয়ে রাখবে না।নবী (ﷺ) আরো বলেছেন, আল্লাহ ঐ ব্যক্তির ওপর রহম করুন যখনই তার পরিবার তাকে দেখে তার ঘারে লাঠি ঝুলালো।আর এ সংক্রান্ত সবচেয়ে শক্তিশালী হাদীস হলোفَاضْرِبُوهُمْ عَلٰى تَرْكِهَا بِعَشْرٍ فِي الصِّبْيَانِতোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে তাদের বয়স যখন দশ বছর, এমতাবস্থায় যদি তারা সালাত ছেড়ে দেয়। এটা সুস্পষ্ট দলীল- সতর্কতামূলক শাস্তি প্রদান করা বৈধ। সাহাবীরাও এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছেন। আর তাম্রম্নতাশী সারাখসী থেকে উল্লেখ করে বলেন, সতর্কতামূলক শাস্তিতে কোনো সীমানা নেই বরং বিচারক যা ভালো মনে করেন তা করবেন। মূলতঃ উদ্দেশ্য হলো ধমকানো।মানুষও বিভিন্ন মানের তাদের মধ্যে কাউকে উপদেশের মাধ্যমে সতর্ক করবে, আবার কারো ক্ষেত্রে চর থাপ্পড়, আবার কারো ক্ষেত্রে কয়েদ করে রাখা। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
খেজুর ও আঙ্গুর থেকে মদ—হাদিসের ব্যাখ্যা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৬৩৪-[১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৬৩৪-[১]
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: الْخَمْرُ مِنْ هَاتَيْنِ الشَّجرتينِ: النخلةِ والعِنَبَةِ. رَوَاهُ مُسلم
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: দু' প্রকার গাছ থেকে (প্রকৃত) মদ প্রস্তুত হয়- সেটা হলো খেজুর ও আঙ্গুর।
[১] সহীহ : মুসলিম ১৯৮৫, আবূ দাঊদ ৩৬৭৮, নাসায়ী ৫৫৭৩, তিরমিযী ১৮৭৫, ইবনু মাজাহ ৩৩৭৮, আহমাদ ৭৫৫৩, সহীহাহ্ ৩১৫৯, সহীহ আল জামি‘ ৩৩৪৬।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬৩৪-[১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, দু’ প্রকার গাছ থেকে মদ প্রস্তুত হয়—খেজুর গাছ ও আঙ্গুর গাছ। বর্ণনাটি খুব সংক্ষিপ্ত, কিন্তু মদের উৎস সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেয়। তখনকার সমাজে মদ শুধু আঙ্গুর থেকে নয়, খেজুর থেকেও তৈরি হতো—এই কথাটি হাদিসের শব্দ থেকেই বোঝা যায়। তাই মদকে শুধু একটি ফল বা একটি নামের মধ্যে সীমাবদ্ধ ভাবা ঠিক নয়। নেশার সঙ্গে যুক্ত পানীয়ের বাস্তব উৎস বিভিন্ন হতে পারে। এই হাদিস ৩৬৩৫ ও ৩৬৩৭ নম্বর বর্ণনার সঙ্গে মিলিয়ে পড়লে বোঝা যায়, মূল প্রশ্ন হলো পানীয়টি জ্ঞান-বুদ্ধি নষ্ট করে কি না। তবে এই হাদিসের নিজস্ব বক্তব্য হলো—খেজুর ও আঙ্গুর মদের পরিচিত উৎস।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মদ আঙ্গুরের পাশাপাশি খেজুর থেকেও প্রস্তুত হতে পারে।
- নেশাজাতীয় পানীয়ের উৎস এক ধরনের নয়।
- মদের পরিচয় বুঝতে পানীয়ের বাস্তব প্রভাব বিবেচ্য।
- হাদিসটি মদের উৎস সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত শিক্ষা দেয়।
