৩০/১৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৪০১ - নেশাকর জিনিস হারাম
শরাবের পাত্রে নাবীয বানানো নিষেধ
সব নেশাকর জিনিস হারাম: নাবীযের পাত্র সম্পর্কে সতর্কতা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৪০১
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৪০১
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ أَنْ يُنْبَذَ فِي النَّقِيرِ وَالْمُزَفَّتِ وَالدُّبَّاءِ وَالْحَنْتَمَةِ وَقَالَ " كُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ " .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কাঠের পাত্রে, তৈলাক্ত পাত্রে, কদুর খোলের পাত্রে ও মাটির সবুজ পাত্রে নাবীয তৈরি করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আরও বলেনঃ সমগ্র নেশা সৃষ্টিকর জিনিস হারাম।
[৩৪০১] মুসলিম ১৯৯৩, নাসায়ী ৫৫৮৯, ৫৬৩০, ৫৬৩৭, ৫৬৪৬, আবু দাউদ ৩৬৯৩, আহমাদ ৭৬৯৪, ৮৪৪২, ৯০৯০, ১০১৩২, ১০২৮৯, ১০৫৮৮, মালেক ১৫৯২। তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ। উক্ত হাদীসের রাবী আবু আমর বিন মুহাম্মাদ বিন আমর বিন হুরায়স সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ তবে ইমাম যাহাবী বলেন, তাঁর পরিচয় সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদীস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবরাহীম বিন ইয়াকুব আল-জাওযুজানী বলেন, তিনি হাদীসের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদীস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। ইমাম দারাকুতনী তাকে দুর্বল বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫১৩, ২৬/২১২ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৪০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কাঠের পাত্র, তৈলাক্ত পাত্র, কদুর খোলের পাত্র এবং মাটির সবুজ পাত্রে নাবীয তৈরি করতে নিষেধ করেছেন। একই বর্ণনায় তিনি বলেছেন, সব নেশা সৃষ্টিকারী জিনিস হারাম। এখানে মূল বিষয় হলো নাবীয তৈরির পাত্র এবং নেশাকর দ্রব্য থেকে দূরে থাকা। হাদিসের ভাষা খুব পরিষ্কার। কিছু পাত্রের নাম উল্লেখ করে নিষেধ এসেছে, আর শেষে সাধারণ নীতি বলা হয়েছে যে নেশা সৃষ্টি করে এমন সব বস্তু হারাম। তাই এই হাদিস নাবীয, পানীয় এবং নেশা থেকে বাঁচার বিষয়ে মুসলিমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেয়। ব্যাখ্যায় এটুকুই যথেষ্ট যে পানীয় যদি নেশা সৃষ্টি করে, তা গ্রহণযোগ্য নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নাবীয তৈরির জন্য কিছু পাত্র থেকে বিরত থাকার নির্দেশ এসেছে।
- যে জিনিস নেশা সৃষ্টি করে, তা হারাম বলা হয়েছে।
- পানীয়ের ক্ষেত্রে শুধু নাম নয়, তার প্রভাবও বিবেচ্য।
