৩১/৩৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৫১৫ - বিষাক্ত দংশনে ঝাড়ফুঁকের অনুমতি
জায়েয ঝাড়ফুঁক সম্পর্কে।
বিষাক্ত প্রাণীর দংশনে ঝাড়ফুঁক: আমর বিন হাজম পরিবারের ঘটনা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৫১৫
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৫১৫
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ أَبِي الْخَصِيبِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عِيسَى، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ كَانَ أَهْلُ بَيْتٍ مِنَ الأَنْصَارِ يُقَالُ لَهُمْ آلُ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ يَرْقُونَ مِنَ الْحُمَةِ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ قَدْ نَهَى عَنِ الرُّقَى فَأَتَوْهُ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ قَدْ نَهَيْتَ عَنِ الرُّقَى وَإِنَّا نَرْقِي مِنَ الْحُمَةِ . فَقَالَ لَهُمُ " اعْرِضُوا عَلَىَّ " . فَعَرَضُوهَا عَلَيْهِ فَقَالَ «لاَ بَأْسَ بِهَذِهِ هَذِهِ مَوَاثِيقُ» .
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আনসার সম্প্রদায়ভুক্ত আমর বিন হাযম নামক পরিবার বিষাক্ত প্রাণীর দংশনে ঝাড়ফুঁক করতো। অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঝাড়ফুঁক করতে নিষেধ করেছেন। তারা তাঁর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো ঝাড়ফুঁক করতে নিষেধ করেছেন, অথচ আমরা বিষাক্ত প্রাণীর দংশনে ঝাড়ফুঁক করি। তিনি তাদের বলেনঃ সেগুলো আমার সামনে পেশ করো। তারা তা তাঁর নিকট পেশ করেন। তিনি বলেনঃ এগুলো দোষের কিছু নেই। এগুলো নির্ভরযোগ্য।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৫১৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনসারদের আমর বিন হাজম পরিবারের কথা এসেছে। তারা বিষাক্ত প্রাণীর দংশনে ঝাড়ফুঁক করত। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আগে ঝাড়ফুঁক করতে নিষেধ করেছিলেন বলে তারা বিষয়টি তাঁর কাছে পরিষ্কার করতে আসে। তারা বলে, আমরা বিষাক্ত প্রাণীর দংশনে ঝাড়ফুঁক করি। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) তাদের বলেন, সেগুলো আমার সামনে পেশ করো। তারা পেশ করলে তিনি বলেন, এগুলোতে দোষের কিছু নেই, এগুলো নির্ভরযোগ্য। এই হাদিসে ঝাড়ফুঁক যাচাই, বিষাক্ত দংশন, অনুমতি এবং সতর্কতার শিক্ষা আছে। অর্থাৎ যেকোনো রুকইয়া গ্রহণের আগে তা কী বলা হচ্ছে, তা দেখা গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসটি অনুমতি দেয়, কিন্তু যাচাইয়ের দিকটিও খুব স্পষ্ট করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিষাক্ত প্রাণীর দংশনে ঝাড়ফুঁকের অনুমতি এসেছে।
- ঝাড়ফুঁকের কথা নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর সামনে পেশ করা হয়েছিল।
- যাচাইয়ের পর গ্রহণযোগ্য হলে তা করতে দোষ নেই বলা হয়েছে।
- ধর্মীয় চিকিৎসায় সতর্কতা ও নির্ভরযোগ্যতা জরুরি।
