৩৩/৩৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৭৪১ - মন্দ নামে ডাকা থেকে বাঁচার শিক্ষা
উপাধি
মন্দ উপাধিতে ডাকা নিষেধ: সম্মানজনক সম্বোধনের শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৭৪১
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৭৪১
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ دَاوُدَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ أَبِي جَبِيرَةَ بْنِ الضَّحَّاكِ، قَالَ فِينَا نَزَلَتْ مَعْشَرَ الأَنْصَارِ {وَلاَ تَنَابَزُوا بِالأَلْقَابِ) قَدِمَ عَلَيْنَا النَّبِيُّ ـ ﷺ ـ وَالرَّجُلُ مِنَّا لَهُ الاِسْمَانِ وَالثَّلاَثَةُ فَكَانَ النَّبِيُّ ـ ﷺ ـ رُبَّمَا دَعَاهُمْ بِبَعْضِ تِلْكَ الأَسْمَاءِ فَيُقَالُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ يَغْضَبُ مِنْ هَذَا . فَنَزَلَتْ {وَلاَ تَنَابَزُوا بِالأَلْقَابِ} .
আবূ জাবীরাহ ইবনুদ দাহ্হাক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
“তোমরা একে অপরকে মন্দ উপাধিতে ডেকো না” (সূরা হুজুরাত : ১১) আয়াতটি আমাদের আনসারদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। নবী (ﷺ) আমাদের এখানে আসলেন। আমাদের কারো কারো দু’-তিনটি নাম ছিলো। নবী (ﷺ) কখনো কখনো সে সব নামের কোন কোনটি ধরে ডাকতেন। তাঁকে বলা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ নামে সে চটে যায়। তখন “তোমরা পরস্পরকে মন্দ নামে ডেকো না” শীর্ষক আয়াত নাযিল হয়।
[৩০৭৩] তিরমিযী ৩২৬৮।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৭৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, আনসারদের কিছু লোকের একাধিক নাম ছিল। নবী (صلى الله عليه وسلم) কখনো তাঁদের কোনো একটি নামে ডাকতেন। পরে জানানো হলো, এ নামে ডাকলে সে ব্যক্তি রাগ করে বা কষ্ট পায়। তখন তোমরা পরস্পরকে মন্দ উপাধিতে ডেকো না—এই আয়াত নাযিল হয়। এখানে মূল শিক্ষা হলো, নাম বা উপাধি শুধু শব্দ নয়; তা মানুষের মনে প্রভাব ফেলে। কাউকে এমন নামে ডাকা উচিত নয়, যা তার অপছন্দ বা অপমানের কারণ হয়। মুসলিম সমাজে ভদ্র ডাক, সম্মান ও সংবেদনশীলতা বজায় রাখা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষকে এমন নামে ডাকতে হবে যা তার জন্য কষ্টের কারণ না হয়।
- কথার মাধ্যমে অপমান করা ইসলামি আদবের সঙ্গে যায় না।
- কারো অপছন্দের নাম জানা গেলে তা ব্যবহার না করাই ভালো।
