৩৬/২১. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪০১৪ - ফিতনার যুগে আত্মরক্ষা ও ধৈর্য
আল্লাহর বানীঃ “আত্মসংশোধনই তোমাদের কর্তব্য”
ফিতনার যুগে ধৈর্য: আত্মসংশোধন ও সৎকাজের আদেশ
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪০১৪
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৪০১৪
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنِي عُتْبَةُ بْنُ أَبِي حَكِيمٍ، حَدَّثَنِي عَمِّي، عَمْرُو بْنُ جَارِيَةَ عَنْ أَبِي أُمَيَّةَ الشَّعْبَانِيِّ، قَالَ أَتَيْتُ أَبَا ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيَّ قَالَ قُلْتُ كَيْفَ تَصْنَعُ فِي هَذِهِ الآيَةِ قَالَ أَيَّةُ آيَةٍ قُلْتُ ﴾يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لاَ يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ﴿قَالَ سَأَلْتَ عَنْهَا خَبِيرًا سَأَلْتُ عَنْهَا رَسُولَ اللَّهِ ـ ﷺ ـ فَقَالَ «بَلِ ائْتَمِرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَتَنَاهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ حَتَّى إِذَا رَأَيْتَ شُحًّا مُطَاعًا وَهَوًى مُتَّبَعًا وَدُنْيَا مُؤْثَرَةً وَإِعْجَابَ كُلِّ ذِي رَأْىٍ بِرَأْيِهِ وَرَأَيْتَ أَمْرًا لاَ يَدَانِ لَكَ بِهِ فَعَلَيْكَ خُوَيْصَّةَ نَفْسِكَ وَدَعْ أَمْرَ الْعَوَامِّ فَإِنَّ مِنْ وَرَائِكُمْ أَيَّامَ الصَّبْرِ الصَّبْرُ فِيهِنَّ مِثْلُ قَبْضٍ عَلَى الْجَمْرِ لِلْعَامِلِ فِيهِنَّ مِثْلُ أَجْرِ خَمْسِينَ رَجُلاً يَعْمَلُونَ بِمِثْلِ عَمَلِهِ».
আবু উমায়্যাহ আশ-শা’বানী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি আবু সা’লাবাহ আল-খুশানী (রাঃ) এর নিকট এসে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, এই আয়াত সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বলেন, কোন আয়াত?আমি বললাম, এই আয়াত (অনুবাদ): “হে মুমিনগণ! আত্মসংশোধন করাই তোমাদের কর্তব্য। তোমরা যদি সৎপথে পরিচালিত হও তবে যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না”(সূরা মাইদাঃ ১০৫)।আমি এ আয়াত সম্পর্কে অধিক অবহিত ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করেছি। আমি এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করেছি। তিনি বলেনঃ বরং তোমরা সৎ কাজের আদেশ ও অন্যায় কাজে নিষেধ করতে থাকো। শেষে এমন এক যুগ আসবে যখন তুমি লোকদেরকে কৃপণতার আনুগত্য করতে, প্রবৃত্তির অনুসরণ করতে, পার্থিব স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে এবং প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে নিজের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে অহংকার করতে দেখবে। আর তুমি এমন সব গর্হিত কাজ হতে দেখবে যা প্রতিহত করার সামর্থ্য তোমার থাকবে না। এরূপ পরিস্থিতিতে তুমি নিজের হেফাজত করো এবং সর্বসাধারণের চিন্তা ছেড়ে দাও।তোমাদের পরে আসবে কঠিন ধৈর্যের পরীক্ষার যুগ। তখন ধৈর্যধারণ করাটা জ্বলন্ত অঙ্গার হাতের মুঠোয় রাখার মত কঠিন হবে। সে যুগে কেউ নেক আমল করলে তার সমকক্ষ পঞ্চাশ ব্যক্তির সওয়াব তাকে দান করা হবে।
[৩৩৪৬] তিরমিযী ৩০৫৮, আবু দাউদ ৪৩৪১। মিশকাত ৫১৪৪, সহীহাহ ৪৯৪।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪০১৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সূরা মায়িদার ১০۵ নম্বর আয়াত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم ব্যাখ্যা করেন, তোমরা সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজে নিষেধ করতে থাকো। এরপর এমন সময়ের কথা বলা হয়েছে, যখন কৃপণতার আনুগত্য, প্রবৃত্তির অনুসরণ, দুনিয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং নিজের মত নিয়ে অহংকার দেখা যাবে। তখন যদি এমন গর্হিত কাজ দেখা যায়, যা প্রতিহত করার সামর্থ্য নেই, নিজের হেফাজত করতে বলা হয়েছে। তাই হাদিসটি দুই দিক শেখায়: স্বাভাবিক সময়ে দায়িত্ব পালন, আর সামর্থ্যহীন কঠিন সময়ে নিজের ঈমান রক্ষা। শেষে ধৈর্যের যুগের কথা বলা হয়েছে, যখন নেক আমল করা জ্বলন্ত অঙ্গার হাতে রাখার মতো কঠিন হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আত্মসংশোধন মানে সৎকাজের আদেশ ছেড়ে দেওয়া নয়।
- সামর্থ্য না থাকলে নিজের ঈমান ও আমল রক্ষা করা দরকার।
- দুনিয়াকে অগ্রাধিকার ও নিজের মত নিয়ে অহংকার ফিতনার লক্ষণ হতে পারে।
- কঠিন সময়ে নেক আমল করতে ধৈর্য লাগে।
