৩৭/৩৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪৩০০ - শাহাদাহর চিরকুট ও আমলের পাল্লা
কিয়ামতের দিন আল্লাহর রহমাত লাভের আশা করা যায়
শাহাদাহর চিরকুট: কেয়ামতের মিজানে ঈমানের ওজন
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪৩০০
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৪৩০০
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، حَدَّثَنِي عَامِرُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ " يُصَاحُ بِرَجُلٍ مِنْ أُمَّتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى رُءُوسِ الْخَلاَئِقِ فَيُنْشَرُ لَهُ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ سِجِلاًّ كُلُّ سِجِلٍّ مَدَّ الْبَصَرِ ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ هَلْ تُنْكِرُ مِنْ هَذَا شَيْئًا فَيَقُولُ لاَ يَا رَبِّ فَيَقُولُ أَظَلَمَتْكَ كَتَبَتِي الْحَافِظُونَ ثُمَّ يَقُولُ أَلَكَ عُذْرٌ أَلَكَ حَسَنَةٌ فَيُهَابُ الرَّجُلُ فَيَقُولُ لاَ. فَيَقُولُ بَلَى إِنَّ لَكَ عِنْدَنَا حَسَنَاتٍ وَإِنَّهُ لاَ ظُلْمَ عَلَيْكَ الْيَوْمَ فَتُخْرَجُ لَهُ بِطَاقَةٌ فِيهَا أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ قَالَ فَيَقُولُ يَا رَبِّ مَا هَذِهِ الْبِطَاقَةُ مَعَ هَذِهِ السِّجِلاَّتِ فَيَقُولُ إِنَّكَ لاَ تُظْلَمُ. فَتُوضَعُ السِّجِلاَّتُ فِي كِفَّةٍ وَالْبِطَاقَةُ فِي كِفَّةٍ فَطَاشَتِ السِّجِلاَّتُ وَثَقُلَتِ الْبِطَاقَةُ " . قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْبِطَاقَةُ الرُّقْعَةُ وَأَهْلُ مِصْرَ يَقُولُونَ لِلرُّقْعَةِ بِطَاقَةً
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেয়ামতের দিন সমস্ত সৃষ্টির সামনে আমার এক উম্মতকে ডাকা হবে, অতঃপর তার সামনে নিরানব্বইটি দফতর পেশ করা হবে। প্রতিটি দফতর দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত দীর্ঘ হবে। মহান আল্লাহ বলবেন, তুমি কি এর কোন কিছু অস্বীকার করো? সে বলবে, না, হে আমার প্রভু! আল্লাহ বলবেন, তোমার উপর আমলনামা লেখক আমার ফেরেশতাগণ কি জুলুম করেছে? অতঃপর তিনি জিজ্ঞেস করবেন, তোমার নিকট কি কোন নেকী আছে? সে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে এবং বলবে, না। তখন আল্লাহ বলবেন, হাঁ, আমার নিকট তোমার কিছু নেকী জমা আছে। আজ তোমার উপর জুলুম করা হবে না।অতঃপর তার সামনে একটি চিরকুট তুলে ধরা হবে, যাতে লিপিবদ্ধ থাকবেঃ "আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর বান্দা ও রাসূল।" তখন সে বলবে, হে আমার রব! এতো বৃহৎ দফতরসমূহের তুলনায় এই ক্ষুদ্র চিরকুট আর কি উপকারে আসবে! তিনি বলবেন, তোমার প্রতি অন্যায় করা হবে না। অতঃপর সেই বৃহদাকার দফতরসমূহ এক পাল্লায় এবং সেই ক্ষুদ্র চিরকুটটি আরেক পাল্লায় রাখা হবে। এতে বৃহদাকার দফতরসমূহের পাল্লা হালকা হয়ে উপরে উঠে যাবে এবং ক্ষুদ্র চিরকুটের পাল্লা ভারী হয়ে যাবে। মুহাম্মাদ বিন ইয়াহিয়া বলেন, বিতাকা (চিরকুট) অর্থ রুক্আ (টুকরা), মিসরবাসী রুক্আকে বিতাকা বলে।
[৩৬৩২] (তিরমিযী ২৬৩৯। মিশকাত ৫৫৫৯, সহীহাহ ১৩৫, আত-তালীকুর রাগীব ২/২৪০, ২৪১।)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪৩০০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কেয়ামতের দিনের এক ভয়াবহ দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। এক উম্মতের সামনে নিরানব্বইটি দফতর পেশ করা হবে, যা তার গুনাহ ও আমলের রেকর্ড। সে কোনো কিছু অস্বীকার করবে না এবং ফেরেশতাদের জুলুমের কথাও বলবে না। এমন সময় আল্লাহ জানাবেন, তার জন্য একটি নেকি আছে। সেই নেকি হলো শাহাদাহর চিরকুট: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم তাঁর বান্দা ও রাসূল। মানুষটি ভাববে, এত বড় দফতরের সামনে ছোট চিরকুট কী করবে। কিন্তু মিজানে সেই শাহাদাহ ভারী হয়ে যাবে। হাদিসটি আমলনামা, মিজান ও তাওহীদের মর্যাদা বুঝায়। তবে এটি গুনাহকে হালকা ভাবার শিক্ষা নয়; বরং আল্লাহর ন্যায়বিচার ও ঈমানের মূল্য মনে করিয়ে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কেয়ামতের দিন মানুষের আমলনামা সামনে আনা হবে এবং কেউ অন্যায়ের শিকার হবে না।
- শাহাদাহ ও তাওহীদের সাক্ষ্য আল্লাহর কাছে খুব মূল্যবান।
- গুনাহের ভয় থাকা দরকার, তবে আল্লাহর ন্যায়বিচার ও রহমত থেকেও নিরাশ হওয়া ঠিক নয়।
