৩৭/৩৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪৩০৩ - দরিদ্র মুহাজির ও হাওদে কাওসার
হাওদ কাওসারের আলোচনা
দরিদ্র মুহাজিরদের মর্যাদা: হাওদে কাওসারের প্রথম পানকারী
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪৩০৩
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৪৩০৩
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُهَاجِرٍ، حَدَّثَنِي الْعَبَّاسُ بْنُ سَالِمٍ الدِّمَشْقِيُّ، نُبِّئْتُ عَنْ أَبِي سَلاَّمٍ الْحَبَشِيِّ، قَالَ بَعَثَ إِلَىَّ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ فَأَتَيْتُهُ عَلَى بَرِيدٍ فَلَمَّا قَدِمْتُ عَلَيْهِ قَالَ لَقَدْ شَقَقْنَا عَلَيْكَ يَا أَبَا سَلاَّمٍ فِي مَرْكَبِكَ. قَالَ أَجَلْ وَاللَّهِ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ. قَالَ وَاللَّهِ مَا أَرَدْتُ الْمَشَقَّةَ عَلَيْكَ وَلَكِنْ حَدِيثٌ بَلَغَنِي أَنَّكَ تُحَدِّثُ بِهِ عَنْ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ ـ ﷺ ـ فِي الْحَوْضِ فَأَحْبَبْتُ أَنْ تُشَافِهَنِي بِهِ.قَالَ فَقُلْتُ حَدَّثَنِي ثَوْبَانُ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ ـ ﷺ ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ ﷺ ـ قَالَ " إِنَّ حَوْضِي مَا بَيْنَ عَدَنَ إِلَى أَيْلَةَ أَشَدُّ بَيَاضًا مِنَ اللَّبَنِ وَأَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ أَوَانِيهِ كَعَدَدِ نُجُومِ السَّمَاءِ مَنْ شَرِبَ مِنْهُ شَرْبَةً لَمْ يَظْمَأْ بَعْدَهَا أَبَدًا وَأَوَّلُ مَنْ يَرِدُهُ عَلَىَّ فُقَرَاءُ الْمُهَاجِرِينَ الدُّنْسُ ثِيَابًا وَالشُّعْثُ رُءُوسًا الَّذِينَ لاَ يَنْكِحُونَ الْمُنَعَّمَاتِ وَلاَ يُفْتَحُ لَهُمُ السُّدَدُ " . قَالَ فَبَكَى عُمَرُ حَتَّى اخْضَلَّتْ لِحْيَتُهُ ثُمَّ قَالَ لَكِنِّي قَدْ نَكَحْتُ الْمُنَعَّمَاتِ وَفُتِحَتْ لِيَ السُّدَدُ لاَ جَرَمَ أَنِّي لاَ أَغْسِلُ ثَوْبِي الَّذِي عَلَى جَسَدِي حَتَّى يَتَّسِخَ وَلاَ أَدْهُنُ رَأْسِي حَتَّى يَشْعَثَ .
সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
(আবু সাল্লাম) বলেন, উমর বিন আবদুল আযীয (রহঃ) আমাকে ডেকে পাঠান। আমি একটি খচ্চরের পিঠে সাওয়ার হয়ে তাঁর নিকট আসি। আমি তাঁর নিকট পৌঁছলে তিনি বলেন, হে আবূ সাল্লাম! আমি আপনার বাহনের ব্যাপারে আপনাকে কষ্ট দিয়েছি। তিনি বলেন, হাঁ, আল্লাহর শপথ! হে আমিরুল মুমিনীন। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! আপনাকে কষ্ট দেওয়ার ইচ্ছা আমার ছিলো না। আমি জানতে পেরেছি যে, আপনি হাওয কাওসার সম্পর্কিত একটি হাদীস রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর মুক্তদাস সাওবান (রাঃ) -র সূত্রে বর্ণনা করেন। আমি সেই হাদীসখানি আপনার মুখে শুনতে আগ্রহী।আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর মুক্তদাস সাওবান (রাঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার হাওয এডেন থেকে আয়লা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এর পানি দুধের চেয়েও সাদা এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি। এর পাত্র সংখ্যা আকাশের তাঁরকারাজির সমান। যে কেউ এই হাওয থেকে এক ঢোক পানি পান করতে পারবে, সে আর কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না। দরিদ্র মুহাজিরগণ সর্বপ্রথম এর পানি পানের সৌভাগ্য লাভ করবে, যাদের মাথার চুল উস্কখুষ্ক, পোষাক ধুলি মলিন, যারা ধনবান পরিবারের মেয়েদের বিবাহ করতে পারেনি এবং যাদের আপ্যায়নের জন্য ঘরের দরজাসমূহ খোলা হয়নি।রাবী বলেন, (এ হাদীস শুনে) উমর (রহঃ) কেঁদে দিলেন, এমনকি তাঁর দাড়ি অশ্রুসিক্ত হয়ে গেলো। তিনি বলেন, আমি তো ধনীর দুলালী বিবাহ করেছি এবং আমার জন্য সব দরজাই তো উন্মুক্ত। এখন থেকে আমি আমার পরিধেয় বস্ত্র ময়লাযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত ধৌত করব না এবং মাথার চুল উষ্কখুষ্ক না হওয়া পর্যন্ত তৈল ব্যবহার করবো না।
[৩৬৩৫] (তিরমিযী ২৪৪৪। সহীহাহ ১০৮২, আস-সুন্নাহ লি ইবনু আবূ আসিম ৭০৭, ৭০৮, মিশকাত ৫৫৯২।)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪৩০৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হাওদে কাওসার সম্পর্কে একটি বিস্তারিত বর্ণনা এসেছে। আবু সাল্লামকে উমর বিন আবদুল আজিজ রহ. ডেকে হাদিসটি সরাসরি শুনতে চান। বর্ণনায় নবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, তাঁর হাওদ আদন থেকে আয়লা পর্যন্ত বিস্তৃত, এর পানি দুধের চেয়েও সাদা এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি। পাত্রগুলো আকাশের তারার মতো। যে ব্যক্তি সেখান থেকে এক ঢোক পানি পান করবে, সে আর তৃষ্ণার্ত হবে না। এ হাদিসে আরও আছে, দরিদ্র মুহাজিররা প্রথমে এর পানি পান করবে। তাদের পোশাক ধুলিমলিন, মাথা উস্কখুস্ক, ধনী ঘরের মেয়েদের বিয়ে করতে পারেনি এবং তাদের জন্য দরজা খোলা হতো না। এই বর্ণনা দুনিয়ার বাহ্যিক সম্মান নয়, আল্লাহর কাছে মর্যাদার কথা মনে করায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুনিয়ার দারিদ্র্য বা কম পরিচিত হওয়া আল্লাহর কাছে অপমানের চিহ্ন নয়।
- হাওদে কাওসারের পানি পান করা বড় নিয়ামত হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
- দরিদ্র মুহাজিরদের কষ্ট ও ধৈর্য এ হাদিসে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়েছে।
