৩৭/৩৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪৩২৫ - যাক্কুমের ভয়াবহতা ও তাকওয়ার ডাক
জাহান্নামের বর্ণনা
যাক্কুমের ভয়াবহতা: তাকওয়া ধরে রাখার শক্ত স্মরণ
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪৩২৫
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৪৩২৫
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ ﴾يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلاَ تَمُوتُنَّ إِلاَّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ ﴿ «وَلَوْ أَنَّ قَطْرَةً مِنَ الزَّقُّومِ قُطِرَتْ فِي الأَرْضِ لأَفْسَدَتْ عَلَى أَهْلِ الدُّنْيَا مَعِيشَتَهُمْ فَكَيْفَ بِمَنْ لَيْسَ لَهُ طَعَامٌ غَيْرُهُ».
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ আয়াত পড়লেন (অনুবাদ) : “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করো এবং তোমরা আত্মসমর্পণকারী না হয়ে কোন অবস্থায় মরো না” (সূরা আল ইমরানঃ ১০২)।যাককূমের একটি বিন্দুও যদি পৃথিবীতে পতিত হতো তাহলে দুনিয়াবাসীর জীবন দুর্বিষহ হয়ে যেতো। আর এটাই যাদের খাদ্য হবে তাদের কী অবস্থা হবে।
[৩৬৫৫] [তিরমিযী ২৫৮৫। আত তা'লীকুর রাগীব ৪/২৩৬, রাওদুন নাদীর ৪৫১।]
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪৩২৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) প্রথমে সূরা আলে ইমরানের আয়াত পড়েন, যেখানে ঈমানদারদের আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করতে বলা হয়েছে এবং মুসলিম অবস্থায় মৃত্যুবরণ করার কথা বলা হয়েছে। এরপর তিনি যাক্কুমের ভয়াবহতা বোঝান। যাক্কুমের একটি বিন্দু যদি পৃথিবীতে পড়ত, তাহলে দুনিয়াবাসীর জীবন দুর্বিষহ হয়ে যেত। আর যাদের খাদ্যই হবে যাক্কুম, তাদের অবস্থা কেমন হবে—এ প্রশ্নের মাধ্যমে ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো তাকওয়া, শেষ পর্যন্ত ইসলামের উপর থাকা এবং জাহান্নামের খাদ্য থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাকওয়া ধরে রাখা ঈমানদারের বড় দায়িত্ব।
- মুসলিম অবস্থায় মৃত্যুর জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হয়।
- যাক্কুমের বর্ণনা জাহান্নামের ভয়াবহ খাদ্যের কথা মনে করায়।
- আখিরাতের ভয় মানুষকে আল্লাহর আনুগত্যে ফিরিয়ে আনে।
