০/৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৬২ - মুরজিয়া ও কাদারিয়া সম্পর্কে সতর্কতা
ঈমানের বিবরণ
মুরজিয়া ও কাদারিয়া সম্পর্কে হাদিসের সতর্কবাণী
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৬২
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৬২
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ نِزَارٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ «صِنْفَانِ مِنْ هَذِهِ الأُمَّةِ لَيْسَ لَهُمَا فِي الإِسْلاَمِ نَصِيبٌ الْمُرْجِئَةُ وَالْقَدَرِيَّةُ " .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, এ উম্মাতের দু’টি শ্রেণীর জন্য ইসলামে কোন অংশ নেই- মুরজিয়া ও কাদারিয়া সম্প্রদায়।
[৬২] তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: যঈফ মিশকাত ১০৫, যিললুল জান্নাহ ৩২৪/৩২৫। উক্ত হাদিসের রাবী১. মুহাম্মদ ইবনু ফুদায়ল সম্পর্কে ইবনু মাঈন ও আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি সিকাহ। আবু যুর'আহ বলেন তিনি সত্যবাদী। ইমাম নাসাঈ বলেন কোন সমস্যা নেই। ইবনু হিব্বান তার সিকাহ হওয়ার ব্যাপারে আলোচনা করেছেন।২. আলী বিন নিযার সম্পর্কে ইয়াকুব বিন সুফিইয়ান তাকে দুর্বল বলেছেন। আল আযদী তাকে খুবই দুর্বল বলেছেন। ইমাম যাহাবী তাকে দইফ বা দুর্বল বলেছেন।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এ উম্মতের দুই শ্রেণি সম্পর্কে কঠোর কথা বলেছেন—মুরজিয়া ও কাদারিয়া। হাদিসের ভাষা সংক্ষিপ্ত, কিন্তু সতর্কতাটি খুব স্পষ্ট। এখানে মূল বিষয় হলো ঈমান, আমল এবং তাকদীর নিয়ে ভুল ধারণা থেকে বেঁচে থাকা। হাদিসে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, তাই এর বাইরে বাড়তি দাবি করা ঠিক নয়। তবে এতটুকু পরিষ্কার যে দ্বীনের মৌলিক বিশ্বাসে ভুল পথ গ্রহণ করা বিপজ্জনক। একজন মুমিনের কাজ হলো আল্লাহ, রাসূল (صلى الله عليه وسلم), ঈমানের রোকন এবং তাকদীর বিষয়ে সতর্ক থাকা। নিজের মতকে দ্বীনের উপর বসানো নয়; বরং নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর শেখানো পথে থাকা। এই হাদিস আমাদের বিশ্বাসের বিশুদ্ধতা নিয়ে সচেতন করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঈমান ও তাকদীর বিষয়ে ভুল ধারণা থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
- দ্বীনের মূল বিশ্বাসকে হালকা করে দেখা ঠিক নয়।
- নিজস্ব মতের চেয়ে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর শিক্ষা আগে রাখতে হবে।
- সংক্ষিপ্ত হাদিস হলেও এর সতর্কতা গভীর।
