০/৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৬৩ - জিবরীলের প্রশ্নে দ্বীনের মূল শিক্ষা
ঈমানের বিবরণ
ইসলাম, ঈমান ও ইহসান: জিবরীলের হাদিসের সহজ ব্যাখ্যা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৬৩
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৬৩
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ كَهْمَسِ بْنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ، قَالَ كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ ـ ﷺ ـ فَجَاءَ رَجُلٌ شَدِيدُ بَيَاضِ الثِّيَابِ شَدِيدُ سَوَادِ شَعَرِ الرَّأْسِ لاَ يُرَى عَلَيْهِ أَثَرُ السَّفَرِ وَلاَ يَعْرِفُهُ مِنَّا أَحَدٌ . قَالَ فَجَلَسَ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ ـ ﷺ ـ فَأَسْنَدَ رُكْبَتَهُ إِلَى رُكْبَتِهِ وَوَضَعَ يَدَيْهِ عَلَى فَخِذَيْهِ . ثُمَّ قَالَ يَا مُحَمَّدُ مَا الإِسْلاَمُ قَالَ «شَهَادَةُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ وَإِقَامُ الصَّلاَةِ وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ وَصَوْمُ رَمَضَانَ وَحَجُّ الْبَيْتِ». قَالَ صَدَقْتَ . فَعَجِبْنَا مِنْهُ يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقُهُ . ثُمَّ قَالَ يَا مُحَمَّدُ مَا الإِيمَانُ قَالَ «أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلاَئِكَتِهِ وَرُسُلِهِ وَكُتُبِهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ " . قَالَ صَدَقْتَ . فَعَجِبْنَا مِنْهُ يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقُهُ . ثُمَّ قَالَ يَا مُحَمَّدُ مَا الإِحْسَانُ قَالَ «أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنَّكَ إِنْ لاَ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ». قَالَ فَمَتَى السَّاعَةُ قَالَ «مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ " . قَالَ فَمَا أَمَارَتُهَا قَالَ «أَنْ تَلِدَ الأَمَةُ رَبَّتَهَا " . قَالَ وَكِيعٌ يَعْنِي تَلِدُ الْعَجَمُ الْعَرَبَ «وَأَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ الْعَالَةَ رِعَاءَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبِنَاءِ». قَالَ ثُمَّ قَالَ فَلَقِيَنِي النَّبِيُّ ـ ﷺ ـ بَعْدَ ثَلاَثٍ فَقَالَ «أَتَدْرِي مَنِ الرَّجُلُ " . قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ . قَالَ «ذَاكَ جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ مَعَالِمَ دِينِكُمْ»
উমর (ইবনুল খাত্তাব) (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা নবী (ﷺ)-এর কাছে উপবিষ্ট থাকা অবস্থায় ধবধবে সাদা পোশাক পরিহিত ও মাথায় গাঢ় কালো চুলবিশিষ্ট এক ব্যক্তি এসে হাজির হন। তার চেহারায় সফরের কোন ছাপ দেখা যাচ্ছিল না এবং আমাদের কেউই তাকে চিনে না। রাবী বলেন, তিনি নবী (ﷺ)-এর সামনে বসলেন, তার হাঁটুদ্বয় মহানবী (ﷺ)-এর হাঁটুদ্বয়ের সাথে সাথে লাগিয়ে এবং তার দু’হাত তাঁর দু’ উরুর উপর রেখে, তারপর জিজ্ঞেস করেন, হে মুহাম্মাদ! ইসলাম কী? তিনি বলেন, এই সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, আমি আল্লাহ্র রাসূল, সালাত আদায় করা, যাকাত দেয়া, রমাযানের সাওম পালন করা এবং আল্লাহ্র ঘরের হজ্জ করা। তিনি (আগন্তুক) বলেন, আপনি সত্য কথা বলেছেন। আমরা তার এ কথায় অবাক হলাম যে, তিনিই জিজ্ঞেস করলেন এবং তিনিই তা সত্যায়ন করলেন।অতঃপর তিনি জিজ্ঞেস করেন, হে মুহাম্মাদ! ঈমান কী? তিনি বলেন, তুমি ঈমান আনবে আল্লাহ্র উপর, তাঁর মালায়িকার, তাঁর রাসূলগণের, তাঁর কিতাবসমূহে, আখিরাতের দিনে এবং তাকদীরে ও তার ভালো-মন্দে। আগন্তুক বলেন, আপনি সত্য কথা বলেছেন। আমরা এবারও তার কথায় অবাক হলাম যে, তিনিই প্রশ্ন করছেন এবং তিনিই তা সত্যায়ন করছেন।তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করেন, হে মুহাম্মাদ! ইহসান কী? তিনি বলেন, তুমি এমনভাবে আল্লাহ্র ইবাদাত করো যেন তুমি তাঁকে দেখছো, যদি তুমি তাঁকে না দেখো নিশ্চয় তিনি তোমাকে দেখছেন। তিনি বলেন, মুহূর্তটি (কেয়ামাত) কখন আসবে? তিনি বলেন, এ সম্পর্কে উত্তরদাতা প্রশ্নকর্তার চেয়ে অধিক কিছু জানে না। তিনি বলেন, তাহলে এর আলামত কী? তিনি বলেন, ক্রীতদাসী তার মনিবকে প্রসব করবে। ওয়াকী‘ (রহঃ) বলেন, অর্থাৎ অনারবদের ঔরসে আরবরা জন্মগ্রহণ করবে। তুমি দেখতে পাবে নগ্নদেহ, নগ্নপদ ও অভাবগ্রস্ত মেষ চারকরা সুউচ্চ ইমারতের মালিক হয়ে অহংকারে ফেটে পড়বে।উমর (রাঃ) বলেন, এ ঘটনার তিন দিন পর নবী (ﷺ) আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বলেন, লোকটি কে, তুমি কি তা জানো? আমি বললাম, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত। তিনি বলেন, ইনি হলেন জিবরীল (আঃ), দ্বীনের বিষয়াদি শিক্ষা দেয়ার জন্য তোমাদের নিকট এসেছেন।
[৬৩] মুসলিম ৮, তিরমিযী ২৬১০, নাসায়ী ৪৯৯০, ৪৬৯৫; আহমাদ ১৮৫, ৩৬৯, ৩৭৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ফিলাল ১২০-১২৭ ইরওয়াহ ৩৩-৩৪।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৬৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ব্যক্তি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে ইসলাম, ঈমান, ইহসান এবং কেয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। পরে নবী (صلى الله عليه وسلم) জানান, তিনি ছিলেন জিবরীল (আঃ), যিনি দ্বীনের বিষয় শেখাতে এসেছিলেন। ইসলাম সম্পর্কে বলা হয়েছে—শাহাদাত, সালাত, যাকাত, রমজানের সাওম এবং হজ্জ। ঈমান সম্পর্কে বলা হয়েছে—আল্লাহ, ফেরেশতা, রাসূলগণ, কিতাবসমূহ, পরকাল এবং তাকদীরের ভালো-মন্দে বিশ্বাস। ইহসান হলো এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করা, যেন বান্দা আল্লাহকে দেখছে; আর তা না পারলেও বিশ্বাস রাখা যে আল্লাহ তাকে দেখছেন। কেয়ামতের সময় নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি, বরং কিছু আলামত বলা হয়েছে। এই হাদিস দ্বীনের ভিত্তি খুব সুন্দরভাবে এক জায়গায় এনে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইসলাম শুধু দাবি নয়; সালাত, যাকাত, সাওম ও হজ্জের মতো আমলও এর অংশ।
- ঈমানের মূল বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে জানা দরকার।
- ইহসান মানুষকে আল্লাহর নজরদারির অনুভূতি নিয়ে ইবাদত শেখায়।
- কেয়ামতের নির্দিষ্ট সময়ের জ্ঞান আল্লাহর কাছেই।
