০/৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৬৪ - ঈমান ইসলাম ইহসান ও কেয়ামতের জ্ঞান
ঈমানের বিবরণ
ঈমান, ইসলাম ও ইহসান: দ্বীনের মূল ভিত্তি
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৬৪
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৬৪
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ أَبِي حَيَّانَ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ يَوْمًا بَارِزًا لِلنَّاسِ . فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الإِيمَانُ قَالَ «أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلاَئِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَلِقَائِهِ وَتُؤْمِنَ بِالْبَعْثِ الآخِرِ». قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الإِسْلاَمُ قَالَ " أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ وَلاَ تُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَتُقِيمَ الصَّلاَةَ الْمَكْتُوبَةَ وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ الْمَفْرُوضَةَ وَتَصُومَ رَمَضَانَ». قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الإِحْسَانُ قَالَ " أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنَّكَ إِنْ لاَ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ». قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَتَى السَّاعَةُ قَالَ «مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ وَلَكِنْ سَأُحَدِّثُكَ عَنْ أَشْرَاطِهَا إِذَا وَلَدَتِ الأَمَةُ رَبَّتَهَا فَذَلِكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا وَإِذَا تَطَاوَلَ رِعَاءُ الْغَنَمِ فِي الْبُنْيَانِ فَذَلِكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا فِي خَمْسٍ لاَ يَعْلَمُهُنَّ إِلاَّ اللَّهُ " . فَتَلاَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ {إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَىِّ أَرْضٍ تَمُوتُ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ﴿.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকবেষ্টিত থাকা অবস্থায় এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহ্র রাসূল! ঈমান কী? তিনি বলেন, তুমি ঈমান আনবে আল্লাহ্র উপর, তাঁর মালায়িকাহ, তাঁর কিতাবসমূহে, তাঁর রাসূলগণের, তাঁর সাথে সাক্ষাতে এবং তুমি আরো ঈমান আনবে পুনরুত্থান দিবসে।সে বললো, হে আল্লাহ্র রাসূল! ইসলাম কী? তিনি বলেন, তুমি আল্লাহ্র ইবাদাত করবে, তাঁর সাথে কোন কিছু শারীক করবে না, ফার্দ সালাত আদায় করবে, ফার্দ যাকাত প্রদান করবে এবং রমাদানের সাওম পালন করবে। সে বললো, হে আল্লাহ্র রাসূল! ইহসান কী? তিনি বলেন, তুমি এমনভাবে আল্লাহ্র ইবাদাত করো যেন তুমি তাঁকে দেখছো। যদি তুমি তাঁকে দেখতে সক্ষম না হও, তবে তিনি নিশ্চয় তোমাকে দেখছেন।সে বললো, হে আল্লাহ্র রাসূল! তিনি বলেন, মুহূর্তটি (কেয়ামাত) কখন আসবে? তিনি বলেন, এ বিষয়ে উত্তরদাতা প্রশ্নকারীর চাইতে অধিক কিছু জানে না। তবে আমি তোমাকে তার কতিপয় শর্ত (আলামত) সম্পর্কে বলছি। ক্রীতদাসী যখন তার মনিবকে প্রসব করবে। সেটা কেয়ামাতের শর্তাবলীর অন্তর্ভুক্ত। যখন মেষ চারকরা সুউচ্চ দালান-কোঠার (মালিক হয়ে) অহংকারে ফেটে পড়বে এটাও তার শর্তাবলীর অন্তর্ভুক্ত। পাঁচটি বিষয় সম্পর্কে আল্লাহ্ ব্যতীত কেউ জানে না।তারপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিলাওয়াত করেন (অনুবাদ): “কেয়ামাতের জ্ঞান কেবল আল্লাহ্র নিকট রয়েছে, তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তিনি জানেন যা জরায়ুতে আছে। কেউ জানে না আগামীকাল (বা ভবিষ্যতে) সে কী উপার্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন স্থানে সে মরবে। নিশ্চয় আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে অবহিত”-(সূরা লোকমানঃ ৩৪)।
[৬৪] বুখারী ৫০, ৪৭৭৭; মুসলিম ৯-১০, নাসায়ী ৪৯৯১, আহমাদ ৯২১৭। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৬৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে ঈমান, ইসলাম, ইহসান এবং কেয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। ঈমানের উত্তরে আল্লাহ, ফেরেশতা, কিতাব, রাসূল, আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ এবং পুনরুত্থান দিবসের কথা এসেছে। ইসলাম সম্পর্কে বলা হয়েছে—আল্লাহর ইবাদত করা, তাঁর সাথে কিছু শরীক না করা, ফরজ সালাত আদায় করা, ফরজ যাকাত দেওয়া এবং রমজানের সাওম রাখা। ইহসানের শিক্ষা হলো, আল্লাহকে দেখার মতো মন নিয়ে ইবাদত করা; আর মানুষ আল্লাহকে না দেখলেও আল্লাহ তাকে দেখছেন—এ বিশ্বাস রাখা। কেয়ামতের সময় বলা হয়নি, বরং তার কিছু আলামত বলা হয়েছে। শেষে পাঁচটি বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহর কাছেই আছে—এ কথা কুরআনের আয়াতের মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঈমানের বিষয়গুলো অন্তরে বিশ্বাস করতে হয়।
- ইসলাম আল্লাহর ইবাদত ও ফরজ আমলের সাথে জড়িত।
- ইহসান ইবাদতে মনোযোগ ও আল্লাহভীতির শিক্ষা দেয়।
- কেয়ামতের নির্দিষ্ট সময় মানুষ জানে না।
