৪/১৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৭৭৭ - পাঁচ ওয়াক্ত জামাআতের গুরুত্ব
পদব্রজে সালাত আদায় করতে যাওয়া।
পাঁচ ওয়াক্ত জামাআতের গুরুত্ব: মসজিদে সালাতের প্রতি যত্ন
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৭৭৭
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৭৭৭
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ الْهَجَرِيِّ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَلْقَى اللَّهَ غَدًا مُسْلِمًا فَلْيُحَافِظْ عَلَى هَؤُلاَءِ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ حَيْثُ يُنَادَى بِهِنَّ فَإِنَّهُنَّ مِنْ سُنَنِ الْهُدَى وَإِنَّ اللَّهَ شَرَعَ لِنَبِيِّكُمْ ـ ﷺ ـ سُنَنَ الْهُدَى وَلَعَمْرِي لَوْ أَنَّ كُلَّكُمْ صَلَّى فِي بَيْتِهِ لَتَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ وَلَوْ تَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ لَضَلَلْتُمْ وَلَقَدْ رَأَيْتُنَا وَمَا يَتَخَلَّفُ عَنْهَا إِلاَّ مُنَافِقٌ مَعْلُومُ النِّفَاقِ وَلَقَدْ رَأَيْتُ الرَّجُلَ يُهَادَى بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ حَتَّى يَدْخُلَ فِي الصَّفِّ وَمَا مِنْ رَجُلٍ يَتَطَهَّرُ فَيُحْسِنُ الطُّهُورَ فَيَعْمِدُ إِلَى الْمَسْجِدِ فَيُصَلِّي فِيهِ فَمَا يَخْطُو خَطْوَةً إِلاَّ رَفَعَ اللَّهُ لَهُ بِهَا دَرَجَةً وَحَطَّ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةً .
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যে ব্যক্তি আগামীতে (কেয়ামাতে) মুসলিম হিসেবে আল্লাহ্র সাথে সাক্ষাৎ করে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন এই পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের প্রতি যত্নবান হয়, যেখানে তার জন্য আযান দেয়া হয়। কেননা এটাই হল হেদায়াতের উত্তম পন্থা। আর আল্লাহ তোমাদের নবী (ﷺ)-এর জন্য হেদায়াতের পন্থা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আমার জীবনের শপথ! তোমাদের সকলে যদি নিজ নিজ বাড়িতে সালাত পড়ো, তবে তোমরা অবশ্যই তোমাদের নবীর সুন্নাত ত্যাগ করলে। আর তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাত ত্যাগ করলে অবশ্যই পথভ্রষ্ট হয়ে গেলে।অবশ্যই আমরা প্রকাশ্য মুনাফিক ব্যতীত অপর কাউকে সালাতের জামাআত ত্যাগ করতে দেখতাম না। আমি এমন ব্যক্তিকেও দেখেছি, যিনি দু’ব্যক্তির কাঁধে ভর করে জামাআতের কাতারে শরীক হতেন। যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওজু করে মসজিদে উপস্থিত হয়ে সালাত পড়ে, তার প্রতিটি কদমের বিনিময়ে আল্লাহ তার এক ধাপ মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং তার একটি গুনাহ মুছে দেন।
[৭৭৫] মুসলিম ৬৫৪, আবূ দাঊদ ৫৫০, আহমাদ ৩৫৫৪, দারিমী ১২৭৭। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৩৮৮, সহীহ আবূ দাউদ ৫৫৯। উক্ত হাদিসের রাবী ইবরাহীম আল হাজারী সম্পর্কে আল আযদী বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু হাদিস বর্ণনায় অধিক সন্দেহ করেন। ইবনু মাঈন, আবু যুরআহ আর-রাযী ও মুহাম্মাদ বিন সা'দ তাকে দুর্বল বলেছেন। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। ইয়াকুব বিন সুফইয়ান বলেন, তার হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৭৭৭-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি মুসলিম হিসেবে আল্লাহর সাথে সাক্ষাতে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের যত্ন নেয়, যেখানে আজান দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, এগুলো হেদায়াতের পথের অন্তর্ভুক্ত। আরও বলা হয়েছে, সবাই যদি নিজ নিজ ঘরে সালাত পড়ে, তবে নবী صلى الله عليه وسلم-এর সুন্নাত ত্যাগ করা হয়। বর্ণনায় জামাআত ত্যাগের বিষয়েও কঠোর সতর্কতা এসেছে এবং সাহাবীদের সময়ে অসুস্থ ব্যক্তিকেও দুইজনের কাঁধে ভর দিয়ে কাতারে আসতে দেখা গেছে। শেষে আবার ভালো ওজু করে মসজিদে যাওয়ার প্রতিটি কদমে মর্যাদা বৃদ্ধি ও গুনাহ মোচনের কথা এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পাঁচ ওয়াক্ত সালাত যেখানে আজান হয়, সেখানে যত্নের সাথে আদায় করার শিক্ষা এসেছে।
- মসজিদের জামাআতকে হেদায়াতের পথের অংশ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- সাহাবীদের মধ্যে জামাআতে উপস্থিতির প্রবল আগ্রহ ছিল।
- ভালো ওজু করে মসজিদে গেলে প্রতিটি কদম মূল্যবান হয়।
