৫/২৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৯০৭ - দরূদের ফজিলত ও ফেরেশতাদের দোয়া
নবী (ﷺ) - এর প্রতি দরূদ পাঠ।
দরূদের ফজিলত: দরূদ পড়লে ফেরেশতাদের দোয়া
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৯০৭
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৯০৭
حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ أَبُو بِشْرٍ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ ـ ﷺ ـ قَالَ " مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُصَلِّي عَلَىَّ إِلاَّ صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلاَئِكَةُ مَا صَلَّى عَلَىَّ فَلْيُقِلَّ الْعَبْدُ مِنْ ذَلِكَ أَوْ لِيُكْثِرْ " .
আমির বিন রাবীআহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেন, যখন কোন মুসলিম ব্যক্তি আমার প্রতি দরূদ পাঠ করে এবং যতক্ষণ সে আমার প্রতি দরূদ পাঠরত থাকে, ততক্ষণ ফেরেশতাগণ তার জন্য দোয়া করতে থাকেন। অতএব বান্দা চাইলে তার পরিমাণ (দরূদ পাঠ) কমাতেও পারে বা বাড়াতেও পারে।
হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী আসিম বিন উবায়দুল্লাহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তাঁর হাদিস দলীলযোগ্য নয় এবং তিনি দুর্বল। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তাঁর দ্বারা দলীল সাব্যস্ত করা যাবে না।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৯০৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দরূদের ফজিলত খুব সহজ ভাষায় এসেছে। নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, কোনো মুসলিম যখন তাঁর প্রতি দরূদ পাঠ করে, যতক্ষণ সে দরূদ পাঠরত থাকে, ততক্ষণ ফেরেশতাগণ তার জন্য দোয়া করতে থাকেন। এরপর বলা হয়েছে, বান্দা চাইলে এর পরিমাণ কমাতে পারে বা বাড়াতে পারে। এই কথায় দরূদ পড়ার উৎসাহ আছে, কিন্তু অতিরঞ্জিত কোনো দাবি করা হয়নি। মূল শিক্ষা হলো, দরূদ নবী صلى الله عليه وسلم-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের আমল এবং এটি এমন একটি দোয়া, যার সঙ্গে ফেরেশতাদের দোয়ার সম্পর্ক হাদিসে উল্লেখ হয়েছে। তাই দরূদ শরিফ নিয়মিত পড়া একজন মুসলিমের জন্য কল্যাণের কারণ হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দরূদ পড়লে ফেরেশতারা দোয়া করেন—এ কথা হাদিসে এসেছে।
- দরূদ কম বা বেশি পড়ার সুযোগের কথা বলা হয়েছে।
- দরূদ নবী صلى الله عليه وسلم-এর প্রতি ভালোবাসা ও সম্মানের আমল।
- দরূদের ফজিলত মানুষকে এই আমলের দিকে উৎসাহিত করে।
