৫/৪০. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৯৫৯ - কথা বলা ও ঘুমন্ত ব্যক্তির পেছনে সালাত নিষেধ
কোন ব্যক্তি তার ও কিবলার মাঝখানে কিছু থাকা অবস্থায় সালাত পড়লে।
কথা বলা বা ঘুমন্ত ব্যক্তির পেছনে সালাত: নিষেধের শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৯৫৯
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৯৫৯
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنِي أَبُو الْمِقْدَامِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ أَنْ يُصَلَّى خَلْفَ الْمُتَحَدِّثِ وَالنَّائِمِ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বাক্যালাপে রত ব্যক্তি ও ঘুমন্ত ব্যক্তির পেছনে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।
[৯৫৯] আবূ দাঊদ ৬৯৪ তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৩৭৫, সহীহ আবী দাউদ ৬৯২। উক্ত হাদিসের রাবী যায়দ ইবনুল হুবাব সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। আলী ইবনুল মাদীনী ও উসমান বিন আবু শায়বাহ তাকে সিকাহ বলেছেন।২. আবুল মিকদাম সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। ইমাম বুখারী বলেন, তার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। আবু যুরআহ আর-রাযী ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি গায়ির সিকাহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৯৫৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বাক্যালাপে রত ব্যক্তি ও ঘুমন্ত ব্যক্তির পেছনে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। বর্ণনাটি খুব সরাসরি। এখানে দুই ধরনের অবস্থার কথা এসেছে—একজন কথা বলছে, আরেকজন ঘুমাচ্ছে। হাদিসের আলোচ্য বিষয় সালাতের সামনে বা পেছনের পরিবেশের সাথে যুক্ত। সালাতের সময় মনোযোগ, স্থিরতা এবং সামনে-পেছনের অবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে—এটা এই নিষেধ থেকে বোঝা যায়। তবে হাদিসে যতটুকু আছে, তার বাইরে বাড়তি কারণ বা গল্প যোগ করা ঠিক নয়। “ঘুমন্ত ব্যক্তির পেছনে সালাত”, “কথা বলা ব্যক্তির পেছনে নামাজ” এবং “সালাতের আদব”—এই হাদিসের প্রধান কীওয়ার্ড।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কথা বলা ব্যক্তির পেছনে সালাত আদায় করতে নিষেধ করা হয়েছে।
- ঘুমন্ত ব্যক্তির পেছনে সালাত আদায় করতেও নিষেধ এসেছে।
- সালাতের পরিবেশে মনোযোগ ও স্থিরতার দিকটি গুরুত্ব পায়।
