৫/৪৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৯৮৬ - মুআজ রাঃ ও দীর্ঘ সালাতের শিক্ষা
যে ব্যক্তি লোকদের ইমামতি করে সে যেন (সালাত) সহজ (সংক্ষিপ্ত) করে।
মুআজ রাঃ-এর ঘটনা: ইমামের কিরাআত কতটা সহজ হবে?
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৯৮৬
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৯৮৬
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ صَلَّى مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ الأَنْصَارِيُّ بِأَصْحَابِهِ صَلاَةَ الْعِشَاءِ فَطَوَّلَ عَلَيْهِمْ فَانْصَرَفَ رَجُلٌ مِنَّا فَصَلَّى فَأُخْبِرَ مُعَاذٌ عَنْهُ فَقَالَ إِنَّهُ مُنَافِقٌ . فَلَمَّا بَلَغَ ذَلِكَ الرَّجُلَ دَخَلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ـ ﷺ ـ فَأَخْبَرَهُ مَا قَالَ لَهُ مُعَاذٌ فَقَالَ النَّبِيُّ ـ ﷺ ـ «أَتُرِيدُ أَنْ تَكُونَ فَتَّانًا يَا مُعَاذُ إِذَا صَلَّيْتَ بِالنَّاسِ فَاقْرَأْ بِالشَّمْسِ وَضُحَاهَا وَسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى وَاقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ " .
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মুআয বিন জাবাল আল আনসারী (রাঃ) তার সাথীদের নিয়ে ইশার সালাত পড়লেন। তিনি তাদের সালাত দীর্ঘ করলেন। ফলে আমাদের মধ্যকার এক ব্যক্তি (সালাত থেকে) পৃথক হয়ে একাকী সালাত পড়ে। মুআয (রাঃ) কে তার সম্পর্কে অবহিত করা হলে তিনি বলেন, নিশ্চয় সে মুনাফিক। লোকটি তা জানতে পেরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে তার সম্পর্কে মুআয (রাঃ) এর মন্তব্য তাঁকে অবহিত করেন। নবী (ﷺ) বলেন, হে মুআয! তুমি কি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী হতে চাও? তুমি যখন লোকদের নিয়ে সালাত পড়বে, তখন সূরা আস-শামসি ওয়া যুহাহা, সূরা আল-আলা, সূরা ওয়াল-লাইল ও সূরা ইকরা বিসমি রব্বিকা পাঠ করবে।
[৯৮৬] বুখারী ৭০১, ৭০৫, ৬১০৬; মুসলিম ৪৩১-২, নাসায়ী ৮৩১, ৮৩৫, ৯৮৪, ৯৯৭-৯৮; আবূ দাঊদ ৭৯০, আহমাদ ১৩৭৭৮, ১৩৮৯৫, ১৪৫৪৩; দারিমী ১২৯৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ ইবনু মুয়াঈমাছ ১৬৩৩।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৯৮৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুআজ বিন জাবাল (রাঃ)-এর একটি ঘটনা এসেছে। তিনি ইশার সালাতে সাথীদের নিয়ে নামাজ পড়ান এবং সালাত দীর্ঘ করেন। একজন ব্যক্তি জামাত থেকে আলাদা হয়ে একাকী সালাত পড়েন। পরে মুআজ (রাঃ) তাকে মুনাফিক বলেন। লোকটি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে গিয়ে বিষয়টি জানালে নবী (صلى الله عليه وسلم) মুআজ (রাঃ)-কে বলেন, তুমি কি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী হতে চাও? এরপর তিনি কিছু সূরার নাম বলেন, যেমন সূরা আশ-শামস, আল-আ’লা, আল-লাইল এবং ইকরা। হাদিসটি শেখায়, ইমামের কিরাআত এমন হওয়া উচিত যাতে মুক্তাদীদের কষ্ট না হয়। কারো অবস্থার কারণে আলাদা হওয়া দেখেই কঠিন কথা বলা থেকেও সতর্ক থাকা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইমামকে মুক্তাদীদের সামর্থ্য অনুযায়ী কিরাআত করতে হবে।
- দীর্ঘ সালাতের কারণে মানুষ কষ্ট পেলে তা সংশোধন করা উচিত।
- কারো কাজ দেখে দ্রুত কঠিন মন্তব্য করা উচিত নয়।
