২২/৬. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০০৬ - ঋণগ্রহীতাকে অবকাশ দেওয়ার শিক্ষা
অসচ্ছল ব্যক্তিকে সুযোগ দেয়ার ফাযায়েল।
ঋণগ্রহীতাকে সময় দেওয়া: নরম ব্যবহারের মূল্য
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১০০৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১০০৬
حديث حُذَيْفَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: تَلَقَّتِ الْمَلاَئِكَةُ رُوحَ رَجُلٍ مِمَّنْ كَانَ قَبْلَكُمْ، قَالُوا أَعَمِلْتَ مِنَ الْخَيْرِ شَيْئًا، قَالَ: كُنْتُ آمُرُ فِتْيَانِي أَنْ يُنْظِرُوا وَيَتَجَاوَزُوا عَنِ الْمُوسِرِ، قَالَ: قَالَ فَتَجَاوَزُوا عَنْهُ
হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে এক ব্যক্তির রূহের সাথে ফেরেশতা সাক্ষাৎ করে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি কোন নেক কাজ করেছ? লোকটি উত্তর দিল, আমি আমার কর্মচারীদের আদেশ করতাম যে, তারা যেন সচ্ছল ব্যক্তিকে অবকাশ দেয় এবং তার উপর পীড়াপীড়ি না করে। রাবী বলেন, তিনি বলেছেন, ফেরেশতারাও তাকে ক্ষমা করে দেন।আবু মালিক (রহঃ) রিব্ঈ ইবনু হিরাশ (রহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন, আমি সচ্ছল ব্যক্তির জন্য সহজ করতাম এবং অভাবগ্রস্তকে অবকাশ দিতাম। শু‘বাহ্ (রহঃ) আবদুল মালিক (রহঃ) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেন। আবু আওয়ানাহ (রহঃ) আবদুল মালিক (রহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন, আমি সচ্ছলকে অবকাশ দিতাম এবং অভাবগ্রস্তকে মাফ করে দিতাম এবং নু‘আইম ইবনু আবু হিন্দ (রহঃ) রিব্ঈ (রহঃ) সূত্রে বলেন, আমি সচ্ছল ব্যক্তি হতে গ্রহণ করতাম এবং অভাবগ্রস্তকে ক্ষমা করে দিতাম।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৩৪; ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়।
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আগের যুগের এক ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে। ফেরেশতারা তার রূহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জিজ্ঞেস করেন, সে কোনো ভালো কাজ করেছে কি না। সে জানায়, সে তার কর্মচারীদের বলত সচ্ছল ব্যক্তিকে অবকাশ দিতে এবং তার ওপর পীড়াপীড়ি না করতে। অন্য বর্ণনায় এসেছে, সে অভাবগ্রস্তকে অবকাশ দিত বা ক্ষমা করত। এরপর তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার কথা এসেছে। হাদিসটি ঋণগ্রহীতাকে সময় দেওয়া, ঋণে সহজতা করা এবং মানুষের সঙ্গে নরম ব্যবহার করার গুরুত্ব বোঝায়। এখানে শিক্ষা হলো—মানুষের কষ্ট বুঝে নরম হওয়া আল্লাহর রহমত লাভের কারণ হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঋণগ্রহীতাকে সময় দেওয়া ভালো কাজের অন্তর্ভুক্ত।
- অভাবগ্রস্তের প্রতি সহজ ব্যবহার করা ইসলামের শিক্ষা।
- কর্মচারী বা অধীনদেরও ভালো কাজে নির্দেশ দেওয়া উচিত।
- মানুষের প্রতি ছাড় ও নরম আচরণ ক্ষমা লাভের কারণ হতে পারে।
