৩৪/১৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২০৭৮ - অভাবগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাকে ক্ষমা করার ফজিলত
অসচ্ছল ও অভাবীকে অবকাশ দেয়া।
অভাবগ্রস্তকে ক্ষমা: ঋণদাতার জন্য বড় শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ২০৭৮
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২০৭৮
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ، حَدَّثَنَا الزُّبَيْدِيُّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ «كَانَ تَاجِرٌ يُدَايِنُ النَّاسَ، فَإِذَا رَأَى مُعْسِرًا قَالَ لِفِتْيَانِهِ تَجَاوَزُوا عَنْهُ، لَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يَتَجَاوَزَ عَنَّا، فَتَجَاوَزَ اللَّهُ عَنْهُ».
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
জনৈক ব্যবসায়ী লোকদের ঋণ দিত। কোন অভাবগ্রস্তকে দেখলে সে তার কর্মচারীদের বলত, তাকে ক্ষমা করে দাও, হয়তো আল্লাহ্ তা’আলা আমাদের ক্ষমা করে দিবেন। এর ফলে আল্লাহ্ তা’আলা তাকে ক্ষমা করে দেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ২০৭৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ব্যবসায়ীর কথা এসেছে, যে মানুষকে ঋণ দিত। যখন সে কোনো অভাবগ্রস্তকে দেখত, তখন কর্মচারীদের বলত, তাকে ক্ষমা করে দাও; হয়তো আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করে দেবেন। এরপর হাদিসে বলা হয়েছে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। এখানে ব্যবসা, ঋণ এবং দয়ার সম্পর্ক খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। ঋণদাতা চাইলে পাওনা আদায়ে কঠোর হতে পারে, কিন্তু অভাবগ্রস্ত মানুষের কষ্ট বুঝে ছাড় দেওয়া একটি বড় নেক কাজ। হাদিসটি শেখায়, লেনদেনে শুধু টাকা নয়, মানুষের অবস্থা, দয়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমার আশা—এসবও একজন মুমিনের চিন্তায় থাকা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অভাবগ্রস্ত ঋণগ্রহীতার প্রতি দয়া দেখানো প্রশংসনীয়।
- কর্মচারীদেরও নরম আচরণের নির্দেশ দেওয়া ভালো নেতৃত্বের অংশ।
- আল্লাহর ক্ষমার আশা রেখে মানুষকে ছাড় দেওয়া নেক কাজ।
- লেনদেনে দয়া ও দায়িত্ব একসঙ্গে থাকা দরকার।
