১/৭১. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০১ - ওহীর সূচনা ও দাওয়াতের ডাক
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি ওহী অবতরণের সূচনা।
ওহীর সূচনা: ‘হে বস্ত্রাচ্ছাদিত’ আয়াতের শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১০১
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১০১
حديث جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الأَنْصَارِيِّ عَنْ يَحْي بْنِ كَثِيرٍ، سَأَلْتُ أَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمنِ عَنْ أَوَّلِ مَا نَزَلَ مِنَ الْقُرْآنِ قَالَ يأَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ قُلْتُ يَقُولُونَ اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ فَقَالَ أَبُو سَلَمَةَ سَأَلْتُ جَابِرَ بنَ عَبْدِ اللهِ عَنْ ذَلِكَ، وَقُلْتُ لَهُ مِثْلَ الَّذِي قُلْتَ، فَقَالَ جَابِرٌ لاَ أُحَدِّثكَ إِلاَّ مَا حَدَّثَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:جَاوَرْتُ بِحِرَاءٍ فَلَمَّا قَضَيْتُ جِوَارِي هَبَطْتُ فَنُودِيتُ فَنَظَرْتُ عَنْ يَمِينِي فَلَمْ أَرَ شَيْئًا، وَنَظَرْتُ عَنْ شِمَالِي فَلَمْ أَرَ شَيْئًا، وَنَظَرْتُ أَمَامِي فَلَمْ أَرَ شَيْئًا، وَنَظَرْتُ خَلْفِي فَلَمْ أَرَ شَيْئًا؛ فَرَفَعْتُ رَأْسِي فَرَأَيْتُ شَيْئًا، فَأَتَيْتُ خَدِيجَةَ فَقُلْتُ: دَثِّرُونِي وَصُبُّوا عَلَيَّ مَاءً بَارِدًا، قَالَ فَدَثَّرُونِي وَصَبُّوا عَلَيَّ مَاءً بَارِدًا، قَالَ فَنَزَلَتْ (يأَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ قُمْ فَأَنْذِرْ وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ)
ইয়াহ্ইয়াহ ইবনু কাসীর (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি আবূ সালামাহ ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহঃ)-কে কোরআন মাজীদের কোন্ আয়াতটি সর্বপ্রথম নাযিল হয়েছে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, يٰٓأَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ প্রথম নাযিল হয়েছে। আমি বললাম, লোকেরা তো বলে اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِيْ خَلَقَ প্রথম নাযিল হয়েছে। তখন আবূ সালামাহ বললেন, আমি এ বিষয়ে জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম এবং তুমি যা বললে আমিও তাঁকে হুবহু তাই বলেছিলাম।জবাবে জাবির (রাঃ) বলেছিলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদেরকে যা বলেছিলেন, আমিও অবিকল তাই বলব। তিনি বলেছেন, আমি হেরা গুহায় ই’তিকাফ করতে আরম্ভ করলাম। আমার ই’তিকাফ শেষ হলে আমি সেখান থেকে অবতরণ করলাম। তখন আমাকে আওয়াজ দেয়া হল। আমি ডানে তাকালাম; কিন্তু কিছু দেখতে পেলাম না, বামে তাকালাম, কিন্তু এদিকেও কিছু দেখলাম না। এরপর আমার সামনে তাকালাম, এদিকেও কিছু দেখলাম না। এরপর পেছনে তাকালাম, কিন্তু এদিকেও আমি কিছু দেখলাম না। অবশেষে আমি উপরের দিকে তাকালাম, এবার একটা বস্তু দেখতে পেলাম।এরপর আমি খাদীজাহ (রাঃ)-এর কাছে এলাম এবং তাঁকে বললাম, আমাকে বস্ত্রাচ্ছাদিত কর এবং আমার শরীরে ঠাণ্ডা পানি ঢাল। তিনি বলেন, অতঃপর তারা আমাকে বস্ত্রাচ্ছাদিত করে এবং ঠাণ্ডা পানি ঢালে। নবী (ﷺ) বলেন, এরপর নাযিল হলঃ ‘হে বস্ত্রাচ্ছাদিত! উঠ, সতর্কবাণী প্রচার কর এবং তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৫: তাফসীর, অধ্যায় ৭৪, হাঃ ৪৯২২; মুসলিম, পর্ব ১: ঈমান, অধ্যায় ৭৩, হাঃ ১৬০
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০১-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: ওহীর সূচনা। এই হাদিসে আবূ সালামাহ (রহ.) প্রথম নাযিল হওয়া আয়াত নিয়ে জাবির (রাঃ)-এর বর্ণনা তুলে ধরেছেন। আলোচনার কেন্দ্রে আছে “يٰٓأَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ” এবং হেরা গুহার পরের ঘটনা। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ই’তিকাফ শেষে নামার সময় একটি আওয়াজ শুনলেন। তিনি ডানে, বামে, সামনে ও পেছনে তাকালেন, তারপর উপরে তাকিয়ে কিছু দেখলেন। এরপর তিনি খাদীজাহ (রাঃ)-এর কাছে ফিরে এসে তাঁকে বস্ত্রাচ্ছাদিত করতে এবং ঠান্ডা পানি ঢালতে বললেন। তারপর নাযিল হলো—“হে বস্ত্রাচ্ছাদিত! উঠ, সতর্কবাণী প্রচার কর এবং তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর।” এই হাদিসে ওহীর সূচনা, নবুওয়তের দায়িত্ব এবং আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণার বিষয়টি সরাসরি ফুটে ওঠে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওহীর বিষয় জানার ক্ষেত্রে সাহাবীগণ নির্ভরযোগ্য বর্ণনার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর উপর দাওয়াতের দায়িত্ব আল্লাহর নির্দেশে শুরু হয়েছে।
- ভয় বা অস্থিরতার সময় পরিবারে আশ্রয় ও সহায়তার বিষয়টি হাদিসে দেখা যায়।
