২৭/১. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০৬৬ - পিতার নামে কসমের নিষেধ
আল্লাহ তা‘আলার নাম ব্যতীত অন্যের নামে কসম করা নিষেধ।
পিতা-পিতামহের নামে কসম করা: হাদিসের স্পষ্ট নিষেধ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১০৬৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১০৬৬
حديث عُمَرَ، قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ اللهَ يَنْهَاكُمْ أَنْ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ قَالَ عُمَرُ: فَوَاللهِ مَا حَلَفْتُ بِهَا مُنْذَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ذَاكِرًا وَلاَ آثِرًا
উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা‘আলা তোমাদের পিতা-পিতামহের নামে কসম করতে নিষেধ করেছেন। ‘উমর (রাঃ) বলেন, আল্লাহ্র কসম! যখন থেকে আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে এ কথা বলতে শুনেছি, তখন থেকে আমি স্বেচ্ছায় বা ভুলক্রমে তাদের নামে কসম করিনি।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৮৩; অঙ্গীকার ও নয়র, অধ্যায় ৪, হাঃ ৬৬৪৭; মুসলিম, পর্ব ২৭ : কসম, অধ্যায় ১ঃ, হাঃ ১৬৪৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০৬৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, আল্লাহ তোমাদের পিতা-পিতামহের নামে কসম করতে নিষেধ করেছেন। ‘উমার (রাঃ) বলেন, তিনি যখন থেকে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছ থেকে এ কথা শুনেছেন, এরপর আর স্বেচ্ছায় বা ভুলক্রমে তাদের নামে কসম করেননি। এই অংশটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শুধু হুকুম জানা নয়, হুকুম শুনে সঙ্গে সঙ্গে তা মানাও সাহাবীদের চরিত্র ছিল। কসম একটি বড় কথা। তাই কসমের ক্ষেত্রে ভাষা, বিশ্বাস ও সম্মান—সবকিছু ঠিক রাখা দরকার। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, কসম করতে হলে আল্লাহর নামেই করতে হবে। পিতার নামে কসম, দাদার নামে কসম বা বংশের নামে কসম—এসব থেকে বিরত থাকা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পিতা-পিতামহের নামে কসম করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
- হুকুম জানার পর তা মানতে দেরি করা উচিত নয়।
- কসমের ভাষা তাওহীদের সঙ্গে মিল রাখতে হবে।
- সাহাবীরা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ শুনে আমল করতেন।
