২৭/৯. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০৭৬ - ক্রীতদাসকে অপবাদ দেওয়ার ভয়াবহতা
ঐ ব্যক্তির (প্রতি) কঠোরতা যে তার দাসকে যিনার অপবাদ দিল।
ক্রীতদাসকে অপবাদ: জবানের দায় সম্পর্কে হাদিস
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১০৭৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১০৭৬
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: مَنْ قَذَفَ مَمْلُوكَهُ، وَهُوَ بَرِيءٌ مِمَّا قَالَ، جُلِدَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، إِلاَّ أَنْ يَكُونَ كَمَا قَالَ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি আবুল কাসিম (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, কেউ আপন ক্রীতদাসের প্রতি অপবাদ আরোপ করল, অথচ সে তা থেকে পবিত্র যা সে বলেছে, কিয়ামত দিবসে তাকে কশাঘাত করা হবে। তবে যদি এমনই হয় যেমন সে বলেছে (সে ক্ষেত্রে কশাঘাত করা হবে না)।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৮৬: দণ্ডবিধি, অধ্যায় ৪৫, হাঃ ৬৮৫৮; মুসলিম, পর্ব ২৭ : কসম, অধ্যায় ৯, হাঃ ১৬৬০
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০৭৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কেউ যদি নিজের ক্রীতদাসের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, অথচ সে সেই কথার দোষ থেকে পবিত্র থাকে, তাহলে কিয়ামতের দিন অপবাদদাতাকে কশাঘাত করা হবে। তবে যদি সে সত্যিই তেমন হয় যেমন বলা হয়েছে, তাহলে সেই শাস্তির কথা বলা হয়নি। এখানে মূল শিক্ষা হলো, অধীনস্থ মানুষ দুর্বল বলে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা বলা যায় না। তার সম্মানও সম্মান। মালিক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি বলে কারও জবান খুলে যাবে—এমন নয়। অপবাদ, গালি ও মিথ্যা অভিযোগ মানুষের হকের সঙ্গে জড়িত। এই হাদিস আমাদের শেখায়, কথা বলার আগে সত্য জানা জরুরি এবং দুর্বল মানুষের অধিকারকে হালকা করে দেখা খুব বিপজ্জনক।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নির্দোষ মানুষের উপর অপবাদ দেওয়া বড় অন্যায়।
- অধীনস্থ ব্যক্তি হলেও তার সম্মান রক্ষা করা জরুরি।
- মিথ্যা অভিযোগের দায় কিয়ামত পর্যন্ত যেতে পারে।
- কথা বলার আগে সত্যতা যাচাই করা উচিত।
