২৯/২. অধ্যায়ঃ

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১১০০ - আইনের সামনে সবার সমতা

সম্ভ্রান্ত বা যে কোন বংশের চোরের হাত কাটা এবং হুদুদের ব্যাপারে সুপারিশ করার নিষিদ্ধতা।

আইনের সামনে সমতা: মাখযূমী নারীর ঘটনায় নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর শিক্ষা

আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১১০০

حديث عَائِشَةَ، أَنَّ قُرَيْشًا أَهَمَّهُمْ شَأْنُ الْمَرْأَةِ الْمَخْزُومِيَّةِ الَّتِي سَرَقَتْ، فَقَالَ: وَمَنْ يُكَلِّمُ فِيهَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالُوا: وَمَنْ يَجْتَرِى عَلَيْهِ إِلاَّ أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، حِبُّ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَلَّمَهُ أُسَامَةُ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَتَشْفَعُ فِي حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللهِ ثُمَّ قَامَ فَاخْتَطَبَ، ثُمَّ قَالَ: إِنَّمَا أَهْلَكَ الَّذِينَ قَبْلَكُمْ أَنَّهُمْ كَانُوا، [ص: 186] إِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الشَّرِيفُ تَرَكُوهُ، وَإِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الضَّعِيفُ أَقَامُوا عَلَيْهِ الْحَدَّ؛ وَايْمُ اللهِ لَوْ أَنَّ فَاطِمَةَ ابْنَةَ مُحَمَّدٍ سَرَقَتْ، لَقَطَعْتُ يَدَهَا

'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

মাখযূম গোত্রের এক চোর নারীর ঘটনা কুরাইশের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন করে তুললো। এ অবস্থায় তারা বলাবলি করতে লাগল এ ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সঙ্গে কে আলাপ করতে পারে? তারা বলল, একমাত্র রাসূল (ﷺ) -এর প্রিয়তম ওসামা ইব্‌নু যায়িদ (রাঃ) এ ব্যাপারে আলোচনা করার সাহস করতে পারেন। উসামা নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে কথা বললেন। নবী (ﷺ) বললেন, তুমি কি আল্লাহ্‌র নির্ধারিত সীমালঙ্ঘনকারিণীর সাজা মাওকুফের সুপারিশ করছ?অতঃপর নবী (ﷺ) দাঁড়িয়ে খুত্‌বায় বললেন, তোমাদের পূর্বের জাতিসমূহকে এ কাজই ধ্বংস করেছে যে, যখন তাদের মধ্যে কোন বিশিষ্ট লোক চুরি করত, তখন তারা বিনা সাজায় তাকে ছেড়ে দিত। অন্যদিকে যখন কোন অসহায় গরীব সাধারণ লোক চুরি করত, তখন তার উপর হদ্ জারি করত। আল্লাহ্‌র কসম, যদি মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর কন্যা ফাতিমা চুরি করত তাহলে আমি তার অবশ্যই তার হাত কেটে দিতাম।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬০: নাবীগণের (আঃ) হাদীসসমূহ, অধ্যায় ৫৪, হাঃ ৩৪৭৫; মুসলিম, পর্ব ২৯: হুদূদ, অধ্যায় ২, হাঃ ১৬৮৮

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১১০০-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে মাখযূম গোত্রের এক নারীর চুরির ঘটনা এসেছে। কুরাইশের লোকেরা ভাবছিল, কে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে তার ব্যাপারে কথা বলতে পারে। তারা উসামা ইবনু যায়িদ (রাঃ)-কে বলেন, কারণ তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর প্রিয় ছিলেন। উসামা কথা বললে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তুমি কি আল্লাহর নির্ধারিত হদের বিষয়ে সুপারিশ করছ? এরপর তিনি খুতবায় বলেন, আগের জাতিগুলো ধ্বংস হয়েছে এই কারণে যে, সম্মানিত কেউ চুরি করলে তাকে ছেড়ে দিত, আর দুর্বল কেউ চুরি করলে তার উপর হদ চালাত। তারপর তিনি বলেন, ফাতিমা বিনতে মুহাম্মাদও যদি চুরি করত, তবে তাঁর হাত কাটা হতো। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো আইনের সামনে পক্ষপাতহীন ন্যায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • হদের বিষয়ে পক্ষপাত করা নিন্দিত।
  • সম্মানিত ও দুর্বল—সবার জন্য ন্যায়বিচার এক হওয়া উচিত।
  • সুপারিশ করে অপরাধের শাস্তি মওকুফের চেষ্টা গ্রহণ করা হয়নি।
  • নবী (صلى الله عليه وسلم) নিজের পরিবারের উদাহরণ দিয়ে ন্যায়ের গুরুত্ব বোঝান।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন