২৯/৪. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১১০১ - রজমের বিধান ও প্রমাণের শর্ত
বিবাহিত যিনাকারকে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা।
রজমের বিধান: প্রমাণ, স্বীকারোক্তি ও শরীয়তের সতর্কতা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১১০১
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১১০১
حديث عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ إِنَّ اللهَ بَعَثَ مُحَمَّدًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْحَقِّ، وَأَنْزَلَ عَلَيْهِ الْكِتَابَ فَكَانَ مِمَّا أَنْزَلَ اللهُ آيَةُ الرَّجْمِ، فَقَرَأْنَاهَا وَعَقَلْنَاهَا وَوَعَيْنَاهَا رَجَمَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرَجَمْنَا بَعْدَهُفَأَخْشى، إِنْ طَالَ بِالنَّاسِ زَمَانٌ، أَنْ يَقُولَ قَائِلٌ: وَاللهِ مَا نَجِدُ آيَةَ الرَّجْمِ فِي كِتَابِ اللهِ؛ فَيَضِلُّوا بِتَرْكِ فَرِيضَةٍ أَنْزَلَهَا اللهُ وَالرَّجْمُ فِي كِتَابِ اللهِ حَقٌّ عَلَى مَنْ زَنَى، إِذَا أُحْصِنَ، مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ، إِذَا قَامَتِ الْبَيِّنَةُ، أَوْ كَانَ الْحَبَلُ أَوِ الاعْتِرَافُ
উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ্ মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে সত্য সহকারে পাঠিয়েছেন। আর তাঁর উপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। আর আল্লাহ্র অবতীর্ণ বিষয়াদির একটি ছিল রজমের আয়াত। আমরা সে আয়াত পড়েছি, বুঝেছি, আয়ত্ত করেছি। আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) পাথর মেরে হত্যা করেছেন। আমরাও তাঁর পরে পাথর মেরে হত্যা করেছি।আমি আশঙ্কা করছি যে, দীর্ঘকাল অতিবাহিত হবার পর কোন লোক এ কথা বলে ফেলতে পারে যে, আল্লাহ্র কসম! আমরা আল্লাহ্র কিতাবে পাথর মেরে হত্যার আয়াত পাচ্ছি না। ফলে তারা এমন একটি ফরজ ত্যাগের কারণে পথভ্রষ্ট হবে, যা আল্লাহ্ অবতীর্ণ করেছেন। আল্লাহ্র কিতাব অনুযায়ী ঐ ব্যক্তির উপর পাথর মেরে হত্যা অবধারিত, যে বিবাহিত হবার পর যিনা করবে, সে পুরুষ হোক বা নারী। যখন সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাবে অথবা গর্ভ বা স্বীকারোক্তি পাওয়া যাবে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৮৬ : দণ্ডবিধি, অধ্যায় ৩১, হাঃ ৬৮৩০; মুসলিম, পর্ব ২৯ : হুদূদ, অধ্যায় ৮, হাঃ ১৬৯১ - * খারেজী এবং কিছু মু'তাযিলা সম্প্রদায় কোরআনে উল্লেখিত রজমের আয়াতকে অস্বীকার করে, যার তেলাওয়াত মানসুখ হলেও হুকুম অবশিষ্ট আছে। আয়াতটি হলঃ (الشيخ والشيخة إذا زنيا فارجموها ألبتة) অথচ আয়াতটি কোরআনের অংশ এবং হুকুমটি অবশিষ্ট আছে এর অনেক প্রমাণ রয়েছে।১. আব্দুর রাজ্জাক ও ইমাম ত্ববারী ইবনে আব্বাসের সূত্রে বর্ণনা করেন: উমর (রাঃ) বলেনঃ (سَيَجِيءُ قَوْمٌ يُكَذِّبُونَ بِالرَّجْمِ)২. সুনানে নাসায়ীতে ওবায়দুল্লাহ ইবনু আব্দিল্লাহ ইবনু উতবার সূত্রে উমর (রাঃ) এর হাদীসঃ (وَأَنَّ نَاسًا يَقُولُونَ : مَا بَالُ الرَّجْمِ ؟ وَإِنَّمَا فِي كِتَابِ اللَّهِ الْجَلْدُ . أَلَا قَدْ رَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)৩. মুয়াত্তা মালেক সায়ীদ বিন মুসায়্যিব এর সূত্রে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসঃ (إِيَّاكُمْ أَنْ تَهْلِكُوا عَنْ آيَةِ الرَّجْمِ أَنْ يَقُولَ قَائِلٌ لَا نَجِدُ حَدَّيْنِ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَقَدْ رَجَمَ)৪. সহীহ বুখারীতে বর্ণিত ৬৮১৯ নং হাদীসে ইয়াহুদী পুরুষ ও একজন মহিলার রজমের ঘটনা। মায়েয বিন মালিকের রজমের ঘটনা, হাঃ ৬৮১৪, ৬৮২৪। . বিবাহিত এবং অবিবাহিত পুরুষ-মহিলার যেনার হুকুমঃ * যিনাকার পুরুষ-মহিলা যদি বিবাহিত হয় তবে তাদের হুকুম হল শুধু রজম। * পক্ষান্তরে যেনাকার পুরুষ-মহিলা যদি অবিবাহিত হয় তবে তাদের হুকুম হল একশত বেত্রাঘাত ও এক বছর নির্বাসন। (ফাতহুল বারী)
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১১০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো রজমের বিধান এবং তা প্রমাণের শর্ত। উমর (রাঃ) স্পষ্ট করে বলেন, আল্লাহ রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে সত্যসহ পাঠিয়েছেন এবং তাঁর উপর কিতাব নাজিল করেছেন। তিনি জানান, রজমের আয়াত নাজিল হয়েছিল, সাহাবীরা তা পড়েছেন, বুঝেছেন এবং মনে রেখেছেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) রজম করেছেন এবং তাঁর পর সাহাবীরাও করেছেন। হাদিসে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, বিবাহিত পুরুষ বা নারী যিনা করলে রজমের বিধান তখনই প্রযোজ্য, যখন সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাবে, অথবা গর্ভ দেখা যাবে, অথবা নিজে স্বীকার করবে। তাই এখানে মূল শিক্ষা হলো—শরীয়তের হদ কোনো আবেগ বা অনুমানের বিষয় নয়; এটি প্রমাণ, স্বীকারোক্তি ও নির্দিষ্ট শর্তের সঙ্গে যুক্ত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রজমের বিধান হাদিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখিত একটি শরীয়ত-সংক্রান্ত বিষয়।
- যিনার মতো গুরুতর বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণ, গর্ভ বা স্বীকারোক্তির কথা হাদিসে এসেছে।
- শরীয়তের কোনো বিধান অজ্ঞতা বা সময়ের ব্যবধানে ভুলে যাওয়া থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
- হদ প্রয়োগ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; এটি প্রমাণভিত্তিক বিচার-সংক্রান্ত বিষয়।
