২৯/৫. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১১০২ - যিনার স্বীকারোক্তি ও বিচার
যে নিজেই যিনা করার কথা স্বীকার করলো।
যিনার স্বীকারোক্তি: চারবার সাক্ষ্য ও বিচারিক যাচাই
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১১০২
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১১০২
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ وَجَابِرٍ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: أَتَى رَجُلٌ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ فِي الْمَسْجِدِ، فَنَادَاهُ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي زَنَيْتُ فَأَعْرَضَ عَنْهُ، [ص: 187] حتَّى رَدَّدَ عَلَيْهِ أَرْبَعَ مَرَّاتٍ؛ فَلَمَّا شَهِدَ عَلَى نَفْسِهِ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ دَعَاهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: أَبِكَ جُنُونٌ قَالَ: لاَ قَالَ: فَهَلْ أَحْصَنْتَ قَالَ: نَعَمْ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اذْهَبُوا بِهِ فَارْجُمُوهُقَالَ جَابِرٌ: فَكُنْتُ فِيمَنْ رَجَمَهُ، فَرَجَمْنَاهُ بِالْمُصَلَّى؛ فَلَمَّا أَذْلَقَتْهُ الْحِجَارَةُ هَرَبَ، فَأَدْرَكْنَاهُ بِالْحَرَّةِ، فَرَجَمْنَاهُ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে এল। তিনি তখন মসজিদে ছিলেন। সে তাঁকে ডেকে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)। আমি যিনা করেছি। তিনি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এভাবে কথাটি সে চারবার পুনরাবৃত্তি করল। যখন সে নিজের বিরুদ্ধে চারবার সাক্ষ্য প্রদান করল তখন নবী (ﷺ) তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার মধ্যে কি পাগলামির দোষ আছে? সে বলল, না। তিনি বললেনঃ তাহলে কি তুমি বিবাহিত? সে বলল, হ্যাঁ। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমরা তাকে নিয়ে যাও আর রজম করো।জাবির (রাঃ) বলেন, আমি তার রজমকারীদের মধ্যে একজন ছিলাম। আমরা তাকে জানাযা আদায়ের স্থানে রজম করি। পাথরের আঘাত যখন তার অসহ্য হচ্ছিল তখন সে পালাতে লাগল। আমরা 'হার্রা' নামক স্থানে তার নাগাল পেলাম। আর সেখানে তাকে রজম করলাম।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৮৬; দণ্ডবিধি, অধ্যায় ২২, হাঃ ৬৮১৫-৬৮১৬; মুসলিম, পর্ব ২৯: হুদূদ, অধ্যায় ৫, হাঃ ১৬৯১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১১০২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যিনার স্বীকারোক্তি এবং বিচারিক যাচাইয়ের বিষয়টি দেখা যায়। একজন ব্যক্তি মসজিদে এসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জানায় যে সে যিনা করেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) প্রথমে তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। সে একই কথা চারবার বলে। এরপর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করেন, তার মধ্যে পাগলামীর কোনো দোষ আছে কি না। সে বলে, নেই। তারপর তিনি জানতে চান, সে বিবাহিত কি না। সে বলে, হ্যাঁ। এরপর রজমের নির্দেশ দেওয়া হয়। এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, সরাসরি শাস্তির আগে স্বীকারোক্তি, মানসিক অবস্থা এবং বিবাহিত হওয়ার বিষয় যাচাই করা হয়েছে। তাই হাদিসটি দেখায়, শরীয়তের বিচার প্রক্রিয়ায় আবেগ নয়, বরং যাচাই ও শর্তের গুরুত্ব আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুরুতর অপরাধে স্বীকারোক্তি যাচাই করা হয়েছে।
- শাস্তির আগে মানসিক সুস্থতা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছে।
- বিবাহিত হওয়া রজমের বিধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে এসেছে।
- বিচারিক বিষয়ে ধৈর্য, যাচাই ও শর্ত মানা জরুরি।
