২৯/৫. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১১০৩ - যিনার হদ ও ন্যায়বিচার
যে নিজেই যিনা করার কথা স্বীকার করলো।
যিনার হদ: আপোস নয়, আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী বিচার
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১১০৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১১০৩
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ قَالاَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: أَنْشُدُكَ اللهَ إِلاَّ قَضَيْتَ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللهِ؛ فَقَامَ خَصْمُهُ، وَكَانَ أَفْقَهَ مِنْهُ، فَقَالَ: صَدَقَ، اقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللهِ، وَأْذَنْ لِيَ يَا رَسُولَ اللهِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: قُلْ فَقَالَ: إِنَّ ابْنِي كَانَ عَسِيفًا فِي أَهْلِ هذَا، فَزَنَى بِامْرَأَتِهِ، فَافْتَدَيْتُ مِنْهُ بِمِائَةِ شَاةٍ وَخَادِمٍ؛ وَإِنِّي سَأَلْتُ رِجَالاً مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ فَأَخْبَرُونِي أَنَّ عَلَى ابْنِي جَلْدَ مِائَةٍ وَتَغْرِيبَ عَامٍ، وَأَنَّ عَلَى امْرَأَةِ هذَا الرَجْمَ؛ فَقَالَ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لأَقْضِيَنَّ بَيْنَكُمَا بِكِتَابِ اللهِ: الْمِائَةَ وَالْخَادِمُ رَدٌّ عَلَيْكَ، وَعَلَى ابْنِكَ جَلْدُ مِائَةٍ وَتَغْرِيبُ عَامٍ؛ وَيَا أُنَيْسُ [ص: 188] اغْدُ عَلَى امْرَأَةِ هذَا فَسَلْهَا، فَإِنِ اعْتَرَفَتْ فَارْجُمْهَا فَاعْتَرَفَتْ، فَرَجَمَهَا
যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল, আমি আপনাকে আল্লাহ্র কসম দিয়ে বলছি, আপনি আমাদের মাঝে আল্লাহ্র কিতাব অনুযায়ী ফায়সালা করবেন। তখন তার প্রতিপক্ষ দাঁড়াল, আর সে ছিল তার চেয়ে অধিক বিজ্ঞ এবং বলল, সে ঠিকই বলেছে। আপনি আল্লাহ্র কিতাব অনুযায়ী আমাদের মাঝে ফায়সালা করে দিন এবং আমাকে অনুমতি দিন, হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)! নবী (ﷺ) তাকে বললেনঃ বল।তখন সে বলল, আমার ছেলে এই ব্যক্তির পরিবারে মজুর ছিল, সে তার স্ত্রীর সঙ্গে যিনা করে বসে। ফলে আমি একশ’ ছাগল ও একটি গোলামের বিনিময়ে তার থেকে আপোস করে নেই। তারপর ক’জন আলিমকে জিজ্ঞেস করি। তাঁরা আমাকে জানালেন যে, আমার ছেলের উপর একশ’ কশাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন। আর এ ব্যক্তির স্ত্রীর উপর রজম।তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ ঐ সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি অবশ্যই আল্লাহ্র কিতাব অনুযায়ী তোমাদের মাঝে ফায়সালা করব। একশ’ (ছাগল) আর গোলাম তোমার কাছে ফেরত হবে। আর তোমার ছেলের উপর আসবে একশ’ কশাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন। হে উনাইস! তুমি প্রত্যূষে মহিলার কাছে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করবে। যদি সে স্বীকার করে তাহলে তাকে রজম করবে। সে স্বীকার করলে তাকে সে রজম করল।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৮৬: দণ্ডবিধি, অধ্যায় ৪৬, হাঃ ৬৮৫৯; মুসলিম, পূর্ব ২৯: হুদূদ, অধ্যায় ৫, হাঃ ১৬৯৭, ১৬৯৮
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১১০৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দেখা যায়, দুই পক্ষ রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফায়সালা চাইতে আসে। একজনের ছেলে অন্য ব্যক্তির পরিবারে মজুর ছিল এবং সে ঐ ব্যক্তির স্ত্রীর সঙ্গে যিনা করে। ছেলের বাবা একশ’ ছাগল ও একটি গোলাম দিয়ে আপোস করে নিয়েছিল। পরে আলিমদের থেকে সে জানতে পারে, তার ছেলের জন্য একশ’ কশাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন, আর ঐ নারীর জন্য রজম। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তিনি আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফায়সালা করবেন। তিনি ছাগল ও গোলাম ফেরত দিতে বলেন, ছেলের জন্য কশাঘাত ও নির্বাসনের কথা বলেন, আর মহিলার স্বীকারোক্তি হলে রজমের নির্দেশ দেন। হাদিসটি শেখায়, শরীয়তের হদ অর্থ বা আপোস দিয়ে বদলানো যায় না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শরীয়তের বিধান অর্থের বিনিময়ে বদলানো যায় না।
- অবিবাহিত ও বিবাহিত অবস্থার ভিত্তিতে হদের পার্থক্য এসেছে।
- স্বীকারোক্তি ছাড়া অনুপস্থিত ব্যক্তির ওপর সরাসরি রায় কার্যকর করা হয়নি।
- বিচার আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী হওয়ার গুরুত্ব এখানে স্পষ্ট।
