১/৭৫. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১১২ - জিবরীল দর্শন
আল্লাহ তা‘আলার বাণীর অর্থ: অবশ্যই তিনি [মুহাম্মাদ (ﷺ)] তাকে [জিবরীল (আঃ)-কে] আরেকবার নাযিল অবস্থায় দেখেছেন আর নবী (ﷺ) কি মি‘রাজের রজনীতে তার পালনকর্তাকে দেখেছেন।
জিবরীল (আ.)-কে আসল রূপে দেখা: রব দর্শনের সঠিক বুঝ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১১২
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১১২
حديث عَائِشَةَ قَالَتْ مَنْ زَعَمَ أَنَّ مُحَمَّدًا رَأَى رَبَّهُ فَقَدْ أَعْظَمَ، ولكِنْ قد رَأى جِبْرِيلَ فِي صُورَتِهِ، وَخَلْقُهُ سَادٌّ مَا بَيْنَ الأُفُقِ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যে ব্যক্তি মনে করবে যে, মুহাম্মদ (ﷺ) তাঁর রবকে দেখেছেন, সে ব্যক্তি মহা ভুল করবে। বরং তিনি জিব্রাঈল (আঃ)-কে তাঁর আসল আকার ও চেহারায় দেখেছেন। তিনি আকাশের দিকচক্রবাল জুড়ে অবস্থান করছিলেন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৫৯; সৃষ্টির সূচনা, অধ্যায় ৭, হাঃ ৩২৩৪; মুসলিম, পর্ব ১: ঈমান, অধ্যায় ৭৭, হাঃ ১৭৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১১২-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: জিবরীল দর্শন। এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) বলেন, যে দাবি করবে মুহাম্মাদ (صلى الله عليه وسلم) তাঁর রবকে দেখেছেন, সে বড় ভুল করবে। বরং তিনি জিবরীল (আ.)-কে তাঁর আসল আকৃতি ও চেহারায় দেখেছেন। বর্ণনায় এসেছে, জিবরীল (আ.) আকাশের দিকচক্রবাল জুড়ে ছিলেন। এই হাদিস সংক্ষিপ্ত হলেও আকীদার দিক থেকে পরিষ্কার। এতে রব দর্শনের দাবির জবাব আছে, আবার জিবরীল (আ.)-এর বিশাল সৃষ্টি সম্পর্কেও সরাসরি তথ্য আছে। ব্যাখ্যায় বাড়তি কল্পনা না এনে বলা উচিত—নবী (صلى الله عليه وسلم) জিবরীল (আ.)-কে দেখেছেন, আর আল্লাহ সম্পর্কে দাবি করার ক্ষেত্রে কুরআন ও সহীহ বর্ণনার সীমা মানা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রবকে দেখার দাবি আয়িশা (রাঃ) ভুল বলেছেন।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) জিবরীল (আ.)-কে তাঁর আসল রূপে দেখেছেন।
- আকীদার বিষয়ে সংক্ষিপ্ত হাদিসও পরিষ্কার দিকনির্দেশনা দেয়।
