৩১/৩. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১১২৮ - মেহমানের হক আদায়ের শিক্ষা
মেহমানদারি ও এতদসংক্রান্ত
মেহমানের হক: সফরে প্রাপ্য আদব ও অধিকার
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১১২৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১১২৮
حديث عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ: قُلْنَا لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّكَ تَبْعَثُنَا فَنَنْزِلُ بِقَوْمٍ لاَ يَقْرُونَا، فَمَا تَرَى فِيهِ فَقَالَ لَنَا: إِنْ نَزَلْتُمْ بِقَوْمٍ فَأُمِرَ لَكُمْ بِمَا يَنْبَغِي لِلضَّيْفِ فَاقْبَلُوا، فَإِنْ لَمْ يَفْعَلُوا فَخُذُوا مِنْهُمْ حَقَّ الضَّيْفِ
‘উক্ববাহ্ ইবনু ‘আমির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা নবী (ﷺ)-কে বললাম, আপনি যখন আমাদের কোন অভিযানে পাঠান, আর আমরা এমন গোত্রের কাছে অবতরণ করি, যারা আমাদের মেহমানদারী করে না। এ ব্যাপারে আপনি কী বলেন? তিনি আমাদেরকে বললেন, যদি তোমরা কোন গোত্রের কাছে অবতরণ কর এবং তোমাদের জন্য যদি উপযুক্ত মেহমানদারীর আয়োজন করা হয়, তবে তোমরা তা গ্রহণ করবে, আর যদি তা না করে তবে তাদের কাছ হতে মেহমানের হক আদায় করে নিবে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৪৬ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন, অধ্যায় ১৮, হাঃ ২৪৬১; মুসলিম, পর্ব ৩১: কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু, অধ্যায়, হাঃ ১৭২৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১১২৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো মেহমানের হক। সাহাবীরা নবী صلى الله عليه وسلم-কে জিজ্ঞেস করেন, কোনো অভিযানে গেলে এমন গোত্রের কাছে নামতে হয় যারা মেহমানদারী করে না—তখন কী করা হবে? নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, যদি তারা মেহমানের উপযুক্ত ব্যবস্থা করে, তা গ্রহণ করবে। আর যদি না করে, তবে তাদের কাছ থেকে মেহমানের হক আদায় করে নিতে হবে। এই হাদিসটি একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতির প্রশ্নের উত্তর। তাই একে সাধারণভাবে কারো সম্পদ নেওয়ার অনুমতি হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়। হাদিসের সরাসরি শিক্ষা হলো, মেহমানদারী সমাজের একটি স্বীকৃত অধিকার ছিল এবং সফরকারীকে উপযুক্ত আতিথেয়তা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এখানে মেহমানের হক, সফরের আদব ও ন্যায্য প্রাপ্যের কথা এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সফরে মেহমানের উপযুক্ত সম্মান পাওয়ার অধিকার আছে।
- যথাযথ মেহমানদারী করলে তা গ্রহণ করা উচিত।
- হাদিসটি নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তরে এসেছে, তাই সতর্কভাবে বুঝতে হবে।
- আতিথেয়তা সামাজিক দায়িত্বের একটি অংশ।
