৩১/৩. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১১২৭ - মেহমানদারীর হক ও সীমা
মেহমানদারি ও এতদসংক্রান্ত
মেহমানদারী: অতিথির সম্মান ও মেজবানের কষ্ট না দেওয়া
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১১২৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১১২৭
حديث أَبِي شُرَيْحٍ الْكَعْبِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ، جَائِزَتُهُ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ، وَالضِّيَافَةُ ثَلاَثَةُ أَيَّامٍ، فَمَا بَعْدَ ذَلِكَ فَهُوَ صَدَقَةٌ، وَلاَ يَحِلُّ لَهُ أَنْ يَثْوِيَ عِنْدَهُ حَتَّى يُحْرِجَهُ
আবূ শুরাইহ আল কাবী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ্তে ও শেষ দিনে ঈমান রাখে, সে যেন মেহমানের সম্মান করে। মেহমানের সম্মান একদিন ও একরাত। আর সাধারণ মেহমানদারী তিনদিন ও তিনরাত। এরপরে (তা হবে) ‘সদাকাহ’। মেযবানকে কষ্ট দিয়ে তার কাছে মেহমানের অবস্থান হালাল নয়।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭৮: আদব-আচার, অধ্যায় ৮৫, হাঃ ৬১৩৫; মুসলিম, পর্ব ৩১: কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু, অধ্যায় ৩, হাঃ ৪৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১১২৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো মেহমানদারী। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনে ঈমান রাখে, সে যেন মেহমানকে সম্মান করে। মেহমানের বিশেষ সম্মান একদিন একরাত, আর সাধারণ মেহমানদারী তিনদিন ও তিনরাত। এর পরে যা করা হবে, তা সদাকাহ হিসেবে গণ্য হবে। তবে হাদিসটি শুধু মেহমানের অধিকার বলে থেমে যায়নি; মেহমানের দায়িত্বও বুঝিয়েছে। মেজবানকে কষ্ট দিয়ে তার কাছে থাকা হালাল নয়। তাই ইসলামে মেহমানদারী যেমন সুন্দর আদব, তেমনি অতিথিরও উচিত মেজবানের অবস্থা বোঝা। এই শিক্ষা ভারসাম্যপূর্ণ—অতিথি সম্মান পাবে, আবার মেজবানও অযথা চাপে পড়বে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মেহমানকে সম্মান করা ঈমানদার আচরণের অংশ।
- বিশেষ মেহমানদারীর সময় একদিন একরাত বলা হয়েছে।
- সাধারণ মেহমানদারী তিন দিন পর্যন্ত হতে পারে।
- মেজবানকে কষ্ট দিয়ে দীর্ঘ সময় থাকা ঠিক নয়।
