৩২/১১. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১১৪১ - গনীমত আত্মসাৎ ও আল্লাহর বিজয়ের শিক্ষা
বিশেষভাবে এ উম্মাতের জন্য গানিমাতের মাল হালাল।
গনীমত আত্মসাৎ থেকে সতর্ক থাকার হাদিস
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১১৪১
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১১৪১
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: غَزَا نَبِيٌّ مِنَ الأَنْبِيَاءِ، فَقَالَ لِقَوْمِهِ: لاَ يَتْبَعْنِي رَجُلٌ مَلَكَ بُضْعَ امْرَأَةٍ، وَهُوَ يُرِيدُ أَنْ يَبْنِي بِهَا [ص: 204] وَلَمَّا يَبْنِ بِهَا، وَلاَ أَحَدٌ بَنَى بُيُوتًا وَلَمْ يَرْفَعْ سُقُوفَهَا، وَلاَ أَحَدٌ اشْتَرَى غَنَمًا أَوْ خَلِفَاتٍ وَهُوَ يَنْتَظِرُ وِلاَدَهَا فَغَزَا، فَدَنَا مِنَ الْقَرْيَةِ صَلاَةَ الْعَصْرِ، أَوْ قَرِيبًا مِنْ ذلِكَ فَقَالَ لِلشَّمْسِ: إِنَّكِ مَأْمُورَةٌ وَأَنَا مَأْمُورٌ، اللهُمَّ احْبِسْهَا عَلَيْنَا فَحُبِسَتْ حَتَّى فَتَحَ اللهُ عَلَيْهِ؛فَجَمَعَ الْغَنَائِمَ، فَجَاءَتْ (يَعْنِي النَّارَ) لِتَأْكُلَهَا فَلَمْ تَطْعَمْهَا؛ فَقَالَ: إِنَّ فِيكُمْ غُلُولاً، فَلْيُبَايِعْنِي مِنْ كُلِّ قبيلة رَجُلٌ، فَلَزِقَتْ يَدُ رَجُلٍ بِيدِهِ فَقَالَ: فِيكُمُ الْغُلُولُ فَلْيُبَايِعْنِى قَبِيلَتُكَ فَلَزِقَتْ يَدُ رَجُلَيْنِ أَوْ ثَلاَثَةٍ بِيَدِهِ فَقَالَ: فِيكُمُ الْغُلُولُ فَجَاءُوأ بِرَأْسٍ مِثْلِ رَأْس بَقَرَةٍ مِنَ الذَّهَبِ فَوَضَعُوهَا، فَجَاءَتِ النَّارُ فَأَكَلَتْهَا ثُمَّ أَحَلَّ اللهُ لَنَا الْغَنَائِمَ، رَأَى ضَعْفَنَا وَعَجْزَنَا فَأَحَلَّهَا لَنَا
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, ‘কোন একজন নবী (আঃ) জিহাদ করেছিলেন। তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন, এমন কোন ব্যক্তি আমার অনুসরণ করবে না, যে কোন মহিলাকে বিবাহ করেছে এবং তার সঙ্গে মিলিত হওয়ার ইচ্ছে রাখে, কিন্তু সে এখনো মিলিত হয়নি। এমন ব্যক্তিও না যে ঘর তৈরি করেছে কিন্তু তার ছাদ তোলেনি। আর এমন ব্যক্তিও না যে গর্ভবতী ছাগল বা উটনী কিনেছে এবং সে তার প্রসবের অপেক্ষায় আছে।অতঃপর তিনি জিহাদে গেলেন এবং আসরের সালাতের সময় কিংবা এর কাছাকাছি সময়ে একটি জনপদের নিকটে আসলেন। তখন তিনি সূর্যকে বললেন, তুমিও আদেশ পালনকারী আর আমিও আদেশ পালনকারী। হে আল্লাহ্! সূর্যকে থামিয়ে দিন। তখন তাকে থামিয়ে দেয়া হল। অবশেষে আল্লাহ তাকে বিজয় দান করেন।অতঃপর তিনি গানীমাত একত্র করলেন। তখন সেগুলো জ্বালিয়ে দিতে আগুন এল কিন্তু আগুন তা জ্বালিয়ে দিল না। নবী (আঃ) তখন বললেন, তোমাদের মধ্যে (গানীমাতের) আত্মসাৎকারী রয়েছে। প্রত্যেক গোত্র হতে একজন যেন আমার নিকট বাইআত করে। সে সময় একজনের হাত নবী (আঃ)র হাতের সঙ্গে আটকে গেল। তখন তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যেই আত্মসাৎকারী রয়েছে। কাজেই তোমার গোত্রের লোকেরা যেন আমার নিকট বাইআত করে। এ সময় দুই ব্যক্তির বা তিন ব্যক্তির হাত তাঁর হাতের সঙ্গে আটকে গেল। তখন তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যেই আত্মসাৎকারী রয়েছে।অবশেষে তারা একটি গাভীর মস্তক পরিমাণ স্বর্ণ উপস্থিত করল এবং তা রেখে দিল। অতঃপর আগুন এসে তা জ্বালিয়ে ফেলল। অতঃপর আল্লাহ আমাদের জন্য গানীমাত হালাল করে দিলেন এবং আমাদের দুর্বলতা ও অক্ষমতা লক্ষ্য করে তা আমাদের জন্য তা হালাল করে দিলেন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৫৭: খুমুস (এক পঞ্চমাংশ), অধ্যায় ৮, হাঃ ৩১২৪; মুসলিম, পর্ব ৩২: জিহাদ, অধ্যায় ১১, হাঃ ১৭৪৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১১৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো গনীমত আত্মসাৎ ও আমানতদারি। একজন নবী তাঁর সম্প্রদায়কে জিহাদে যাওয়ার আগে এমন লোকদের সঙ্গে নিতে চাননি, যাদের মন বাড়ি, স্ত্রী বা পশুর প্রসবের অপেক্ষায় আটকে থাকতে পারে। এতে বোঝা যায়, বড় দায়িত্ব পালনের সময় মনোযোগ খুব গুরুত্বপূর্ণ। এরপর আল্লাহর অনুমতিতে সূর্য থামিয়ে দেওয়া হয় এবং বিজয় আসে। কিন্তু গনীমত একত্র করার পর আগুন তা গ্রহণ করেনি, কারণ দলের মধ্যে আত্মসাৎ ছিল। পরে স্বর্ণ ফিরিয়ে দিলে আগুন তা গ্রহণ করে। হাদিসটি শেখায়, আল্লাহর পথে কাজ করলেও হারামভাবে মাল নেওয়া বড় অপরাধ। শেষে বলা হয়েছে, আল্লাহ এই উম্মতের দুর্বলতা দেখে গনীমত হালাল করেছেন। তাই গনীমত, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ ও আমানত বিষয়ে এই হাদিস খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দায়িত্বের সময় মনকে আল্লাহর কাজে একাগ্র রাখা দরকার।
- গনীমত বা আমানতের মাল আত্মসাৎ করা গুরুতর অন্যায়।
- আল্লাহর সাহায্য আসে, তবে সততা ও আনুগত্যের গুরুত্ব কমে না।
- এই উম্মতের জন্য গনীমত হালাল হওয়া আল্লাহর দয়া।
