৩২/১. অধ্যায়ঃ
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَغَارَ عَلَى بَنِي الْمُصْطَلِقِ وَهُمْ غَارُّونَ، وَأَنْعَامُهُمْ تُسْقَى عَلَى الْمَاءِ، فَقَتَلَ مُقَاتِلَتَهُمْ، وَسَبَى ذَرَارِيَّهُمْ، وَأَصَابَ يَوْمَئِذٍ جُوَيْرِيَةَ وَكَانَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ فِي ذَلِكَ الْجَيْشِ
নবী (ﷺ) বানী মুস্তালিক গোত্রের উপর অতর্কিতভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। তাদের গবাদি পশুকে তখন পানি পান করানো হচ্ছিল। তিনি তাদের যুদ্ধক্ষমদের হত্যা এবং নাবালকদের বন্দী করেন এবং সেদিনই তিনি জুওয়ায়রিয়া (উম্মুল মু’মিনীন)-কে লাভ করেন। [নাফি‘ (রহঃ) বলেন] ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর আমাকে এ সম্পর্কিত হাদীস শুনিয়েছেন। তিনি নিজেও সে সেনাদলে ছিলেন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৪৯: ক্রীতদাস আযাদ করা, অধ্যায় ১৩, হাঃ ২৫৪১; মুসলিম, পর্ব ৩২ : জিহাদ, অধ্যায়, হাঃ ১৭৩০
৩২/৩. অধ্যায়ঃ
حديث أَبِي مُوسى وَمُعَاذٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: بَعَثَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَدَّهُ أَبَا موسى وَمُعَاذًا إِلَى الْيَمَنِ، فَقَالَ: يَسِّرَا وَلاَ تُعَسِّرَا، وَبَشِّرَا وَلاَ تُنَفِّرَا، وَتَطَاوَعَا
তার দাদা আবূ মূসা ও মু‘আয (রাঃ)-কে নবী (ﷺ) (শাসক হিসেবে) ইয়ামানে পাঠালেন। এ সময় তিনি বললেন, তোমরা লোকজনের সঙ্গে সহজ আচরণ করবে। কখনো কঠিন আচরণ করবে না। মানুষের মনে সুসংবাদের মাধ্যমে উৎসাহ সৃষ্টি করবে। কখনো তাদের মনে অনীহা সৃষ্টি করবে না এবং একে অপরকে মেনে চলবে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৪ : মাগাযী, অধ্যায় ৬১, হাঃ ৪৩৪-৪৩৪৫; মুসলিম, পর্ব ৩২ : জিহাদ, অধ্যায় ৩, হাঃ ১৭৩৩
حديث أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: يَسِّرُوا وَلاَ تعَسِّرُوا، وَبَشِّرُوا وَلاَ تُنَفِّرُوا
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা সহজ পন্থা অবলম্বন কর, কঠিন পন্থা অবলম্বন করো না, মানুষকে সুসংবাদ দাও, বিরক্তি সৃষ্টি করো না।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৩: ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান), অধ্যায় ১১, হাঃ ৬৯; মুসলিম, পর্ব ৩২ : জিহাদ, অধ্যায় ৩, হাঃ ১৭৩৪
৩২/৪. অধ্যায়ঃ
حديث ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: إِنَّ الْغَادِرَ يُنْصَبُ لَهُ لِوَاءٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُقَالُ: هذِهِ غَدْرَةُ فُلاَنِ بْنِ فُلاَنٍ
প্রতিজ্ঞা ভঙ্গকারীর জন্য কিয়ামত দিবসে একটা পতাকা স্থাপন করা হবে। আর বলা হবে যে, এটা অমুকের পুত্র অমুকের বিশ্বাসঘাতকতার নিদর্শন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭৮: আদব-আচার, অধ্যায় ৯৯, হাঃ ৬১৭৮; মুসলিম, পর্ব ৩২: জিহাদ, অধ্যায় ৪, হাঃ ১৭৬৫
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، يُنْصَبُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُعْرَفُ بِهِ
প্রত্যেক ওয়া‘দা ভঙ্গকারীর জন্য ক্বিয়ামাতের দিন একটি পতাকা হবে এবং তা দিয়ে তার পরিচয় দেয়া হবে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৫৮ : জিযইয়াহ কর ও রক্তপণ, অধ্যায় ২২, হাঃ ৩১৮৬-৩১৮৭; মুসলিম, পর্ব ৩২ : জিহাদ, অধ্যায় ৪, হাঃ ১৭৩৬
৩২/৫. অধ্যায়ঃ
حديث جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الْحَرْبُ خُدْعَةٌ
তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, ‘যুদ্ধ হচ্ছে কৌশল।’
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৫৬ : জিহাদ ও যুদ্ধাভিযান, অধ্যায় ১৫৭, হাঃ ৩০৩০; মুসলিম, পর্ব ৩২: জিহাদ, অধ্যায় ৫, হাঃ ১৭৩৯
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: سَمَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْحَرْبَ خُدْعَةً
নবী (ﷺ) যুদ্ধকে কৌশল নামে অভিহিত করেছেন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৫৬ : জিহাদ ও যুদ্ধাভিযান, অধ্যায় ১৫৭, হাঃ ৩০২৯; মুসলিম, পর্ব ৩২: জিহাদ, অধ্যায় ৫, হাঃ ১৭৪০
৩২/৬. অধ্যায়ঃ
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لاَ تَمَنَّوْا لِقَاءَ الْعَدُوِّ، فَإِذَا لَقِيتُمُوهُمْ فَاصْبِرُوا
তোমরা শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার ব্যাপারে ইচ্ছে পোষণ করবে না। আর যখন তোমরা তাদের মুখোমুখি হবে তখন ধৈর্য অবলম্বন করবে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৫৬ : জিহাদ ও যুদ্ধাভিযান, অধ্যায় ১৫৬, হাঃ ৩০২৬; মুসলিম, পর্ব ৩২: জিহাদ, অধ্যায় ৬, হাঃ ১৭৪১
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى كَتَبَ إِلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ، حِينَ خَرَجَ إِلَى الْحرُورِيَّةِ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَعْضِ أَيَّامِهِ الَّتِي لَقِيَ فِيهَا الْعَدُوَّ انْتَظَرَ حَتَّى مَالَتِ الشَّمْسُ، ثُمَّ قَامَ فِي النَّاسِ فَقَالَ: أَيُّهَا النَّاسُ لاَتَمَنَّوْا لِقَاءَ الْعَدُوِّ، وَسَلُوا اللهَ الْعَافِيَةَ، فَإِذَا لَقِيتُمُوهُمْ فَاصْبِرُوا، وَاعْلَمُوا أَنَّ الْجَنَّةَ تَحْتَ ظِلاَلِ السُّيُوفِ ثُمَّ قَالَ: اللهُمَّ مُنْزِلَ الْكِتَابِ، وَمُجْرِيَ السَّحَابِ، وَهَازِمَ الأَحْزَابِ اهْزِمْهُمْ وَانْصُرْنَا عَلَيْهِمْ
তিনি হারুরিয়ার দিকে অভিযানে বের হওয়ার সময় ‘উমর ইবনু ‘উবায়দুল্লাহকে একখানি পত্র লিখেন। (তাতে লেখা ছিল যে) শত্রুর সঙ্গে কোন এক মুখোমুখি যুদ্ধে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সূর্য ঢলে যাওয়া অবধি অপেক্ষা করলেন। অতঃপর তিনি তাঁর সাহাবীদের সম্মুখে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিলেন, ‘হে লোক সকল! তোমরা শত্রুর সঙ্গে মুকাবিলা করার কামনা করবে না এবং আল্লাহ্ তা‘আলার নিকট নিরাপত্তার দোয়া করবে। অতঃপর যখন তোমরা শত্রুর সামনাসামনি হবে তখন তোমরা ধৈর্যধারণ করবে। জেনে রাখবে, জান্নাত তরবারির ছায়ায় অবস্থিত।’অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) দোয়া করলেন, কোরআন অবতীর্ণকারী, মেঘমালা চালনাকারী, সৈন্য দলকে পরাভূতকারী ‘হে আল্লাহ্! আপনি কাফিরদেরকে পরাস্ত করুন এবং আমাদেরকে তাদের উপর বিজয় দান করুন।’
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৫৬ : জিহাদ ও যুদ্ধাভিযান, অধ্যায় ১৫৬, হাঃ ৩০২৪-৩০২৫; মুসলিম, পর্ব ৩২ : জিহাদ, অধ্যায়, হাঃ ১৭৪২
৩২/৮. অধ্যায়ঃ
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ امْرَأَةً وُجِدَتْ، فِي بَعْضِ مَغَازِي النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، مَقْتُولَةً؛ فَأَنْكَرَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَتْلَ النِّسَاءِ وَالصِّبْيَانِ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর এক যুদ্ধে এক নারীকে নিহত অবস্থায় পাওয়া যায়। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) নারী ও শিশুদের হত্যায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৫৬ : জিহাদ ও যুদ্ধাভিযান, অধ্যায় ১৪৭, হাঃ ৩০১৪; মুসলিম, পর্ব ৩২ : জিহাদ, অধ্যায় ৮, হাঃ ১৭৪৪